kalerkantho


শুরুতে হাসো

আলমগীর সাহেবের উড়ান

এফ এ নাসের   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আলমগীর সাহেবের উড়ান

উত্তরাধিকার সূত্রে ঢের সম্পত্তির মালিক আলমগীর সাহেব। তাই চাকরিবাকরি বা ব্যবসা—কিছুতেই মন বসে না। খাওদাও-ঘুমাওনীতিতে চলেন। শুধু মাথায় মাঝেমধ্যে বিচিত্র খেয়াল এসে ডিগবাজি খায়। ছোটবেলায় স্বপ্ন ছিল, হয় বিমানবাহিনীতে যোগ দেবেন, না হয় পাইলট হবেন। কিন্তু দুর্বল দৃষ্টিশক্তির কারণে সেটি আর হলো কই! মাঝেমধ্যে টিকিট কেটে উড়োজাহাজে চড়ে ওড়ার সাধ মেটান। কিন্তু তাতে মনটা ঠিক ভরে ওঠে না।

একদিন হুট করে আইডিয়াটা এলো মাথায়। বিয়ে করেননি আলমগীর। তাই বাধা দেওয়ার কেউ নেই। যা আছে কপালে বলে নেমে পড়লেন কাজে। শক্তপোক্ত দেখে একখানা হাতলওয়ালা বিশেষ চেয়ার বানালেন। ওটাকে চাইলে আবার কমোড হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এরপর অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বাইরে থেকে অর্ডার দিয়ে আনালেন বেশ শক্ত আবরণের বিশাল সব বেলুন। সঙ্গে শুকনো খাবার, অক্সিজেন সিলিন্ডার আর তীর-ধনুক নিয়েছেন। আলমগীর সাহেব ঠিক করেছেন, তিনি উড়বেন। চেয়ারে গ্যাসভরা বেলুন বেঁধে সোজা উড়ে যাবেন আকাশে। পরে তীর দিয়ে বেলুন ফাটিয়ে আবার নিচে নেমে আসবেন। ইঞ্জিনিয়ার ডেকে হিসাব-নিকাশ করে কয়টা বেলুন আর কী পরিমাণ গ্যাস লাগবে, সব ঠিকঠাক করলেন। তারপর গ্যাস ভরার নির্দেশ দিয়ে সিটবেল্ট বেঁধে বসে পড়লেন চেয়ারে। বেলুন ফুলে-ফেঁপে উঠতে শুরু করল। আলমগীর সাহেবকে নিয়ে চেয়ারটাও উঠতে শুরু করল। উড়ছেন তো উড়ছেন। একেবারে উড়তে উড়তে দশ হাজার ফুট উঁচুতে চলে গেলেন। বেমক্কা বাতাস আলমগীর সাহেবকে উড়িয়ে নিয়ে চলল। এর মধ্যে ঘুমিয়েও পড়লেন। উড়তে উড়তে চেয়ারসহ বেলুনগুলো চলে গেল দেশের বাইরে। সীমান্তরক্ষীরা আলমগীর সাহেবকে দেখলেন না। ভাবলেন, কেউ বেলুন উড়িয়েছে বুঝি। এভাবে এক দিন-দুদিন চলে গেল। চেয়ারে খানাপিনা, চেয়ারেই প্রাকৃতিক কর্ম। শেষে একদিন বেলুন ঢুকে পড়ল আমেরিকার সীমানায়। এবার আর কে বাঁচায়। ধরা পড়লেন রাডারে। তত দিনে অবশ্য বেলুন কয়েকটা ফুটো হয়ে আলমগীর সাহেব বেশ খানিকটা নিচুতে নেমে এসেছেন। আমেরিকান নিরাপত্তাকর্মীদের ঘুম হারাম। তড়িঘড়ি হেলিকপ্টারে করে পাকড়াও করার চেষ্টা করল তারা। কিন্তু হেলিকপ্টারের পাখার বাতাসের ধাক্কায় আলমগীর সাহেব আরো সরে যেতে লাগলেন। পুরো এক দিনের চেষ্টায় অবশেষে তাঁকে নিচে নামানো গেল। নামতেই গ্রেপ্তার হলেন। জানতে চাওয়া হলো, এ কাজ করতে গেলে কেন, বাপু? শুকনো মুখে বললেন আলমগীর সাহেব, আমি বেকার মানুষ, তাই বলে তো আর বসে থাকতে পারি না!          

 

একচোখা দৈত্য

চোর ঢুকেছে বাড়িতে। ঘুমুচ্ছে সবাই। তবে বাড়িতে আলোর কমতি নেই। ড্রয়িং রুমের লাইট জ্বলছে। ভেতরেও একই অবস্থা। কী কী চুরি করতে হবে সব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। ঝোলায় সবেমাত্র একটা মোবাইল ফোন ঢোকাল, অমনি কে যেন বলে উঠল, ‘সাবধান, একচোখা দৈত্য কিন্তু তোমায় দেখছে।’ আঁেক উঠে এদিক-ওদিক তাকাল চোর। নাহ, কোনো দৈত্যটৈত্য নেই। এবার একটা ল্যাপটপ ঢোকাল। আবার সেই গলা, ‘সাবধান! একচোখা দৈত্য কিন্তু তোমাকে দেখছে।’ কথাটা যে রুম থেকে আসছিল সেদিকে হাঁটা দিল চোর। উঁকি দিতেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। একটা পোষা টিয়া। চোরের দিকে কটমট করে তাকিয়ে আছে।

‘কিরে টিয়া, কেমন আছিস?’

‘ভালো! তা আমি সাবধান করার পরও তুমি চুরি করছ কেন!’

‘দূর, কোথায় কিসের দৈত্য! দৈত্য বলে কিছু আছে নাকি? তা তোর নাম কী রে?’

‘আমার নাম হাপুংকাশ।’

‘দূর, এটা কোনো নাম হলো! কোন গর্দভ তোর এ নাম রেখেছে শুনি?’

‘যে গর্দভ তার সিসিটিভি ক্যামেরাকে একচোখা দৈত্য বলে ডাকে, সে লোকটাই!’    

গ্রাফিকস : সমরেন্দ্র সুর বাপী ছবি : মোহাম্মদ আসাদ



মন্তব্য