kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

ষড়যন্ত্র মোকাবিলার শপথ নিতে হবে

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন।

১৯৭১ সালের এই দিনেই রচিত হয়েছিল রাজনীতির ঐতিহাসিক মহাকাব্য। ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কার্যত স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। এ ঘোষণার পরিণতির কথাও তিনি আগেভাগেই চিন্তা করেছিলেন। তাই একই সঙ্গে বলে দিয়েছিলেন, আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। এমন জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার নজির পৃথিবীর ইতিহাসে খুব কমই আছে। আর ৭ মার্চের এমন ঘোষণা শুধু বঙ্গবন্ধুর পক্ষেই দেওয়া সম্ভব ছিল। কারণ দিনে দিনে তিনি নিজেকে চালকের আসনে নিয়ে এসেছিলেন, জাতিকে স্বাধীনতার জন্য তৈরি করেছিলেন। মাত্র ২২ মিনিটের এই একটি ভাষণ সমগ্র জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে যেভাবে উজ্জীবিত করেছিল, তার তুলনা আর কোনো কিছুর সঙ্গেই হতে পারে না। গ্যাটিসবার্গ অ্যাড্রেসের মতোই বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণটিও বিশ্বের বিখ্যাত ভাষণগুলোর অন্যতম হয়ে আছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মধ্যেই ছিল মুক্তিযুদ্ধের দিকনির্দেশনা। ছিল বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়-অবিচারের প্রকাশ, বাঙালিকে দমিয়ে রাখার সব ষড়যন্ত্রের মুখোশ উন্মোচন এবং সর্বশেষ তা থেকে বাঙালি জাতির মুক্তিলাভের উপায়। সব কিছুই তিনি তুলে ধরেছিলেন অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে। সত্তরের জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরও শুধু বাঙালি বলে ক্ষমতা দিতে অস্বীকার, নানা টালবাহানা এবং সামরিক শক্তি দিয়ে বাঙালিকে দমন করার অশুভ ইঙ্গিত—সবই তিনি তুলে ধরেছিলেন তাঁর সেই সংক্ষিপ্ত ভাষণে। আর সে কারণেই শুধু বাঙালিরা নয়, সেদিনের বিবেকবান বিশ্বও দাঁড়িয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার সপক্ষে ও সমর্থনে। তাই ৭ মার্চ এবং সেদিনের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ বাঙালি জাতির হূদয়ে প্রতিষ্ঠিত। স্বাধীনতার সঙ্গে এর সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য।

আমাদের দুর্ভাগ্য, স্বাধীনতার পর থেকেই স্বাধীনতাবিরোধীদের ষড়যন্ত্র চলে এসেছে এ দেশে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। গোলাম আযমসহ স্বাধীনতাবিরোধী যেসব ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল, তাদের আবার এই বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে নিশ্চিহ্ন করার বহু রকম অপচেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তারা সফল হয়নি। স্বাধীনতার চার দশক পরে হলেও স্বাধীনতাযুদ্ধে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, দেশে আজ তাদের বিচার হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন চরম সাজাও ভোগ করেছে। কিন্তু এখনো স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ষড়যন্ত্রের জাল বুনে চলেছে। জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের নামে নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তান এখনো প্রতিশোধ নেওয়ার পথ খুঁজছে। জঙ্গিবাদ-মৌলবাদকে নানাভাবে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তাই স্বাধীনতার সপক্ষের সব শক্তিকে আজ নতুন করে দেশপ্রেমের পরীক্ষা দেওয়ার সময় এসেছে। ৭ মার্চের ভাষণের মর্মকথা হূদয়ে ধারণ করে স্বাধীনতাবিরোধী সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলার শপথ নিতে হবে। বাঙালি জাতিসত্তার বিজয়ের লড়াইয়ে নতুন করে মুক্তির সংগ্রামে নামতে হবে।


মন্তব্য