রিজার্ভের টাকা গায়েব-334210 | সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শনিবার । ১ অক্টোবর ২০১৬। ১৬ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৮ জিলহজ ১৪৩৭


রিজার্ভের টাকা গায়েব

রহস্যের জট খুলতে হবে

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রিজার্ভের টাকা গায়েব

আমাদের ব্যাংকিং খাতে কি ‘শনির আছর’ হয়েছে? কয়েক দিন আগে বিদেশিদের যোগসাজশে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়েছে। গ্রাহকদের হিসাব থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে জালিয়াতচক্র। ভুয়া ঋণ বা অবৈধ ঋণের বেশ কিছু ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এখন জানা গেল, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে ১০ কোটি ডলার বা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা হ্যাকাররা নিয়ে গেছে। জানা গেছে, এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ব্যাংক তাদের দায়দায়িত্ব অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তারা কোনো মতেই দায়দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারে না, প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পাসপোর্টও নাকি জব্দ করা হয়েছে, যাতে তাঁরা পালিয়ে যেতে না পারে। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের মাধ্যমে হ্যাকাররা হিসাবের গোপনীয় সাংকেতিক নম্বর পেয়ে থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ তৃতীয় একটি দেশের একটি প্রতিষ্ঠানের দিকেও সন্দেহের তীর ধাবিত হচ্ছে।

ব্যাংকিং খাতে সাইবার প্রযুক্তি চালু হওয়ার পর থেকে দুনিয়াব্যাপী প্রতিদিনই অনেক অঘটন ঘটছে। উন্নত দেশগুলো হ্যাকিং বা জালিয়াতি ঠেকানোর জন্য অনেক উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। কয়েক স্তরে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকে কি সে ধরনের উন্নত প্রযুক্তির নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে? যে হিসাবে শত শত কোটি টাকা লেনদেন হতে পারে, সেই হিসাবের গোপনীয় সাংকেতিক নম্বর এমন সব ব্যক্তির হাতে যাওয়াটাও ঠিক নয়, যাঁদের বিশ্বস্ততার ঘাটতি রয়েছে। তেমন কর্মকর্তাদের বিশ্বাসযোগ্যতার দিকটিও নিয়মিত নজরদারিতে থাকা প্রয়োজন ছিল।

বাংলাদেশে ব্যাংকিং কার্যক্রম এখন অনেক বেড়েছে। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। উত্তরোত্তর এই কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হবে। বৈধ ব্যাংকিং কার্যক্রম বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ কার্যক্রম বা জালিয়াতিও বাড়বে—এমনটাই স্বাভাবিক। তারা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করবে এবং লুটপাট চালাবে। তাই ব্যাংকিং কার্যক্রমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে আরো বেশি তত্পর হতে হবে।

আমরা মনে করি, এই রহস্যের জট খোলার জন্য সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে উন্নত দেশগুলোর গোয়েন্দাদের সহযোগিতা নিতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই দুর্বলতার কারণ অনুসন্ধান ও দুর্বলতা রোধে করণীয় নির্ধারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের পক্ষ থেকে সঠিক সব পদক্ষেপই নিতে হবে।

মন্তব্য