kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঢাকার বাতাসে জীবন ক্ষয়

পরিবেশদূষণ রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাদেশে হাঁপানি, সিওপিডিসহ বিভিন্ন শ্বাসকষ্টজনিত রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ অ্যাজমা অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে দেশে এখন ৮৫ লাখেরও বেশি মানুষ হাঁপানিতে আক্রান্ত।

তবে বিশেষজ্ঞরা তার চেয়েও বেশি উদ্বিগ্ন সিওপিডি নিয়ে। কারণ সিওপিডি দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং একবার হয়ে গেলে তা পুরোপুরি সারে না। বিশ্বে মানুষের মৃত্যুর অন্যতম কারণ ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ—সিওপিডি। ১৯৯০ সালে এর অবস্থান ছিল ষষ্ঠ। তবে পরিস্থিতির এত দ্রুত অবনতি হচ্ছে যে ২০২০ সালে এর অবস্থান দাঁড়াতে পারে তৃতীয়তে। আমাদের জন্য আরো দুঃসংবাদ হচ্ছে, ঘাতক এই ব্যাধির অনুকূল পরিবেশ হচ্ছে দেড় কোটিরও অধিক মানুষের নগরী ঢাকা।

গতকাল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদনে রাজধানীর বায়ুদূষণের যে চিত্র এসেছে, তা উদ্বেগজনক। আর এই অবনতির অন্যতম কারণ পরিবেশ অধিদপ্তর, নগর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরদারিহীনতা। পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্ব যেন গণবিজ্ঞপ্তি জারিতেই শেষ! দূষণ নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ খুব কমই দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীও কি অসচেতন নয়? বাধ্য না করা পর্যন্ত কেউ আইন মানতে চায় না। আমরা নিজেরা অসুস্থ হচ্ছি, আমাদের সন্তানরাও শ্বাসকষ্ট ও হাঁপানির মতো অসুখে পড়ছে। এর পরও আমরা সচেতন হব না?

সিটি করপোরেশনও নিজের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে না বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। দূষণের কথা স্বীকার করে ঢাকা উত্তরের মেয়র বলেছেন, উন্নয়নমূলক কাজ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি ও ট্রাক চলাচলের কারণে ধুলা বেড়ে গেছে। কমানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। আশা করব, নগর কর্তৃপক্ষ অর্পিত দায়িত্বগুলোর ব্যাপারে সত্যিকার অর্থেই তাদের ভূমিকা পালন করবে। তাদের লোকবলের সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দূর করতে হবে। দেড় কোটির বেশি মানুষের জন্য ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মাত্র আট হাজার, পানি ছিটানোর ট্রাক পাঁচটি। এ দিয়ে কোনো মেগাসিটির বাতাস বিশুদ্ধ রাখা কি সম্ভব?

সময় এসেছে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারেরও। উন্নত দেশগুলোতে রাস্তা ঝাড়ু দেওয়া হয় যন্ত্র দিয়ে। যন্ত্র ধুলাবালি ভেতরে টেনে নেয়। আমাদের দেশে ঝাড়ুর ফলে অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা বাতাসে উড়ে যায়। কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে চীনের পেইচিং শহরের উদাহরণ টেনে বলা হয়েছে, সেখানে মানুষ আজ উন্নয়নযজ্ঞের মাসুল গুনছে। কয়লা পুড়িয়ে বাতাস দূষিত করে তারা এখন বিদেশ থেকে বোতলজাত বাতাস আমদানি করছে। পরিস্থিতি সেই স্তরে অবনতি হওয়ার আগেই আমাদের সাবধান হতে হবে। ব্যক্তি থেকে প্রতিষ্ঠান—সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলে, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তি নিশ্চিত হলে ঢাকার বাতাসও হবে বিশুদ্ধ, নির্মল। আর তা না হলে বড় বিপদ যে অবশ্যম্ভাবী, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


মন্তব্য