kalerkantho

ধারাবাহিক উপন্যাস

বান্দরবানের জঙ্গলে

মোস্তফা কামাল

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



বান্দরবানের জঙ্গলে

অঙ্কন : মানব

গত সংখ্যার পর

বারো.

ডিসি সাহেবের বাংলোতে পাঁচ পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে। অপু, রাজন, মুহিত, রনি ও রুবেলের মা-বাবা সবাই কান্নাকাটি করছেন। একেকজন একেক কথা বলছেন।

তাঁদের সান্ত্বনা দিয়ে রাশেদুজ্জামান বললেন, বিশ্ববিখ্যাত গোয়েন্দা ফটকুমামা বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ছেলেদের খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে।

রিজিয়া জামান হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, আরে রাখো তোমার ফটকুমামা! সে একা কী করবে? র্যাব-পুলিশ বাহিনীকে কেন এখনো নামাচ্ছ না। বাচ্চাদের যদি কোনো ক্ষতি হয়!

ধৈর্য ধরো! র্যাব-পুলিশকেও জানানো হয়েছে। তারা তাদের মতো চেষ্টা করছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তারেকুর রহমান রাজনের বাবা। তিনি ডিসি সাহেবকে বললেন, স্যার, পত্রিকাগুলোতে আরো বেশি বেশি রিপোর্ট করালে কেমন হয়?

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলী মুহিতের বাবা। তিনি দ্বিমত পোষণ করে বললেন, এটা ঠিক হবে না। বাচ্চারা যদি কিডন্যাপ হয়ে থাকে, তাহলে অপহরণকারীরা মুক্তিপণ দাবি করবে। মুক্তিপণ না দিতে পারলে বাচ্চাদের মেরেও ফেলতে পারে।

মনিজা জাহান বললেন, আমার মনে হয় এ ধরনের নেগেটিভ চিন্তা না করা ভালো ভাই!

মাহবুব আলী সঙ্গে সঙ্গে বললেন, স্যরি।

রনির বাবা রওশন জামান বললেন, আরেকটু ধৈর্য ধরি। গোয়েন্দা হিসেবে ফটকুমামার অনেক নাম-ডাক। উনি কত দূর কী করেন দেখি।

রুবেলের বাবা রফিক আহমেদ বললেন, আমার মনে হয়, র্যাবকে জানানো উচিত। দ্রুত খুঁজে বের করতে পারবে।

রাশেদুজ্জামান কিছুটা ধমকের সুরে রফিক আহমেদকে বললেন, র্যাব-পুলিশকে জানাইনি এমন তো নয়। লিখিতভাবেই জানিয়েছি। তারা গোয়েন্দা বিভাগের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। পাঁচজনের মধ্যে আমার ছেলেও তো আছে!

ফটকুমামা কি অনুসন্ধান কাজ শুরু করেছেন? মনিজা জাহান জানতে চাইলেন।

রাশেদুজ্জামান বললেন, ওনার সঙ্গে আমার দুজন লোক আছে। কোনো অগ্রগতি হলে সঙ্গে সঙ্গে জানতে পারব।

তারেকুর রহমান বললেন, পত্রিকাগুলো প্রতিদিন রিপোর্ট করছে। এটা ভালো। পুলিশ বলেছে, তারা নাকি খুব চাপে আছে।

কে বলল? রাশেদুজ্জামান জানতে চাইলেন।

এসপি সাহেব জানাল।

এ কথা এতক্ষণ বলোনি যে!

কী আর বলব, স্যার। মাথা তো পুরোটাই আউলা লাগছে! কিছু মনে থাকে না।

রিজিয়া জামান বলেন, তোমরা সবাই প্রশাসনের হর্তাকর্তা! তোমাদের বাচ্চারা উধাও হয়ে গেল; এটা কোনো কথা!

রাশেদুজ্জামান বিরক্তির দৃষ্টিতে রিজিয়া জামানের দিকে তাকিয়ে আছেন। তিনি কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন। তার আগেই তারেকুর রহমান বললেন, আসলে কারোরই মন-মেজাজ ঠিক নেই।

হুম। কী করব বলো। কোনো চেষ্টা না করলে একটা কথা ছিল।

স্যার, আমরা তাহলে আসি। কোনো অগ্রগতি থাকলে নিশ্চয়ই জানতে পারব।

তা তো বটেই।

তারেকুর রহমানসহ অন্য কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রীরা চলে গেলেন। রাশেদুজ্জামান একা বসে আছেন। মনে মনে ভাবছেন, নিশ্চয়ই ওরা বেঁচে আছে। ফিরে আসবে। অবশ্যই ফিরে আসবে।

রাশেদুজ্জামান কখন ঘুমিয়ে পড়েছেন, নিজেও জানেন না। রিজিয়া জামানের চিত্কারে লাফিয়ে ওঠেন। থতমত খেয়ে বলেন, কী হয়েছে!

রিজিয়া জামান বললেন, সঞ্জয় ফোন দিয়েছিল।

কী বলল?

ও তোমাকে চাইল। বলল, জরুরি কথা আছে। এই নাও মোবাইল।

রাশেদুজ্জামান সঞ্জয়ের নাম্বারে ফোন দিলেন। ‘হ্যালো সঞ্জয়, বলো।’

স্যার, আমরা পাহাড়ে এসেছি। ভেতরের জঙ্গলের দিকে যাচ্ছি। যাওয়ার পথে এক লোকের সঙ্গে দেখা। সে বলল, পাঁচটা ছেলেকে নাকি উনি দু-তিন দিন আগে দেখেছেন।

তাই নাকি?

জি, স্যার। লোকটা বলল, ওদের তিনি জঙ্গলের দিকে যেতে দেখেছেন।

তোমরা সেদিকেই যাচ্ছ?

জি, স্যার।

যাও! আমরা আসব?

না, স্যার। আমি আপনাকে জানাব।

রাশেদুজ্জামান ফোনে কথা শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে রিজিয়া জামান সামনে এসে দাঁড়ালেন।

হ্যাঁগো, কী খবর?

ওরা এখন পাহাড়ে। কে নাকি বলেছে, দু-তিন দিন আগে পাঁচটা ছেলেকে সে দেখেছে।

তার মানে পাহাড়েই আছে ওরা! তোমার কী মনে হয়?

রাশেদুজ্জামান স্ত্রীর হাত ধরে পাশে বসালেন। বললেন, নিশ্চয়ই পাওয়া যাবে। চিন্তা কোরো না।

সান্ত্বনা পেয়ে রিজিয়া জামানের অশান্ত মন কিছুটা শান্ত হলেও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

 

তোরো.

ফটকুমামা পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছেন। পেছনে সঞ্জয় ও রঞ্জন। ওদের হাঁটাচলা দেখে মনে হয়, বন্য প্রাণীও তাদের কাছে নস্যি। পাহাড়ি পথে হাঁটতে গিয়ে যখন বন্য হাতির সামনে পড়ল, তখন তাদের অবস্থা দেখে ফটকুমামা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি। ফটকুমামা বললেন, তোমরা যা-ই হও, বন্য হাতির কাছে চুনোপুঁটি।

লজ্জা পেয়ে সঞ্জয় বলল, জি মামা। শুঁড় দেখলেই তো পিলে চমকে যায়! এক আছাড়ের বেশি লাগবে না।

ফটকুমামা রঞ্জনকে বললেন, তোমার কী মনে হয়, বন্য হাতির সামনে যেতে পারবা?

কী যে কন মামা! আমার মতো দশ রঞ্জনও ওর সামনে কিছু না।

তাহলে সাবধানে পথ চলো।

জি, মামা। তবে আপনার কিছু হলে খবর আছে!

কার খবর আছে? ওই বন্য হাতির?

না না, মামা! আমাদের।

আচ্ছা শোনো, পাহাড়ে প্রচুর সাপ। সাপের গন্ধ আসছে। সাবধানে হাঁটবে। গায়ে পা পড়লে কিন্তু ছোবল খাবে।

জি, আচ্ছা।

ফটকুমামা হাঁটছে। দুই পাশে সঞ্জয় ও রঞ্জন। কিছুদূর যাওয়ার পর ফটকুমামা দেখেন, একটা লোক রাস্তার পাশে বসে বিড়ি টানছে। গায়ে কাপড় নেই। চুল উষ্কখুষ্ক। দেখে মনে হয়, পাগলা টাইপের। বললেন, এই যে ভাই, এখানে থাকেন?

লোকটা বুড়ো আঙুল উঁচিয়ে ইশারা করল। মনে হলো, আসমানে থাকে। ফটকুমামার সন্দেহ হলো। ভাবেন, লোকটা সত্যিই মানসিক ভারসাম্যহীন।

ফটকুমামা আবারও জানতে চাইলেন, পাঁচটা স্কুলছাত্র এই পাহাড়ে এসেছে। ওদের দেখেছেন?

লোকটা ওপর-নিচ মাথা নাড়ল।

কোন দিকে গেছে বলতে পারবেন?

আঙুল দিয়ে ইশারায় দেখাল।

ফটকুমামা হাত দিয়ে দেখিয়ে বললেন, এই দিকে?

মাথা নাড়ল লোকটা।

কোথায় আছে বলতে পারবেন?

লোকটা আবারও ইশারায় দেখাল।

ফটকুমামা কথা না বাড়িয়ে হাঁটতে শুরু করলেন। কিছুদূর এগিয়ে যাওয়ার পর সেই লেকের সামনে দাঁড়ালেন। লেক পার হয়ে অপর পারে যাওয়ার উপায় নেই। লেকের পানি কুচকুচে কালো। বোঝাও যায় না, গভীরতা কত দূর। কী করা যায় ভাবেন। সঞ্জয় ও রঞ্জন চিন্তায় পড়ে গেল। ফটকুমামা সঞ্জয়ের কাছে জানতে চান, এখন উপায়?

মামা, মনে হয় সাঁকো বানাতে হবে।

কী দিয়ে বানাবে?

বড় একটা গাছ কেটে ফেলি।

ওই পারের পাহাড় সম্পর্কে তো ধারণা নেই। ওই ছেলেরাই বা কী করে লেক পার হলো?

আমার মনে হয়, ওরা ওই পারে যায়নি।

সঞ্জয়ও একমত। মামা, আপনি চিন্তা করে দেখেন! আমাদের পক্ষেই যেখানে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ওরা যাবে কী করে?

এরই মধ্যে একজন লোকের সঙ্গে লেকের পারে দেখা হয় ফটকুমামার। তিনি লোকটার কাছে এগিয়ে গিয়ে বলেন—ভাই, ওই পারে কি যাওয়া যায়?

লোকটা এককথায় জবাব দিল, না।

কেন?

ওই পারে বন্য হাতি, চিতাবাঘ আর ভালুুকের আস্তানা। কয়েক দিন আগে পাঁচটা ছেলে গিয়েছিল। ফিরে আসেনি।

বলেন কী!

জি।

কিভাবে গিয়েছিল?

বাঁশ দিয়ে সাঁকো তৈরি করে।

সাঁকো কোথায়?

আমরা সরিয়ে ফেলেছি। কারণ, ওই পারে মানুষ গেলে বন্য প্রাণীর আক্রমণের শিকার হবে।

ওহ মাই গড! এসব কী শোনালেন!

আপনারাও যাওয়ার চেষ্টা করবেন না।

কিন্তু আমরা তো ওই পাঁচ ছেলের সন্ধানেই এসেছি!

কিছু মনে করবেন না। ওদের আশা ছেড়ে দেন।

ওদের মা-বাবাকে কথা দিয়েছি! যে করেই হোক, উদ্ধার করব।

সম্ভব না।

চেষ্টা করে দেখি না! যদি পাওয়া যায়।

কী করে পাওয়া যাবে? এত দিনে হাড্ডিগুড্ডিও নেই।

আচ্ছা, লেকের গভীরতা কেমন?

জানি না। তবে লেকে নামতে পারবেন না। প্রচুর সাপ। কুমিরও আছে।

কিন্তু ওপারে যেতেই হবে!

দেখেন যেতে পারেন কি না!

আচমকা লোকটা অন্য দিকে চলে গেল। ফটকুমামা লেকের দিকে এগিয়ে গেলেন। রঞ্জন ও সঞ্জয়কে বললেন, মোটা একটা গাছ কাটো।

রঞ্জন ও সঞ্জয় গাছ কাটার জন্য এগিয়ে যায়। ফটকুমামা লেকের পারে দাঁড়িয়ে ভাবেন, ওরা সত্যিই বেঁচে আছে তো!

      

চৌদ্দো.

রাশেদুজ্জামান রাজন, মুহিত, রনি ও রুবেলের বাবাকে ডেকে পাঠালেন। বললেন, তোমাদের ছেলেদের ব্যাপারে কিছু খবর আছে।

তারেকুর রহমান বিস্ময়ভরা কণ্ঠে জানতে চাইলেন, কোনো সুখবর?

রাশেদুজ্জামান বললেন, গোয়েন্দা ফটকুমামার সঙ্গে দুজন লোক দিয়েছিলাম। ওরা টেলিফোনে জানাল, যে পাহাড়টিতে তারা আছে, সেখানকার একজন লোক তাদের জানিয়েছে, পাঁচ স্কুলছাত্রকে সে একসঙ্গে ওই জায়গায় দেখেছে।

রফিক আহমেদ বললেন, তাই নাকি!

মাহবুব আলী বললেন, তার মানে, ওই পাহাড়েই গেছে।

রাশেদুজ্জামান বললেন, হুম। ফটকুমামা এখন সামনের দিকে এগোবেন। চূড়ান্ত অভিযানে নামবেন।

আর কোনো যোগাযোগ হয়নি? তারেকুর রহমান জানতে চাইলেন।

রাশেদুজ্জামান বললেন, এখন নেটওয়ার্ক পাচ্ছি না। পাওয়া গেলে ওরাই আমাকে খবর দেবে।

স্যার, আমার মনে পুরো পাহাড়টায় পুলিশ দিয়ে সার্চ দেওয়াই! মাহবুব আলী বললেন।

ওরা নিশ্চয়ই দিচ্ছে।

এখনো তো ওরা কিছু জানায়নি!

না।

তাহলে কী সার্চ করছে? সব ঢিলাঢালা অবস্থা।

রাশেদুজ্জামান বললেন, যার যায় সে-ই বোঝে! আমাদের সন্তান হারিয়েছে বলে আমরা বুঝি। আচ্ছা তারেক শোনো, তুমি এসপি সাহেবকে একটা ফোন দাও না!

ফোন দিয়ে কী বলব স্যার?

কোনো খবর আছে কি না জানতে চাইবে।

তারেকুর রহমান তখনই মোবাইলে ফোন দিলেন। এসপি সাহেব ফোন ধরলেন। তারেকুর রহমান নরম গলায় বললেন, ভাই কোনো খবর আছে?

এসপি সাহেব সান্ত্বনার ভঙ্গিতেই বললেন, আমরা ব্যাপক চেষ্টা করছি। পাহাড়ের আনাচকানাচে ওরা খুঁজে বেড়াচ্ছে। সুখবর পাওয়া মাত্রই জানাব। ঘটনাটা তো খুবই স্পর্শকাতর।

টেলিফোন রেখে ডিসি সাহেবের উদ্দেশে তারেকুর রহমান বললেন, স্যার শুনলেন তো! ওনার কথা শুনে মনে হলো, পুলিশ খুব চেষ্টা করছে।

আচ্ছা। র্যাবের সঙ্গেও কথা বলবে নাকি?

জি, স্যার। কথা বলা যেতে পারে।

তারেকুর রহমান র্যাবের এরিয়া কমান্ডারের কাছে ফোন দিলেন। পরিচয় দিয়ে বললেন, নিশ্চয়ই জানেন, পাঁচ স্কুলছাত্র নিখোঁজ!

জি জি। ডিসি সাহেবের ছেলেও তাদের মধ্যে আছে। আমরা খুব চেষ্টা করছি। গোয়েন্দারা তন্নতন্ন করে তাদের খুঁজে বেড়াচ্ছে।

থ্যাংক ইউ। দয়া করে আমাদের জানাবেন।

অবশ্যই। যেকোনো তথ্য পাওয়া মাত্র আপনাদের জানিয়ে দেব। তারেকুর রহমান ফোন রাখলেন।

এরই মধ্যে ডিসি সাহেবের মোবাইলে রঞ্জনের ফোন। ডিসি রাশেদুজ্জামান তাড়াহুড়া করে ফোন ধরলেন। উদ্বিগ্ন হয়ে বললেন—কী, কী খবর রঞ্জন!

রঞ্জন উচ্চৈঃস্বরে বলল—স্যার, নেটওয়ার্ক ঠিকমতো পাচ্ছিলাম না। তাই গাছে উঠেছি। আমরা লেক পার হয়ে আরেকটি পাহাড়ে এসেছি। এই পাহাড়েই নাকি অপু ওর বন্ধুদের নিয়ে এসেছে।

ডিসি সাহেব বললেন, এই তথ্য তোমাকে কে দিল?

স্যার, এক লোক ফটকুমামাকে বলেছে। কিন্তু এই পাহাড়টা নাকি ভয়ানক। অনেক বন্য প্রাণী। আমরা খুব সাবধানে এগোচ্ছি। দোয়া করবেন, স্যার।

ডিসি সাহেব বললেন, হ্যাভ এ সেভ জার্নি।

রাশেদুজ্জামান ফোন রেখে তারেকুর রহমানসহ অন্যদের বললেন, শুনলে তো! ফটকুমামা এখন যে পাহাড়ে আছেন, ওখানেই নাকি ওরা গেছে। সৃষ্টিকর্তা, ওদের রক্ষা করো।

 

পনেরো.

ফটকুমামা সাবধানে পা ফেলছেন। মনে ভয় ধরিয়েছে পাহাড়ি লোকটা। বন্য প্রাণীর ভয়।

হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়ে চমত্কার ফুল ও ফলের গাছ। অনেক পুরনো বিশালাকৃতির গাছ দেখে অন্য রকম হয়ে যান তিনি। রঞ্জন ও সঞ্জয়কে বলেন, কত চমত্কার বন? ফলগুলো দেখেছ? আপেল, কমলা, পেয়ারা! এসো খাই।

রঞ্জন ও সঞ্জয় গাছ থেকে ফল ছিঁড়ে ছিঁড়ে ফটকুমামাকে দিচ্ছে আর নিজেরাও খাচ্ছে। সঙ্গে নিয়েও নিয়েছে বেশ কিছু ফল। তারপর আবার হাঁটতে শুরু করল বনের ভেতর। হঠাত্ দাঁড়িয়ে যান ফটকুমামা। দেখেন, দূর থেকে দুটি চিতাবাঘ দৌড়ে আসছে।

রঞ্জনও দেখল, চিত্কার দিয়ে বলল, মামা গাছে ওঠেন! তাড়াতাড়ি!

রঞ্জন ও সঞ্জয় ফটকুমামাকে গাছে উঠতে সাহায্য করল। ফটকুমামা ওপরে ওঠার পর রঞ্জন ও সঞ্জয় উঠল। এরই মধ্যে চিতাবাঘ দুটি দৌড়াতে দৌড়াতে গাছের নিচে এসে পড়ল। মানুষের গন্ধ পেয়ে পাগলের মতো আচরণ করতে লাগল ওরা। চারদিকে ছোটাছুটি করছে। বাঘের গর্জনে বানরগুলোও লাফালাফি শুরু করেছে।

ফটকুমামা দেখছেন আর ভাবছেন, আসলেই এটা বন্য প্রাণীর অভয়ারণ্য। এখানে সত্যিই ছেলেরা ঢুকেছে! চিতার শিকার হলে তো বাঁচার কথা না।

কিছুক্ষণ পর চিতা দুটি চলে গেল। ফটকুমামা বললেন, চল এবার নামি।

সঞ্জয় বলল, মামা এখনই?

রঞ্জন বলল—কেন, গাছে বসে থাকব? এই চল, নামি!

(আগামী সংখ্যায় সমাপ্ত)

 

মন্তব্য