kalerkantho

মাছ-মুরগিতেও বিষ!

সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন   

১৫ ডিসেম্বর, ২০১৪ ০০:০০



মাছ-মুরগিতেও বিষ!

খাবার না খেয়ে কোনো মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। আবার বাংলাদেশে বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে খাবার খেয়েও বেঁচে থাকা সম্ভব নয়।

এমন কোনো খাদ্য পাওয়া কঠিন, যাতে ভেজাল নেই। আবার শুধু ভেজালই নয়, রীতিমতো বিষাক্ত রাসায়নিক দ্রব্য মেশানো হয়। কোনোটা সরাসরি বা প্রত্যক্ষভাবে, আর কোনোটা পরোক্ষভাবে মানবদেহে বিষক্রিয়া ঘটাচ্ছে। মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে কঠিন রোগব্যাধিতে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে তেমনি ভয়ংকর এক চিত্র। ট্যানারির বর্জ্য দিয়ে তৈরি হয় মাছ ও মুরগির খাদ্য। সেই খাবার খাওয়ানো মুরগির মাংসে ক্রোমিয়ামের মাত্রা পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক রকম বেশি। মানবদেহের জন্য ক্রোমিয়ামের সহনীয় মাত্রা যেখানে প্রতি কেজি মুরগির মাংসে ২৫ মাইক্রোগ্রাম, সেখানে এসব মুরগির মাংসে পাওয়া গেছে ৭৯৯ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত। প্রায় ৩২ গুণ। শিশুদের জন্য তা ৬০ গুণের মতো। অথচ অতি বিষাক্ত ক্রোমিয়াম শরীরে জমতে থাকলে ক্যান্সার, লিভার ও কিডনির নানা জটিল রোগ দেখা দিতে পারে। জনস্বাস্থ্যে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এসব খাদ্য খাওয়ানো মাছেও পাওয়া গেছে অনেক বেশি মাত্রায় ক্রোমিয়াম। তাহলে মানুষ খাবে কী? ১৬ কোটি দুর্ভাগা মানুষের মাথার ওপর যে রাষ্ট্রযন্ত্র রয়েছে, সম্ভবত সেটিও আজ দূষিত হয়ে পড়েছে। তা না হলে সেই যন্ত্র জনস্বাস্থ্যের জন্য এমন ভয়ংকর হুমকিতেও প্রায় নির্বিকার থাকতে পারছে কিভাবে? এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বস্তুত কিছুই করা হচ্ছে না রাষ্ট্রযন্ত্রের পক্ষ থেকে।

রাষ্ট্রযন্ত্রের এই উদাসীনতার সুযোগে উৎপাদক থেকে বিক্রেতা পর্যন্ত প্রায় সবাই মানুষ মেরে মুনাফা করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। এ ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা, মানবিকতা বা মূল্যবোধ- কোনো কিছুরই কোনো বালাই নেই। বাজারে ফল কিনতে যাবেন তাতে ফরমালিন, কার্বাইডসহ নানা রকম রাসায়নিক মেশানো হয়। পোকার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য ফলে সরাসরি কীটনাশক স্প্রে করা হয়। এসব ফল খেয়ে শিশুদের মারা যাওয়ার খবরও এসেছে পত্রিকার পাতায়। শাকসবজিতেও চলে এই একই প্রক্রিয়া। একেকটি কীটনাশকের একেকটি মেয়াদ থাকে। তা হতে পারে সাত দিন থেকে ৩০ দিন কিংবা তারও বেশি। মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেই সবজি বা ফল খেলে শরীরে কীটনাশকের বিষক্রিয়া ঘটে। কিন্তু দেখা যায়, আগের দিন কীটনাশক দিয়ে পরের দিনই ফল বা সবজি বাজারে নিয়ে আসে। দুধেও মেশানো হয় ফরমালিন। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানেও ভেজালের এমন বহু প্রমাণ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত খাদ্যনিরাপত্তা গবেষণাগারে ৮২টি খাদ্যপণ্য পরীক্ষা করে ৪০ শতাংশ খাদ্যপণ্যের নমুনায় মানবদেহের জন্য সহনীয় মাত্রার চেয়ে তিন থেকে ২০ গুণ বেশি বিষাক্ত উপাদান পাওয়া গেছে। এভাবে আর কত দিন চলবে? আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতি দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

 

 

 


মন্তব্য