kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাড়ছে অপরাধপ্রবণতা

নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কৌশল বের করুন

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশে খুনখারাবি ও অপরাধ যেন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। একের পর এক রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের খবরে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন।

অভিভাবকরা আতঙ্কিত। ঢাকার রামপুরায় ভাই-বোনের রহস্যজনক মৃত্যুর রেশ না কাটতেই নরসিংদীতে দুই বন্ধু ও মুন্সীগঞ্জে শিশুর গলাকাটা লাশ প্রাপ্তির খবর এসেছে। কুমিল্লায় দুই বোন অপহরণের পর উদ্ধার হওয়ার খবরটি কিছুটা স্বস্তিদায়ক হলেও সার্বিক পরিস্থিতি আতঙ্কজনক। যে ব্যাংকিং ব্যবস্থা মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ায় সেখানেও অপরাধ ঠেকানো যাচ্ছে না। সর্বশেষ গতকাল গাজীপুরে এক ব্যাংকের এটিএম বুথের জন্য আনা কোটি টাকাবোঝাই ট্রাংক ডাকাতরা লুটে নিয়ে গেছে। এভাবে অপরাধপ্রবণতা বিশেষ শ্রেণির গণ্ডি পেরিয়ে ব্যাপক জনসমাজে ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা দ্রুত রুখতে না পারলে আমাদের অস্তিত্বই হুমকিতে পড়বে।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মানবিক অনুভূতি, নৈতিক মূল্যবোধ দিন দিন লোপ পাচ্ছে। সামাজিক অস্থিরতা, পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হওয়া ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে মানুষ হিংস্র পশুর মতো আচরণ করছে। মানুষ যত ভোগবাদী হচ্ছে ততই সে স্বার্থপর, অবিবেচক, নিপীড়ক ও নিষ্ঠুর হয়ে উঠছে। রাষ্ট্রের সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকেই বুড়ো আঙুল দেখানোর স্পর্ধা তারা দেখাচ্ছে। ঊর্ধ্বমুখী অপরাধপ্রবণতার লাগাম টেনে না ধরা গেলে পরিণাম ভয়াবহ হবে বলেও বিশেষজ্ঞরা হুঁশিয়ার করে দিচ্ছেন।

সমাজকে সুস্থ রাখার কাজে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সবারই পৃথক পৃথক ভূমিকা থাকে। পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি হচ্ছে তাতে বলাই যায়, এই ভূমিকা পালনে বড় রকমের খামতি রয়েছে। আইনের শাসন ও অপরাধীর উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা বলবৎ না থাকলে অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণে থাকেও না। কোনো হত্যাকাণ্ড চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে বিচারপ্রক্রিয়াটি হয়তো জোর পায়। কিন্তু কয়টা খুনের বিচার হয়? মামলা যদি হয়ও, মাস বছরে গড়ায়, খুনির শাস্তি হয় না। অপরাধী শনাক্ত ও অভিযোগপত্র তৈরির কাজেও পুলিশ সততা বা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারে না।

সামাজিক অপরাধপ্রবণতা রুখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তত্পরতার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক প্রতিরোধও দরকার। দরকার পারিবারিক, সামাজিক ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা। বিশেষ করে তরুণদের সুস্থ মানস গঠনে তাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে মানবিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে সরকারকে বিশেষভাবে মনোযোগী হতে হবে।

মামলা দায়ের থেকে বিচারপ্রক্রিয়া—সর্বস্তরে নিশ্চিত করতে হবে স্বচ্ছতা ও পেশাদারি। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে বড় বাধা হয়ে আছে মামলাজট। আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োগ এখানে উত্কৃষ্ট সমাধান হতে পারে। আবার অপরাধীদের সংশোধন বা শাস্তিও একমাত্র সমাধান নয়। ব্যক্তি মানুষের অপরাধী হয়ে ওঠা ঠেকাতে পরিবার ও সমাজকে মানবিকতা ও সততার চর্চা বাড়াতে হবে।


মন্তব্য