kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

প্রার্থী মনোনয়নে সতর্ক হোন

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন

দেশে এখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জোর হাওয়া বইছে। প্রথম দফা নির্বাচনের প্রার্থীরা তাঁদের প্রচারকাজ শুরু করে দিয়েছেন।

এবারই প্রথম দলীয়ভাবে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ স্থানীয় সরকারের এই প্রাথমিক কাঠামোতেও এবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে বা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে। যখন যে রাজনৈতিক দলের প্রভাব বা গ্রহণযোগ্যতা বেশি থাকবে, সেই দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীরাই বেশি নির্বাচিত হবেন। কিন্তু কারা পাচ্ছেন সেই মনোনয়ন? কারা হতে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের পরবর্তী জনপ্রতিনিধি? কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রধান শিরোনামের খবরটি আমাদের রীতিমতো আতঙ্কিত করছে। দেশে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির জনসমর্থনই বেশি। তাই এই দুটি দলের মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। অথচ দুুটি দল থেকেই আসন্ন নির্বাচনে এমন অনেক প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যাঁদের পরিচয় জানলে শুভবুদ্ধিসম্পন্ন যেকোনো মানুষ বিবেকের দংশন অনুভব করবেন। অন্যান্য দল থেকেও দেওয়া হয়েছে একই ধরনের মনোনয়ন। আবার অনেকে বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচন করছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে রয়েছে বহু গুরুতর অপরাধের অভিযোগ। ভোলায় জলদস্যু সম্রাট হিসেবে খ্যাত দুই ভাই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। এক ভাই মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপি থেকে, আরেক ভাই পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন, না পেয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এঁদের বিরুদ্ধে জলদস্যুতার কয়েক ডজন মামলা রয়েছে। বেশ কিছু মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে। ঝালকাঠিতে মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও একজন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন। একই জেলায় একাধিক হত্যা মামলার আসামি পেয়েছেন বিএনপির মনোনয়ন। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় দুজন প্রার্থী আছেন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এবং তিনজন প্রার্থী আছেন ডাবল যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত। ২০১৪ সালের ২২ জুন ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় রাজনৈতিক বিরোধে সরকারি মহিলা কলেজের এক শিক্ষককে নির্যাতন ও দিগম্বর করা হয়েছিল। বিষয়টি তখন দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় তুলেছিল। সেই মামলার প্রধান আসামি আসন্ন নির্বাচনে একটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন। সারা দেশেই এ রকম প্রার্থীর ছড়াছড়ি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচন গণতন্ত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণ যদি গণতান্ত্রিক না হয়, সুস্থ কিংবা স্বাভাবিক না হয়, তাহলে সেই গণতন্ত্র ক্রমেই অর্থহীন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক দলগুলোর ছত্রচ্ছায়ায় অপরাধীরা যেভাবে বেড়ে উঠছে, তাকে কোনোভাবেই সুস্থ গণতান্ত্রিকচর্চা বলা যায় না। আর তারই জের ধরে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনেও যেভাবে তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটছে, তা আমাদের এক অশুভ ভবিষ্যতের সংকেত দেয়। দস্যু, খুনি, মাদক ব্যবসায়ীরা রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে সেই এলাকায় কোন ধরনের ‘সুস্থতা’ বিরাজ করবে, তা সহজেই অনুমেয়। আমরা আশা করি, জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলো আরো সতর্ক হবে, সুবিবেচনার পরিচয় দেবে ও ভুলবশত কোনো মনোনয়ন দেওয়া হয়ে থাকলে অবিলম্বে তা প্রত্যাহার করা হবে।


মন্তব্য