kalerkantho


মজার ঘটনা

লুকানোর জায়গা পাচ্ছিলাম না

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০




লুকানোর জায়গা

পাচ্ছিলাম না

তখন অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা দিচ্ছি। ইংরেজি পরীক্ষার দিন আমি প্রায় ১০ মিনিট দেরি করে ফেললাম। রুমে এসে দেখি, সবাই লিখছে। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। স্যার আমাকে খাতা ও প্রশ্ন দিলেন। প্রশ্ন দেখে রীতিমতো ঘেমে গেলাম। তার পরও দ্রুত লিখতে শুরু করলাম। যা পড়ে এসেছি, কিছুই কমন পড়েনি। তার পরও কিছু কিছু জানতাম। সেই ভরসায়ই লেখা চলছিল। আমি প্রশ্ন পড়ে সময় নিয়ে বুঝে বুঝে উত্তর লিখছি। আমাদের সঙ্গে অন্য সারিতে চলছিল দশম শ্রেণির বড় ভাইদের টেস্ট পরীক্ষা। ইতিমধ্যে আধাঘণ্টা কেটে গেছে। আমি ফিসফিস করে পাশের এক বড় ভাইকে একটি প্রশ্ন দেখতে বলি। প্রশ্নটি ঠিক বুঝলাম না। কী লিখতে হবে? বড় ভাই প্রশ্ন দেখে বললেন, আরে, এটি তো আমাদের প্রশ্ন! আমার মাথায় বাজ। স্যারকে বললাম। ঘটনা দেখে স্যার আবার মহাখুশি। ক্লাস এইটে থাকতেই ক্লাস টেনের প্রশ্নে লিখতে শুরু করেছি দেখে। অন্য স্যারদেরও ঘটনা বললেন। তাঁরা বললেন তাঁদের ক্লাসে। আমি রীতিমতো সুপারহিরো। কিন্তু পরে বুঝতে পারলাম, সুপারহিরোদের কেন মুখোশ পরে ঘুরতে হয়। অন্য ক্লাসের ছাত্র-ছাত্রীরা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে আমাকে দেখতে শুরু করল। আমি যেন কী না কী! আমি লজ্জায় মাথা লুকানোর জায়গা পাচ্ছিলাম না। তখন আর পরীক্ষা দেব কী, নিজেকে মনে হলো চিড়িয়াখানার হরিণ। —হোসাইন শাহাদাত

 

সাইকেলের হাওয়া

আমার বান্ধবী আলভী বেশ অদ্ভুত। দেখতে সহজসরল। তবে রাগ উঠলে অবস্থা খারাপ করে দেয়। একবার আমাদের কোচিং ক্লাসে এক ছেলের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলো। ছেলেটির ওপর রাগ দেখানোর জন্য ওর সাইকেলের হাওয়া ছেড়ে দেওয়ার ফন্দি আঁটে আলভী। ক্লাস শেষে আমাকে পরিকল্পনার কথা জানায়। আমি সায় দিইনি। তবে আমার আরেক বান্ধবী তানজিনা রাজি হয়। ওরা দুজনে মিলে সেই ছেলেটির সাইকেলের হাওয়ার ক্যাপ খুলে দেয়। তখনই নাজমুল নামের আরেকটি ছেলে এসে হাজির। বলল, ‘আরে আরে, করছ কী!’ আলভী বলল, ‘চুপ করো! দেখলে না ওই ছেলে আমাদের সঙ্গে কেমন আচরণ করেছে! ওকে শিক্ষা দিতে হবে। তাই চাকার হাওয়া ছেড়ে দিচ্ছি!’ মহাবিরক্ত হয়ে নাজমুল বলল, ‘ওই ছেলের সাইকেল ওইপাশে। এটা আমার সাইকেল!’

—কাজী মেহের নিগার

 

শাস্তির ভয়ে

ঘটনা এই বছরেরই। মাস তিনেক আগের কথা। ইংরেজি সেকেন্ড পেপারের ক্লাস চলছে। সবাই বেশ মনোযোগী। তবে আমার মধ্যে এক অনিশ্চিত ভয় কাজ করছে। কারণটা হলো আইসিটির এসাইনমেন্ট সাবমিট করা বাকি, যা আমি এখনো করিনি। শুধু আমি নই, আমার সঙ্গে বাকি তিন টিম মেম্বারও করেনি। পরের ঘণ্টায় আইসিটি ক্লাস। স্যার আসামাত্রই যারা এসাইনমেন্ট সাবমিট করেনি তাদের দাঁড় করাবেন। এদিকে আমি দায়িত্বজ্ঞানহীনের উপাধি গ্রহণ করতে প্রস্তুত নই। ইংরেজি টিচারের কাছে হাজার মিনতি করলাম ৫ মিনিটের ছুটি দিতে। কিন্তু স্যারের সঙ্গে আমার যেন সহস্র বছরের শত্রুতা। যেতেই দিলেন না। আমিও দমে যাওয়ার পাত্রী নই। বাকিদের ইশারায় বলে দিলাম যে এবার পালাতেই হবে। বসেছিলাম ফার্স্ট বেঞ্চে। স্যার যখনই পড়াতে পড়াতে পেছনের দিকে গেল, সবার আগে আমি পালিয়ে গেলাম। বাইরে গিয়ে ইশারা করে বাকি তিন জনকেও বেরিয়ে আসতে বললাম। তারাও মিনিট পাঁচেক পর বেরিয়ে এলো। তারপর দৌড়। এসাইনমেন্ট সাবমিট করলাম ঠিকই। তবে পরে শুনতে পেলাম, স্যার পড়াতে পড়াতে নাকি বলেছেন, ‘পাজিগুলোকে যেতে দিইনি দেখে পালিয়েছে! আরেকবার পেলে কান ধরাব!’ স্যার তো আর জানেন না যে আমরা পরিস্থিতির শিকার। কী আর করা। পরের কয়েকটা দিন ওই স্যারের ক্লাসে কখনো বেঞ্চের নিচে লুকিয়েছি, তো কখনো স্কার্ফ দিয়ে ঘোমটা বানিয়ে চুপচাপ বসেছিলাম। সম্ভবত স্যার ঠিকই চিনতে পেরেছিলেন। কিন্তু শাস্তি আর পেতে হয়নি।—নওরীন খালেদ



মন্তব্য