ঐতিহ্যে আঘাত-334212 | সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭

ঐতিহ্যে আঘাত

করটিয়ার জমিদারবাড়ি দখলমুক্ত করুন

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি বাঙালির অবহেলা নতুন নয়। পুরাকীর্তি ধ্বংস করার ইতিহাসও আছে। ইতিহাসের অংশ এমন অনেক স্থান নষ্ট করে ফেলা হয়েছে। কালের কণ্ঠে গতকাল প্রকাশিত ‘জমিদারবাড়ি লুট’ শীর্ষক খবরেও ঐতিহ্যের ওপর আঘাতের কথা তুলে ধরা হয়েছে। টাঙ্গাইলের করটিয়ার জমিদারবাড়ির জায়গাটির সৌন্দর্য নষ্ট করা হয়েছে। জমিদারবাড়ির লিচুবাগান কেটে তৈরি করা হয়েছে দোকান। জমিদারবাড়ির বড় একটি অংশ বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ওয়াকফ সম্পত্তি এই জমিদারবাড়িটি পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণযোগ্য। ব্রিটিশ আমলে তৈরি বাড়িটিতে লোভের চোখ পড়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী রক্ষকই এখন বাড়িটির ভক্ষক। ওয়াকফ সম্পত্তির মোতোয়ালিই জমিদারবাড়ির জমি বিক্রির সঙ্গে জড়িত।

করটিয়ার জমিদারবাড়ির জমি দখলের শুরু স্বাধীনতার পর থেকেই। স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ১৯৭২-৭৩ সাল থেকেই জমিদারবাড়ির লিচুবাগানের দখল প্রক্রিয়া শুরু। দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় এখন সেখানে কোনো লিচুগাছ নেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০১৩ সালের ওয়াকফ (সম্পত্তি হস্তান্তর ও উন্নয়ন) বিশেষ বিধান ও ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি আইন অমান্য করে পতিত জমি দেখিয়ে জমিদারবাড়ির সীমানাপ্রাচীরের ভেতরের জমি লিজ দেওয়া হয়েছে। ঐতিহ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দেখে স্থানীয় জনগণ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে ঐতিহ্য রক্ষার আবেদন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ঐতিহাসিক স্থাপনা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়ে জমিদারবাড়ির দেয়ালে নোটিশ টাঙায়। সেই নোটিশসহ জমিদারবাড়ির দেয়াল রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলা হয়েছে।

টাঙ্গাইলের জমিদারবাড়ি ওয়াকফ সম্পত্তি। এই সম্পত্তিতে দোকান করার অনুমতি দেওয়ার আগে ওয়াকফ প্রশাসনের উচিত ছিল এলাকা পরিদর্শন করা। যে স্থাপনা ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণ করার কথা, তা ভেঙে ফেলা হচ্ছে। ওয়াকফ বোর্ড এ ব্যাপারে অনৈতিকভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে—এমন ধারণাও এখন অমূলক নয়।

চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটার পরও জেলা প্রশাসন শুধু ‘জমিদারবাড়ি রক্ষার জন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে চিঠি দেওয়া হয়েছে’ বললে কি সব দায়িত্ব পালন করেছে বলা যাবে? জেলা প্রশাসনও সঠিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। দেশের ঐতিহ্যে আঘাত হানা অপরাধ। মোতোয়ালিসহ করটিয়ার জমিদারবাড়ির জমি দখলের সঙ্গে যাঁরা জড়িত তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। সবার আগে জমিদারবাড়ি দখলমুক্ত করতে হবে। 

মন্তব্য