kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

কম সুদে ব্যাংক ঋণ

বিনিয়োগের বড় বাধাটি দূর করুন

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দেশে যেসব কারণে বিনিয়োগ বাড়ছে না তার অন্যতম হচ্ছে ব্যাংক ঋণের সুদের উচ্চ হার, ব্যাংকের বিভিন্ন সেবায় জটিলতা ও আস্থাহীনতা। ১৮৯টি দেশের মধ্যে ঋণপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান ১৩৩তম।

আর ব্যবসার খরচ বিবেচনায় অবস্থান ১৭৪। বিভিন্ন বাধা দূর করে বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের কিছু তত্পরতা থাকলেও তেমন কাজে দিচ্ছিল না। আশার খবর হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা যাতে কম সুদে ঋণ নিতে পারেন সে লক্ষ্যে সুদের হার কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল কালের কণ্ঠ’র প্রধান সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যবসায়ের খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দেশে অনেক দিন ধরেই বিনিয়োগের হার প্রায় স্থির। ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর হাতে আছে সোয়া লাখ কোটি টাকার বাড়তি অর্থ। তবে ঋণ গ্রহণে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ কম। তাঁরা সুদের হার কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন। বলছেন, ১৫ শতাংশেরও বেশি সুদ হার নিয়ে লাভজনকভাবে ব্যবসা সম্ভব নয়। তাই ব্যাংক ঋণের সুদ হার হ্রাসের উদ্যোগ অবশ্যই সময়োচিত হয়েছে। এ ছাড়া ভালো গ্রাহকদের বিশেষ রেয়াতে ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাংকগুলোকে তালিকা করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উদ্যোগটি ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে কালের কণ্ঠ জানায়। এবার যেন চেষ্টাটি মাঠে না মারা যায়।

অর্থ অলস ফেলে রাখা বা বিদেশে পাচার করার প্রবণতা আমাদের অনেকেরই আছে। অর্থের অভাবে ব্যবসা করতে পারছেন না, এমন উদ্যোক্তার সংখ্যাও কম নয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শিল্পে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ সহজে মিলে না। বন্দরে রয়েছে শত বিপত্তি। কাস্টমসের প্রক্রিয়া সহজ হওয়ার বদলে দিন দিন জটিলতা বাড়ছে। গ্যাস-সংযোগের দুই হাজারের বেশি আবেদন তিতাসে পড়ে আছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব সংযোগ দেওয়া প্রয়োজন। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই অনেক উদ্যোক্তা কারখানা করেছেন। সংযোগ না পেলে তাঁরা উত্পাদনে যাবেন কী করে? অর্থনীতি যেকোনো দেশের প্রাণ, আর অর্থনীতির প্রাণ হচ্ছে বিনিয়োগ। সুদের হারসহ বিনিয়োগের যত ধরনের বাধা রয়েছে, সব দ্রুত সরাতে হবে। বেকারত্ব হ্রাস ও মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার স্বার্থে বিনিয়োগের পালে জোর হাওয়া লাগাতে হবে।


মন্তব্য