kalerkantho


শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

নতুন বিতর্ক সৃষ্টি কার স্বার্থে

২৩ ডিসেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

এত দিন জামায়াত যা করে এসেছে, এবার সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো বিএনপি। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলের চেয়ারপারসন আবার প্রমাণ করলেন, তাঁর দল স্বাধীনতার আদর্শে অনুপ্রাণিত নয়। বরাবরই লক্ষ করা গেছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জামায়াত নানাভাবে কটাক্ষ করেছে। এ দেশে যুদ্ধাপরাধী নেই বলে মন্তব্য করা আলবদরপ্রধানের দণ্ড কার্যকর হয়েছে। নিবন্ধন হারিয়ে জামায়াত এখন সরাসরি রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে। এ সময় জামায়াতের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দলের একটি সহযোগী সংগঠনের সমাবেশে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন। তিনি বলেছেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন বলা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কতজন শহীদ হয়েছেন, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। ’ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি বিএনপি নেত্রী। বলেছেন, বঙ্গবন্ধু নাকি স্বাধীনতা চাননি।

জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা না দিলে দেশ স্বাধীন হতো না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদের সংখ্যা নিয়ে তাঁর এ প্রশ্ন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ওপর আঘাত। বিএনপি চেয়ারপারসন সরাসরি সম্ভ্রম হারানো দুই লাখ মা-বোনের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন করতে ছাড়েননি। আগে এ কাজটি নিয়মিত করে এসেছে একাত্তরের ঘাতক রাজাকার-আলবদরদের সংগঠন জামায়াত। এখন সে ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দেশের রাজনীতির মাঠে জামায়াতের অনুপস্থিতি যেন পুষিয়ে দিলেন তিনি।

বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ভূমিকা স্বীকার করতে চায় না। এমনকি স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও কটাক্ষ করতে ছাড়ে না। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন ও সংগ্রাম, মানুষকে সংগঠিত করার অসামান্য দক্ষতা অস্বীকার করতে চায় বিএনপি। সামরিকতন্ত্রের আঁতুড়ঘরে জন্ম নেওয়া কোনো দলই রাজনৈতিক পরম্পরায় বিশ্বাসী হতে পারে না। এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ, শহীদের সংখ্যা, সম্ভ্রম হারানোদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কেন?

খালেদা জিয়া এই দেশে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। দুবার পূর্ণ সময় দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু কোনো দিন এ প্রশ্ন তোলেননি। সোমবারের অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ক্ষমতায় গেলে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করে তাঁদের সম্মান ও সম্মাননা দেব। ’ ক্ষমতার বাইরে থেকে এ কথা বলে তিনি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করেছেন, একাত্তরের শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো নারীদের অসম্মান করেছেন। এটা গর্হিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করি আমরা।

খালেদা জিয়া যে প্রশ্ন তুলেছেন তার সপক্ষে কী তথ্য আছে তাঁর কাছে? তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আসনেও বসেছেন, তখন কেন এ তথ্য দেননি? আজ যখন এই প্রশ্ন তুলছেন তখনো তো তিনি কোনো তথ্য দিচ্ছেন না। কেবল প্রশ্ন তুলে বিতর্কের অবতারণা করতে চাইছেন। কার স্বার্থে এই বিতর্ক সৃষ্টি করলেন তিনি? যে অবাঞ্ছিত ও অবমাননাকর বক্তব্য তিনি দিয়েছেন, তার নিন্দা জানানোর ভাষাও আমাদের জানা নেই। তাঁর এ বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানাই।


মন্তব্য