kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই

এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কর্মমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক বছর আগের এক পরিসংখ্যান বলছে, তখন দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ছিল ছয় কোটি সাত লাখ। সেই সময়ের হিসাব অনুযায়ী এই কর্মক্ষম জনশক্তির মধ্যে কাজে সম্পৃক্ত ছিল পাঁচ কোটি ৮১ লাখ মানুষ।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী আগের তিন বছরে দেশে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী যুবসমাজের হার বেড়েছে। পরিসংখ্যানের আরেকটি তথ্যে বলা হয়েছে, দেশের বেকারের সংখ্যা গত তিন বছরে বাড়েনি আবার কমেওনি। বেকারের সংখ্যা না কমার প্রধান কারণ হচ্ছে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব। দেশে শিক্ষিত মানুষের হার বাড়ছে। সরকারের নেওয়া নানা পদক্ষেপের কারণে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত পেরিয়ে আসা শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ চলে আসছে উচ্চশিক্ষার স্তরে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর তাদের উল্লেখযোগ্য অংশের কর্মসংস্থান হচ্ছে না। অথচ প্রতিবছর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ছে। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু তার পরও দেশের শিক্ষিত তরুণদের একটি বড় অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। অনন্যোপায় হয়ে অনেককে এমন পেশা বেছে নিতে হচ্ছে, যে পেশার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া তাদের জন্য কষ্টকর।

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সার্বিকভাবে শিক্ষাব্যবস্থা এখনো কর্মমুখী হয়নি। দেশের অভ্যন্তরে কাজের সুযোগ আছে এমন বিষয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা হলে তরুণরা সেই শিক্ষাব্যবস্থায় আগ্রহী হতো। যেকোনো তরুণের উচ্চশিক্ষার প্রধান উদ্দেশ্য শিক্ষা শেষে উপযুক্ত কর্মসংস্থান। বাংলাদেশে কর্মসংস্থানের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হলেও সে অনুযায়ী শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। বেসরকারি খাতের চাহিদা অনুযায়ী নতুন নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার নজির বিদেশে আছে। এমনকি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন নতুন বিভাগ খোলার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়ার নজিরও আছে। এর পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপের ব্যবস্থা আছে। ইন্টার্নশিপ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের খরচও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান বহন করে। অথচ বাংলাদেশে ইন্টার্নশিপের ব্যাপারে প্রাতিষ্ঠানিক অনাগ্রহ চোখে পড়ার মতো। এখানে ইন্টার্নশিপের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না। শিক্ষার্থীকে নিজ দায়িত্বে ইন্টার্নশিপ খুঁজে নিতে হয়। বিশ্বের অনেক দেশে খাতওয়ারি কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের তথ্য হালনাগাদ করা হলেও বাংলাদেশে তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। দেশে ভবিষ্যতে কী পরিমাণ দক্ষ জনবল প্রয়োজন হবে এমন কোনো তথ্যভাণ্ডার না থাকায় শিক্ষার্থীরাও ভবিষ্যতের চাকরির বাজার পর্যালোচনা করতে পারে না।   

আমাদের দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। কিন্তু প্রতিবছর যোগ্য তরুণরা উচ্চশিক্ষা নিয়ে বেরিয়ে আসছে। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না অনেকে। কর্মসংস্থানের উপযুক্ত বিষয়ভিত্তিক কোর্স চালু করা গেলে দেশের শিক্ষিত তরুণদের হতাশামুক্ত করা যেত। কর্মোদ্যমী নতুন একটি প্রজন্ম গড়ে উঠত। এই তরুণদের হাত ধরেই অর্জিত হতো মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা। এসডিজি থেকে শুরু করে সব ধরনের লক্ষ্য অর্জন সহজতর হয়ে যেত। আমরা আশা করব, শিক্ষাব্যবস্থা কর্মমুখী হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করার এখনই সময়।


মন্তব্য