kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশ

ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এশিয়া কাপ ফাইনালে বাংলাদেশ

টান টান উত্তেজনা। বলে বলে ম্যাচের রংবদল।

প্রতি ওভারে ওঠানামার ভেতর দিয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল ২ মার্চের রাত। পতাকা অস্বীকারের দিনে অন্যতম ক্রিকেট পরাশক্তি পাকিস্তানকে পাঁচ উইকেটের ব্যবধানে পরাজিত করে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠ ও টেলিভিশন পর্দার সামনে বসে দর্শক আবেগ ও উত্তেজনায় দুলেছে। ম্যাচ শেষে ভেসে গেছে আনন্দের জোয়ারে। ২০১২ সালের স্মৃতি বারবার এসেছে সামনে। অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেটে নিজেদের বিজয় নিশ্চিত করে দেশের মানুষকে ভরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। মাঠে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী লুকাতে পারেননি তাঁর আনন্দাশ্রু। দলগত নৈপুণ্যের খেলা ক্রিকেটকে বাঙালি এখন জাতিগতভাবে দেখছে আবেগ দিয়ে। সেই আবেগের প্রকাশ খেলোয়াড়দের ভেতর দিয়ে ছুঁয়ে গেছে ১৬ কোটি বাঙালিকে।

পাকিস্তানের সঙ্গে এশিয়া কাপের ম্যাচটি ছিল অলিখিত সেমিফাইনালের মতো। এই ম্যাচে জয়ের বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। হেরে গেলে অনেক সমীকরণের মুখে পড়তে হতো। ম্যাচের আগে নিশ্চিত হয়ে যায় তারকা বোলার মুস্তাফিজুর রহমানের অনুপস্থিতি। পুরো ম্যাচে তাঁর অভাব বোধ করা গেছে। তার পরও বোলাররা আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। শুরু থেকে মাপা বোলিং পাকিস্তান দলকে শুধু বিব্রতই রাখেনি, নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়েছে। বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তিটা তৈরি করে দিয়েছিলেন বোলাররাই। বোলিং পরিবর্তন থেকে শুরু করে ফিল্ডিং একেবারেই নিখুঁত। ম্যাচের আগে থেকেই প্রত্যাশার যে পারদ চড়েছিল, তা আর নিম্নমুখী হয়নি। যোগ্য দল হিসেবেই যে বাংলাদেশ এশিয়া কাপের ফাইনালে গেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ম্যাচ শেষে পাকিস্তান দলের অধিনায়কও সে কথা স্বীকার করেছেন। মাঠের ক্রিকেট-রোমাঞ্চ উপভোগ করেছে সবাই।  

বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটি নিয়ে দর্শক-সমর্থকদেরও মধ্যে কিছুটা হলেও দুশ্চিন্তা ছিল। কারণ এই পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ড। ২০১২ সালের ২২ মার্চ এশিয়া কাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল বাংলাদেশের। বুধবার রাতের ম্যাচে জয়সূচক রান এসেছে মাহমুদ উল্লাহর ব্যাট থেকে। ২০১২ সালের ফাইনালেও ক্রিজে ছিলেন এই মাহমুদ উল্লাহ। এশিয়া কাপে ২০১৪ সালে এই পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ফসকে গিয়েছিল হাতের মুঠো থেকে। স্বাভাবিকভাবেই এবারের ম্যাচটি ঘিরে ছিল স্নায়ুর লড়াই। বাংলাদেশ শুধু নয়, পাকিস্তানকেও এই লড়াই করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছে বাংলাদেশ।

ক্রিকেট নিয়ে আমাদের প্রত্যাশার পারদ ঊর্ধ্বমুখী। ৫৬ হাজার বর্গমাইলের ১৬ কোটি মানুষ যেন ক্রিকেটসূত্রে বাঁধা। এই বন্ধন আরো শক্তিশালী করতে পারে ক্রিকেট। যেকোনো খেলাই দলগত নৈপুণ্যে ভাস্বর হয়ে ওঠে। ক্রিকেটও তার বাইরে নয়। খেলোয়াড়দের সবাইকে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখতে হয়। এশিয়া কাপের প্রতিটি খেলায় ব্যক্তিগত ও দলীয় নৈপুণ্যে সেরা খেলা উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা আশা করব, ফাইনালেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ দলের জন্য আমাদের শুভকামনা।


মন্তব্য