বর্ষা মৌসুম সবে শুরু—এর মধ্যেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার পূর্বাভাস পাওয়া গেছে। উজানের ঢল ও ভারি বৃষ্টির কারণে এখনই কিছু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে চরাঞ্চলে আবাদি জমি তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। আগামী কয়েক দিন ভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। ফলে পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।
বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, উত্তরাঞ্চলের চার জেলা বন্যাকবলিত হতে পারে। অন্যদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও সিলেটে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের বার্তা বলছে, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে এসব নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে ৪৪টি জলকপাটের সব কটিই খুলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে, তবে আগামী তিন দিন ভারি বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদ-নদীর পানির বিপৎসীমা অতিক্রমের বড় ঝুঁকি রয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, দেশের কিছু অঞ্চল প্রতিবছরই প্লাবিত হচ্ছে। প্রতিবছরই বন্যার সময় পত্রিকার পাতায় লাখো বানভাসি মানুষের ছবি দেখা যায়। বিপুল পরিমাণ ফসলের ক্ষতি, গবাদি পশুর মৃত্যু বহু মানুষকে একেবারে নিঃস্ব করে তোলে। সেই তুলনায় বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের তেমন প্রস্তুতি থাকে না। বন্যা ঠেকাতে যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, সেগুলোও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রয়েছে। গতকালই কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার উপকূলীয় শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এখন অন্তত ৪০টি পয়েন্টে ছোট ছোট ভাঙন দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে স্থানীয় গোয়ালডাঙ্গা বাজার ভাঙনের মুখে প্রায় বিলীন হওয়ার উপক্রম।
এটি ঠিক যে উজানের ঢলের ওপর আমাদের হাত নেই। বৃষ্টিও নিয়ন্ত্রণের উপায় নেই। কিন্তু দেশের নদ-নদীর নাব্যতা বাড়ালে পানি দ্রুত নিচে নেমে যেতে পারে। পাউবোর বাঁধগুলো টেকসই হলেও অনেক সুরক্ষা মিলবে। প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ যেন পরিস্থিতি দ্রুত কাটিয়ে উঠতে পারে, সে লক্ষ্যে সঠিক পরিকল্পনা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আমরা মনে করি, বর্ষার শুরুতেই বন্যার পূর্বাভাস, মানে ভরা বর্ষায় পরিস্থিতি আরো বেসামাল হবে। এ জন্য সরকারকে আগাম ও টেকসই প্রস্তুতি নিতে হবে।

