kalerkantho


রহস্যজট

পাণ্ডুলিপির জন্য

আবদুল্লাহ আল ফারুক

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পাণ্ডুলিপির জন্য

‘...কিন্তু পাণ্ডুলিপি গায়েব হবে কেন? এটা মানা যায় না। একজন মানুষ মারা যাবে, আর সেটা দেখেও কেউ পাণ্ডুলিপি চুরি করবে...।’

‘তুই নিজেও বললি যে পেসমেকার...।’

‘সেটাও বুঝতে পারছি না। এত জলদি বিকল হলো? এক বছরও হয়নি।’

চিন্তার সাগরে ডুবে গেল মামুন। গোয়েন্দা শরীফ অবশ্য ভাবার মতো কিছু পাচ্ছে না। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তা ও। মামুনের ছোটবেলার বন্ধু। যে কিনা তার বৃদ্ধ বাবাকে হারিয়েছে তিন দিন আগে। আজ তার কুলখানি।

লেখালেখি-আড্ডা, এ দুয়ে মামুনের বাবা বেলায়েত গাজী। দু’দিন আগেও একটা পাণ্ডুলিপি নিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল তাকে। ওটার কাজ শেষ হতেই পার্টি দেন। গল্প উপন্যাস নয়, স্মৃতিচারণা লিখছিলেন।

মারা যাওয়ার আগের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা চলেছিল। বহুদিন পর যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছিল রাজধানীর অভিজাত এলাকার আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়িটা। কারো নিষেধের পরোয়া না করে গলা পর্যন্ত মদ গিলেছিলেন বেলায়েত গাজী। সঙ্গীদেরও বদ্ধমাতাল অবস্থায় দেখেছিল বাড়ির গৃহকর্মীরা। রাতেই সবাই চলে যায়। সকালে উঠেই দেখা গেল, নড়াচড়া করছেন না লেখক বেলায়েত গাজী। হাসপাতালে নেওয়ার পর জানা গেল, পেসমেকার বিকল হওয়াতেই মারা গেছেন। একে তো শারীরিক অসুস্থতা, দ্বিতীয়ত বাড়ির কিছু খোয়াও যায়নি। তাই তিনি খুন হবেন, এমনটাও কেউ ভাবছে না।

শরীফ অবশ্য তদন্ত করতে আসেনি। এসেছে বন্ধুর বাবার কুলখানিতে।

‘পাণ্ডুলিপিটা নিয়ে বাবাকে বেশ উত্তেজিত দেখতাম। বিড়বিড় করে বলতেন, সব ফাঁস করে দেব।’

‘কম্পিউটারে কপি নেই?’

‘বাবা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি একেবারেই পছন্দ করতেন না। হাতেই লিখতেন। অবশ্য মারা যাওয়ার দুদিন আগেও কার সঙ্গে যেন ফোনে তুমুল ঝগড়া করেছেন। সম্ভবত তার কোনো বন্ধুই হবে। তাকে বাবা একটা কিছু বোঝাতে চাচ্ছিলেন।’

‘সিসিটিভি আছে না?’

‘আমি ফুটেজ দেখেছি। সবার সঙ্গেই ব্রিফকেস আর ব্যাগ ছিল। কাকে সন্দেহ করব?’

‘ফুটেজ দেখা।’

সময় নিয়ে সবার চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখল গোয়েন্দা শরীফ। রাত আটটা থেকে বারোটা পর্যন্ত ছিল যে তিনজন, তারা দোতলা থেকে নেমেছে টলতে টলতে। এদের মধ্যে একজনকে তার ড্রাইভার এসে ধরে ধরে নামিয়েছে। তিনজনের মধ্যে দুজনের হাতে ব্রিফকেস আর একজনের হাতে একটা বাক্স ছিল।

‘এ তিনজন কি আছে এখন?’

‘হুম। আরো অনেকেই আছে। এদের মধ্যে যদি কেউ পাণ্ডুলিপিটা হাতিয়ে থাকে, তবে সে-ও আছে। তা না হলে তো সন্দেহের কাতারে পড়বে।’

বেলায়েত গাজীর বন্ধুদের বেশির ভাগই বিষণ্ন দৃষ্টিতে বসে আছেন। মধ্যরাত পর্যন্ত থাকা সেই তিনজনও আছেন।

প্রথমেই বেলায়েত গাজীর কলেজজীবনের বন্ধু ডাক্তার আকমলের কাছে গেল শরীফ। ‘ওই দিন রাতে আংকলকে কেমন দেখেছিলেন?’ মাথা তুললেন বৃদ্ধ। মিনমিন করে বললেন, ‘আমাকে বিকেলে ফোন করে বলল, ডিজে পার্টি করতে চায়। তাই একটা ছোট ডিজে সেট আপ নিয়ে আসি। কিন্তু পরে ওটা আর চালানো হয়নি। সারা রাত ইচ্ছামতো গিলল। আমার কথা শুনলই না।’

গভীর রাত পর্যন্ত থাকা আরেক বন্ধু কামরান। 

‘আপনি যাওয়ার সময় বেলায়েত সাহেব কিছু দিয়েছিলেন?’

‘না তো। আমারে আবার কী দিবো হ্যায়... আমি আইছি খালি হাতে, গেসিও খালি হাতে।’

‘কী করেন আপনি?’

‘আমি মুখখ মানুষ। কোনো রকম ইন্টারপাস। আকমল আর রফিকের মতো ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার হই নাই। ইট-বালুর ব্যবসা যুগাইছি। মাগার বেলায়েত আমারে কুনুদিন কাছছাড়া করে নাই। তার সব পার্টিতেই আমি আছি। একলগে যুদ্ধও করছি।’

বাকি রইল অবসরপ্রাপ্ত বৃদ্ধ ইঞ্জিনিয়ার রফিক। শরীফের কথা শুনে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইলেন কিছুক্ষণ। তারপর  বললেন, ‘বেলায়েত হিজিবিজি কী সব বকছিল। যুদ্ধের সময়কার কথাবার্তাও বলেছে কিছু। কে যেন রাজাকার ছিল, বইতে তার ঘটনা ফাঁস করে দেবে বলল। আর রাত দশটার পর কে কী করেছে, কিছু মনে নেই।’

শরীফ উঠে গেল মামুনের কাছে।

‘ঘটনা শুধু পাণ্ডুলিপি চুরির নয়। আমার ধারণা, আংকলকে খুন করা হয়েছে। আমার মনে হয়, পাণ্ডুলিপিতে তিনি কারো মুখোশ উন্মোচন করতে চেয়েছিলেন। সে-ই খুনি। প্রমাণ করতে হলে দ্রুত একটা সার্চ ওয়ারেন্ট বের করতে হবে। ভাগ্য ভালো থাকলে পাণ্ডুলিপিটা খুঁজেও পেতে পারি।’

এবার বলো, কে খুন করেছে লেখক বেলায়েত গাজীকে। কিভাবে খুন করেছে?

গত রহস্যজটের উত্তর

উত্তর : চুরি করেছে হরিপদ। সে বলেছে, সে উল্টো পতাকা সোজা করে দিয়েছে। বাংলাদেশের পতাকা উল্টো থাকার কথা নয়। কারণ উল্টো করা হলেও সবুজ আর লাল বৃত্ত ঠিকঠাকই থাকবে। অন্যদিকে জয়নালকে সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়, কারণ সদানন্দ যখন ঘুমুচ্ছিলেন, তখন বিদ্যুত্ না থাকলেও পরে বিদ্যুত্ চলে আসতে পারে।



মন্তব্য