kalerkantho


শিশু হত্যা থেমে নেই

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিশু হত্যা থেমে নেই

সমাজ কি দিনের পর দিন অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে? একের পর এক শিশু হত্যার ঘটনা আজ আমাদের এই প্রশ্নের মুখোমুখি করেছে। রাজন-রাকিব হত্যার দ্রুত বিচার হয়েছিল।

কিন্তু সে বিচারের রায় কার্যকর হয়নি। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরও থেমে নেই শিশু হত্যার ঘটনা। ঢাকায় রহস্যজনকভাবে দুই ভাইবোনের মৃত্যুর এক দিন পরই কুমিল্লায় উদ্ধার করা হয়েছে এক শিশুর লাশ। ঢাকার ধানমণ্ডি লেক থেকে এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব কিসের আলামত? কোন দিকে যাচ্ছে সমাজ ও রাষ্ট্র? এই দেশ কি আজ আর শিশুবান্ধব নয়?

কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, দেশে শিশু হত্যার ঘটনা বেড়েই চলেছে। ২০১২ সালে ২০৯ জন শিশু হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ২১৮ জনে। ২০১৪ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ৩৬৬ শিশু। ২০১৫ সালে তা কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছিল ২৯২ জনে।

চলতি বছরের ১০ মার্চ পর্যন্ত হত্যার শিকার হয়েছে ৪৯ জন। কেন ঘটছে শিশু হত্যার এমন ভয়াবহ সব ঘটনা? চরম এক অসহিষ্ণুতার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা। মানুষের সব ক্রোধ যেন গিয়ে পড়ছে অসহায় শিশুদের ওপর। তাদের টার্গেট করা হচ্ছে। পারিবারিক বিরোধের বড় শিকার হচ্ছে অসহায় শিশুরা। তাদের ঠেলে দেওয়া হচ্ছে চরম নিরাপত্তাহীনতার দিকে। রামপুরায় দুই ভাইবোনের মৃত্যুর ঘটনা বলে দিচ্ছে, গৃহকোণও এখন আর শিশুর জন্য নিরাপদ নয়। আজকের দিনে সমাজ জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। যৌথ পরিবার ভেঙে গেছে। মূল্যবোধের অবক্ষয় চরমে। কর্মজীবী মায়ের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু শিশু কেন থাকবে নিরাপত্তাহীনতায়? শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার দায়িত্ব এই সমাজ ও রাষ্ট্রের। সেই দায়িত্ব কি যথাযথভাবে পালিত হচ্ছে?  

এ দেশে শিশুশ্রম ও শিশু নির্যাতন বন্ধ করা যায়নি। শিশুর প্রতি সহিংসতা দিন দিন বাড়ছে। জীবন দিতে হচ্ছে শিশুদের। কেন এমন হবে? শিশু তার নিজের জগৎ নিয়ে থাকে। বড়দের স্বার্থের বলি কেন হতে হবে তাকে? সমাজ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। সমাজ কেন শিশুর প্রতি বৈরী হচ্ছে, তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রয়োজনে আইনের পরিবর্তন করা যায় কি না, সে বিষয়টিও ভেবে দেখা দরকার। রাজন-রাকিব হত্যার দ্রুত বিচার হলেও দণ্ড কার্যকর হয়নি। শুধু দ্রুত বিচার নয়, দণ্ড কার্যকর না হলে দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে না। শিশু নির্যাতন ও শিশু হত্যার বিচারে আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যায় কি না সে বিষয়টি আইনবেত্তারা ভেবে দেখতে পারেন। আমরা আশা করব সব শিশু হত্যার বিচার হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো ন্যায়বিচার পাবে।


মন্তব্য