kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাজিদের অর্থ লোপাট

দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



চোরের যেমন কোনো ধর্মজ্ঞান থাকে না, তেমনি যারা দুর্নীতি করে তাদেরও ভালোমন্দের জ্ঞান বা কোনো বাছ-বিচার থাকে না। তা না হলে প্রতিবছর পবিত্র হজ পালন নিয়ে এত রকম দুর্নীতির ঘটনা ঘটে কেন? বহু মানুষ জীবনে একবার হজ পালনের নিয়ত করেন।

শত অভাব-অনটনের মধ্যেও তাঁরা তিল তিল করে অর্থ সঞ্চয় করেন সেই নিয়ত পূরণের জন্য। সেসব মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাঁদের টাকা-পয়সা কেড়ে নেয় যারা তাদের ভেতর ধর্ম তো দূরের কথা, মনুষ্যত্ব বলে কোনো কিছুর অবশিষ্ট থাকে কি? কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, প্রতিবছরই এ রকম ঘটনা ঘটছে। কয়েক হাজার হজে গমনেচ্ছু সরলপ্রাণ মানুষ এভাবে প্রতারিত হয়ে চোখের জল ফেলছেন। আর সেই প্রতারণায় হজ এজেন্সির মালিক থেকে শুরু করে কিছু আমলা পর্যন্ত জড়িয়ে পড়েছেন। গত বছর সৌদি কোটা প্রথার কারণে টাকা-পয়সা জমা দিয়েও ৩০ হাজার হজপ্রার্থী বাদ পড়ে যান। পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ অনুরোধে সৌদি সরকার আরো পাঁচ হাজার হজযাত্রীকে যাওয়ার অনুমতি দেয়। কথা ছিল এই ৩০ হাজারের মধ্য থেকেই পাঁচ হাজার জনকে নির্বাচন করা হবে। সৌদি সরকারও অনুমতি দিয়েছিল সরকারি তালিকা থেকে হজযাত্রী পাঠানোর জন্য। কিন্তু সব নির্দেশনা উপেক্ষা করে কিছু আমলা ও হজ এজেন্সি মিলে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্য থেকে হজপ্রার্থীদের না পাঠিয়ে, এমনকি অনলাইনেও নিবন্ধন করেনি এমন লোকজনকে হজে পাঠিয়ে বড় ধরনের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, এই পাঁচ হাজার হজযাত্রী পাঠাতে গিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারের ১৭ কোটি এবং হজযাত্রীদের ২৮ কোটি, মোট ৪৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হচ্ছে, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এখন মন্ত্রণালয়ে থাকা নথিপত্রও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সম্ভবত গায়েব করা হয়েছে। শাবাশ ধর্ম মন্ত্রণালয়! ধর্মীয় চর্চার উপযুক্ত দৃষ্টান্ত নয় কি?

বাংলাদেশ একটি মুসলমানপ্রধান দেশ। প্রত্যেক মুসলমান পবিত্র হজব্রত পালনকে অতি উচ্চমূল্য দেন। তাই প্রতিবছর হজ পালন নিয়ে যেসব ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটছে, তা সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। হজ এজেন্সির নামে এমন অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, হাজিদের সঙ্গে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত সুযোগ-সুবিধা না দেওয়াসহ বহু ধরনের অভিযোগ রয়েছে। নিকট-অতীতে কিছু কিছু হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে তার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এ ধরনের হজ এজেন্সির বিরুদ্ধে শুধু লাইসেন্স বাতিল নয়, কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি আমরা চাই, অর্থ আত্মসাৎসহ গত বছরের হজকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া প্রতিটি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হোক।


মন্তব্য