নজিরবিহীন ঘটনা-331101 | সম্পাদকীয় | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭

নজিরবিহীন ঘটনা

সাত খুন মামলায় এ কিসের আলামত?

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নজিরবিহীন ঘটনা

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনাটি যেদিন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেল, সেদিন সারা দেশের প্রত্যেক বিবেকবান মানুষ রীতিমতো স্তম্ভিত হয়েছিল। এ-ও কি সম্ভব! এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিল ছোট-বড় প্রায় সবাই। তুচ্ছ কারণে সাতজনকে মেরে পেট কেটে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। তাও আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই হত্যার অভিযোগ! অবাক হওয়ার পালা কিন্তু সেখানেই শেষ নয়। গণমাধ্যমের কল্যাণে সারা দেশের মানুষ আবার জানল, সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন পালিয়ে ভারতে চলে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কোনো বাহিনীই তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যদিও পরে তাঁকে ভারত থেকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। সাংবাদিকদের কল্যাণেই জানা গেছে, নূর হোসেনের বিশাল সাম্রাজ্য ও রংমহলের কথা, যেখানে যাওয়া-আসা করতেন অনেক হোমরাচোমরা ব্যক্তি। আর সেই একই ধারায় সর্বশেষ অবাক হওয়ার মতো ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার। জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বাদীর সাক্ষ্যগ্রহণের সময় বিচারকের আদেশের কথা বলে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির (পিপি) দেওয়া নির্দেশে আদালত কক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বের করে দেওয়া হয়। আদালত কক্ষে পিপির এই নির্দেশের প্রতি সমর্থন জানান প্রধান আসামি নূর হোসেনের আইনজীবী। মিল বটে! এ ঘটনায় শুধু সাধারণ মানুষ নয়, দেশের আইনমন্ত্রী নিজেও অবাক হয়েছেন। তাঁর মতে, এটি একটি প্রকাশ্য মামলা, এখান থেকে সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলার কোনো কারণই নেই। গোপন বা ক্যামেরা ট্রায়ালের ক্ষেত্রে বা বিশেষ পরিস্থিতিতে বিচারক চাইলে এমন আদেশ দিতে পারেন। কিন্তু পিপির তো এমন আদেশ দেওয়ার কোনো ক্ষমতাই নেই। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল খালেক বলেছেন, বিচারকের এমন কোনো আদেশের কথা তাঁর জানা নেই। তিনি এ কথাও বলেছেন, ‘বিচারক এমন কোনো আদেশ দিয়ে থাকলে তা অবশ্যই আমার জানা থাকত।’ তাহলে পিপি সাংবাদিকদের বের করে দেওয়ার কথা বললেন কিভাবে? এবং কেন বললেন? প্রশ্ন দুটির উত্তর জানা খুবই জরুরি।

চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড হিসেবে এই সাত খুন মামলার বিষয়ে জানার অধিকার সারা দেশের মানুষের অবশ্যই রয়েছে। আর তারা তা জানার চেষ্টা করে সাংবাদিকদের মাধ্যমেই। সাত খুন ঘটনার শুরু থেকেই যেমনটা তারা জেনে এসেছে। সেই সাংবাদিকদের প্রতি রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলির বা পিপির এমন মর্মপীড়ার কারণ কী? পিপি কি সারা দেশের আগ্রহী মানুষকে এ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দিতে চান না? তিনি এখানে কার স্বার্থ রক্ষা করতে চান? রাষ্ট্র কি সে জন্যই তাঁকে নিয়োগ দিয়েছে? এই একটি ঘটনায় অনেক প্রশ্নই সামনে চলে আসছে। আমরা চাই, আইন মন্ত্রণালয় পুরো ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো তা দেশবাসীকে জানাক। একই সঙ্গে আমরা আশা করব, উচ্চ আদালত থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য