kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নষ্ট হচ্ছে দুই হাজার গাড়ি

আমদানিকারকদের বাঁচানোর উদ্যোগ নিন

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রায় দুই হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি বছরের পর বছর পড়ে আছে মংলা বন্দরে। এর মধ্যে সাত বছর ধরে পড়ে থাকা গাড়ির সংখ্যাও কম নয়।

বর্তমানে এগুলোর কতটুকু ব্যবহার উপযোগিতা রয়েছে তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। আমদানিকারকরা বলছেন, শুল্কায়নসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাঁরা সেগুলো ছাড় করাতে পারছেন না। ফলে ব্যাংকঋণের সুদ গুনতে গুনতে তাঁরা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ছেন। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও প্রায় ২৫০ কোটি টাকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এমন জটিলতা এটাই প্রথম নয়। অতীতেও শত শত গাড়ি, কনটেইনার খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে এসেছে। এতে বিপুল অর্থ ও সম্পদের অপচয়ই কেবল বাড়ে। শুধু ব্যবসায়ীরা নয়, দেশের অর্থনীতিও তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব ক্ষেত্রে এমন জটিলতা যেন আর তৈরি না হয় সেদিকেও সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

গাড়ি হোক কিংবা অন্য কোনো যন্ত্রপাতি হোক, এগুলোর একটি নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল থাকে। ছয় বছর পর্যন্ত পুরনো মডেলের গাড়ি রিকন্ডিশন্ড হিসেবে আমদানি করা যায়। আমদানির পর সেই গাড়ি যদি সাত বছর বন্দরে পড়ে থাকে, তাহলে ১৩ বছর পেরিয়ে যায়। ১৩ বছর আগে তৈরি এই গাড়ি আর কত দিনই বা রাস্তায় থাকতে পারবে! দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকায় ইঞ্জিনে জং ধরে এর মধ্যেই কত গাড়ি সম্পূর্ণরূপে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে তা-ই বা কে জানে! ক্রেতারাও কি আগ্রহী হবেন এসব গাড়ি কেনার ব্যাপারে? আবার এসব গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নিয়েও জটিলতা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দুই হাজার গাড়ির আমদানিকারকরা এখানে যে বিপুল অর্থ লগ্নি করেছেন, সেই অর্থ কি আবর্জনার ভাগাড়ে চলে যাবে? আইন বা নিয়মনীতি মেনেই ব্যবসা করতে হবে—এটাই সত্য। তা সত্ত্বেও কখনো নিয়মনীতির ব্যত্যয় যে ঘটে না তা নয়। বিশেষ ব্যক্তি বা মহলের স্বার্থে অতীতে এ রকম বহু ব্যত্যয়ের খবর পত্রপত্রিকায় এসেছে। আবার এসেছে বিশেষ মহলের স্বার্থসিদ্ধি না হলে আইন অনড় হয়ে যাওয়ার কিংবা সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তিতে পড়ার নানা ঘটনাও। যেভাবেই হোক, আমরা চাই না বহুসংখ্যক ব্যবসায়ীর লগ্নি করা হাজার কোটি টাকা আবর্জনার ভাগাড়ে চলে যাক। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও অর্থমন্ত্রী উভয়েই বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং একটি যুক্তিগ্রাহ্য সুরাহার ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন। আমরাও চাই, সেই উদ্যোগ সফল হোক এবং রাষ্ট্র বা ব্যবসায়ী—কেউ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেভাবেই এর একটি সমাধান করা হোক।


মন্তব্য