ট্রাকচাপায় পুলিশ হত্যা-332237 | সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


ট্রাকচাপায় পুলিশ হত্যা

ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ট্রাকচাপায় পুলিশ হত্যা

দেশে মাদকের বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না যানবাহন চালকদের। গাড়ি চালানোর নয়, যেন হত্যার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে তাঁদের। যেখানে পুলিশ সদস্যদের চাপা দিয়ে পিষে মেরে ফেলার মতো ঘটনা ঘটাতে পারছে তাঁরা, সেখানে সাধারণ মানুষ তো তাঁদের কাছে নিতান্তই অসহায়। মাদকাসক্তরা নিজেদের ধ্বংস করে দিচ্ছে। মাদকের বিষাক্ত থাবায় পথে বসছে অনেক পরিবার। মাদক ব্যবহারকারীরা জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধকর্মে। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক স্থিতি। মাদক চোরাচালান রোধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স দেখানোর নির্দেশ দেওয়ার পরও থেমে নেই মাদকের চোরাচালান। এমন একটি চোরাচালান ধরতে গিয়েই ট্রাকচাপায় নিহত হলেন পুলিশের উপপরিদর্শক সাদেকুল ইসলাম ও শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট আতাউল ইসলাম। ট্রাকচালক যে ইচ্ছা করেই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে চাপা দিয়েছেন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাভাবিকভাবেই বলা যেতে পারে, এটা হত্যাকাণ্ড। মাদকবাহী ট্রাকের চালক সিরাজুল ইসলাম দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যা করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা ও মাদক চোরাচালানে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

মাদক চোরাচালানি ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিকবার অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের একটি তালিকাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আছে বলে শোনা যায়। অতীতে অভিযান পরিচালনা করে অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। কিন্তু আটকদের বেশির ভাগই জামিনে বেরিয়ে যাওয়ায় মামলা মাঝপথে থেমে গেছে। কারাগারে মাদক মামলায় আটকদের সিংহভাগই মাদকের বাহক মাত্র। মূল ব্যবসায়ীরা থেকে যায় আড়ালে। আমাদের দেশে কারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তার তালিকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে নেই—এ কথা বলা যাবে না। মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে সংবাদপত্রে বিস্তর লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু মাদক প্রতিরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কখনো কখনো মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যদের আটক করা হলেও দুর্বল তদন্ত রিপোর্ট, নানামাত্রিক প্রভাব ও সাক্ষ্যপ্রমাণের অভাবে অনেক মামলার ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হয়েছে ও হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশকে বেছে নেয় ট্রানজিট রুট হিসেবে। সীমান্ত পথে মাদক এসে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলে যায়। মালবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী আন্তজেলা বাসেও মাদকের চালান এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাচার হয়। যেমনটি হচ্ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

মাদক সিন্ডিকেটের বিচার যেমন নিশ্চিত করা যায়নি, তেমনি ঘাতক চালকদের বিরুদ্ধেও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো নজির নেই। রাজধানীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও পথচারী চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় বাসচালক আটক হলেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। দৃষ্টান্ত স্থাপন হলে হয়তো সিরাজুল ইসলামের মতো চালকরা পুলিশ সদস্য হত্যায় সাহসী হতেন না। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা ও বিলম্ব যে অপরাধীদের একই ধরনের অপরাধ করতে উৎসাহিত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনা তারই প্রমাণ। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে। মাদকের বিস্তার রোধ করা যাবে না। সিরাজুল ইসলামের মতো ঘাতক চালকরা নির্বিচারে মানুষ হত্যা করবে। আমরা চাই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। দেশে মাদকের বিস্তার রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ঘাতক চালকদের বিচার ত্বরান্বিত করা হোক।

মন্তব্য