kalerkantho


ফোকাস

একটা কিছু করা চাই!

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



একটা কিছু করা চাই!

বয়সটা শুধু বদলে যাওয়ার নয়, বদলে দেওয়ারও। এবার একটা কিছু করতেই হবে। ভাবতে শুরু করেছ সমাজ নিয়ে, দেশ নিয়ে? আগে চাই পরিকল্পনা। তোমাদের প্ল্যান করার সুবিধার জন্য আগের ভাগেই কিছু আইডিয়া দিচ্ছেন আফরা নাওমী

 

গাছ লাগাও

আপাতত এখন শহরগুলোর যে অবস্থা, তাতে সমাজের জন্য কিছু করতে হলে আগে প্রকৃতির জন্য করো। আগের আমলে বাড়ির উঠান কিংবা সামনের দিকে থাকত বড় বড় আম-কাঁঠালের গাছ। আর আমার তো নানুবাড়ি থেকে আসতেই ইচ্ছা করত না বাগানের মায়া ফেলে! কিন্তু শহরে যারা থাকো, তাদের সুযোগ কই? তবে উপায়? উপায় আছে। চাইলেই সবুজের সমারোহ ফিরিয়ে আনতে পারো যেখানে-সেখানে। বাসার আশপাশেই দেখবে নার্সারি আছে। সেখান থেকে কিনতে পারো চারা। অবশ্য অনেক সংগঠন আছে, যারা ফ্রিই চারা দেবে তোমাকে। ছাদে, ঘরের বারান্দায়, রাস্তার আইল্যান্ডেও লাগাতে পারো গাছ।

পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ইদানীং অনেকেই এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। আশপাশটা পরিচ্ছন্ন দেখতে চায় তারা। বিনা পয়সায় সমাজের জন্য একটা কিছু করে দেখাতে এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে? একটু হাঁটাহাঁটিও হলো, পরিবেশটাও ঝকঝকে তকতকে হলো। সঙ্গে দু-চারজন বন্ধু জুটিয়ে নাও এ কাজে। তাহলে আর কে কী বলল, সেটা গায়েই লাগবে না। অবশ্য এখন এ কাজ করতে দেখলে ঠাট্টার চেয়ে বাহ্বাই পাবে বেশি। পাড়ার কিংবা স্কুল-কলেজের বন্ধুরা মিলেও এলাকা কিংবা স্কুল-কলেজ প্রাঙ্গণের যাবতীয় আবর্জনা জড়ো করে নির্ধারিত স্থানে রেখে এলে একটা কাজের কাজ হবে। দেখবে, বড়রাও তোমাদের দেখাদেখি সচেতন হয়ে যাচ্ছে।

 

সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য

একটা কিছু করা চাই, এমন ভাবনায় সবার আগেই মনে আসে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কথা। তবে তাদের জন্য কাজ করছে এমন লোকজন বা সংগঠন কিন্তু কম নেই। তুমি নিজে থেকে বড় কিছু শুরু করতে গেলে অনেক হোঁচট খেতে পারো। উড়ে এসে জুড়ে বসতে পারে কাগজপত্র ও অনুমতির ফ্যাকড়া। তাই আপাতত ওদের জন্য কিছু করতে গেলে নিজে সংগঠন গড়ে তোলার চেয়ে বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের দ্বারস্থ হওয়াটা সুবিধাজনক। দেখো, কোনোভাবে সেখানে স্বেচ্ছাশ্রম দেওয়া যায় কি না। এতে এক কাজে দুই কাজ হবে। দুস্থদের জন্য কাজও হলো, আবার বড় একটা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও। এর বাইরে বন্ধু, বড় ভাইয়া-আপুদের পরামর্শ নিয়ে ছোটখাটো সংগঠন বানাতে পারো বৈকি। তবে এ ক্ষেত্রে সমমনা বন্ধুদের নিয়ে নিয়মিত বৈঠক করো আগে। দায়িত্ব ভাগ করে নিতে হবে। আর শুধু যে পড়াশোনাই করাতে হবে তা নয়, স্বাস্থ্যসচেতনতা ও অন্যান্য কারিগরি শিক্ষাও দিতে পারো। আবার অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর হয়ে বিভিন্ন উপলক্ষে সুবিধাবঞ্চিতদের নতুন পোশাক বিতরণ, শীতবস্ত্র দেওয়া—এসব কাজে স্বেচ্ছাশ্রম দিতে পারো।

ডাটা বেইস তৈরি

তোমার রক্তের গ্রুপ কী? জানো নিশ্চয়ই। তোমার পরিচিত বড় ভাই বা আপুর? পাশের বাড়ির কোনো চাচা কিংবা পরিচিত চায়ের দোকানির? জেনে নিলে ক্ষতি নেই। উল্টো কারো বিপদে এ তথ্য দারুণ কাজে আসবে। জেনে নাও পরিচিত, অর্ধপরিচিত ও মোটামুটি চেনা সবার রক্তের গ্রুপ। নিজের মতো করে তৈরি করো একটা ডাটা বেইস। হঠাৎ জরুরি দরকারে দেখবে তুমিই হয়ে উঠেছ হিরো। তোমার আত্মীয়দের মধ্যে যাদের গ্রুপিং করা হয়নি, তাদেরটাও জেনে নিতে বায়না ধরো। ডাটা বেইসের মধ্যে রক্তের গ্রুপের পাশাপাশি ফোন নম্বরটা টুকে নিতে ভুল করবে না আবার। এর পাশাপাশি জরুরি সেবাগুলোর নম্বরও রাখতে পারো। আশপাশের কোনো অ্যাম্বুল্যান্সের ফোন নম্বর, কী ধরনের জরুরি চিকিৎসায় কোন হাসপাতালে যেতে হবে সে তথ্য নিয়েও রাখো ডাটা বেইস। আবার দেখা গেল ভুল করে কোনো বন্ধু বাসার চাবি হারিয়ে ফেলেছে, তোমাকেই ফোন করে জেনে নিচ্ছে চাবিওয়ালার খবর। এ ধরনের একটা নিজস্ব ডাটা বেইস থাকলে অন্যের জন্য কিছু করাটা সহজ হয়ে যায় অনেকখানি।

 

অনলাইনে নজরদারি

বিভিন্ন রকম সাইবার ক্রাইম হচ্ছে এখন। খোঁজ করলে দেখবে, তোমাদের কাছের কোনো না কোনো বন্ধুও এর শিকার। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে ভূমিকা রাখতে পারো তোমরা। একটা পেজ বা গ্রুপে ফেসবুক ব্যবহারে সতর্কতাবিষয়ক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে পারো। কেউ কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনার শিকার হলে তার পাশে দাঁড়াতে পারো। সবাই মিলে দাঁড়ালে একটা না একটা সমাধান দাঁড়াবেই। আর এ ধরনের কাজে তোমাদের কয়েকজন মিলে আগে একটা গ্রুপ বানিয়ে ফেললে মন্দ হয় না।

 

অন্যকে শেখাও

চাইলে পরোক্ষভাবেও কাজে আসতে পারো। এর জন্য আগে নিজেকে তৈরি করে নিতে হবে। অনেক অনেক বই পড়তে পারো ও বই ধার দিতে পারো অন্যকে। বন্ধুরা মিলে একটা বুক ক্লাবও খুলতে পারো। বই তো আছেই, চাইলে পাঠ্য বইয়ের এটাসেটা নিয়েও শেয়ার করবে অন্যদের সঙ্গে। সে হতে পারে তোমার জুনিয়র বা অচেনা কেউ। সমাজের উপকার তো হচ্ছে।

এর জন্য চোখ-কানও খোলা রাখবে। দেশ-বিদেশের কোথায় কী হচ্ছে, গ্রাম ও এলাকার খবরাখবরও রাখতে পারো। একদিকে হয়ে গেলে সচেতন নাগরিক, আরেকদিকে নিজের জানা তথ্যগুলো সুযোগ পেলেই অন্যকে জানিয়ে দিতে পারবে।


মন্তব্য