kalerkantho


বিজ্ঞান

অনেক মহাবিশ্ব অনেক পৃথিবী

২০১৪ ফিফা বিশ্বকাপে জার্মানি জিতেছিল, তাই না? কিন্তু যদি বলি জার্মানি ড্র করেছিল বা আর্জেন্টিনা জিতেছিল অথবা খেলাই হয়নি! অবাক হলে? এর সবই সত্য হতে পারে। আর কল্পনার জগত্ বাস্তবে থাকার যে ধারণা, তার নাম মাল্টিভার্স। বিজ্ঞানের চমকপ্রদ আইডিয়াটা নিয়ে জানাচ্ছেন কাজী ফারহান পূর্ব

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অনেক মহাবিশ্ব অনেক পৃথিবী

প্রতিদিন আমাদের অসংখ্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়। যেমন তুমি ম্যাগাজিনটা হাতে নিয়েই দেখছ, কোন লেখাটা পড়বে এবং সচেতন বা অবচেতনভাবেই হয়তো লেখাটি পড়তে শুরু করেছ। তুমি কিন্তু আরো অনেক কিছু করতে পারতে—খেলতে পারতে, ঘুমাতে পারতে, আইসক্রিম খেতে কিংবা বই পড়তে পারতে। এখন যদি বলি, তুমি এর প্রতিটিই করছ। অন্য কোনো জগতে। অন্য কোনো তুমি। একটি বস্তুকণার পক্ষে যা যা ঘটানো সম্ভব, দেখা গেল, তার সব কয়টা একই সঙ্গে ঘটছে। সমান্তরাল মহাবিশ্বে। মাল্টিভার্সের ধারণাটা এমনই।

মহাবিশ্বের শেষ বলে কিছু নেই। আর যার শেষ নেই, তার ভেতর থাকতে পারে না সীমাবদ্ধতা। ঘটতে পারে যেকোনো কিছু। মহাবিশ্বের তুলনায় গ্রহ-নক্ষত্র কিছুই না। আস্ত গ্যালাক্সিই চোখে পড়ে না। আমাদের চেনা মহাবিশ্বে কোটি কোটি নক্ষত্রওয়ালা গ্যালাক্সি আছে ১০ হাজার কোটিরও বেশি। সংখ্যাটা হাবল টেলিস্কোপ থেকে পাওয়া। মূল সংখ্যা এর কয়েক গুণ বেশি বা কয়েক লাখ গুণ বেশি হতে পারে। তবে কিছুতেই এর কম নয়। আমাদের একটি মহাবিশ্ব হলো ওই ১০ হাজার কোটি গ্যালাক্সির সমষ্টি। এখানেই শেষ? শেষের বাইরে কী আছে? এমন প্রশ্ন উঠতেই পারে। এর উত্তর জানতে গিয়েই অনেক বিজ্ঞানী নিয়ে এসেছিলেন মাল্টিভার্স তথা বহুবিশ্বের ধারণা। 

থাকতে পারে হুবহু আরেকটা পৃথিবী। আরেকটা তুমিও থাকতে পারো। আরউইন শ্রোডিংগার নামের এক নামকরা বিজ্ঞানী ১৯৫২ সালে বলেন, ভিন্ন ভিন্ন ঘটনাগুলো একে অন্যের বিকল্প নয়; বরং তারা একই সঙ্গে ঘটে। মাল্টিভার্স সম্পর্কে এখান থেকেই প্রথম ধারণা পাওয়া যায়। আমেরিকান মনোবিদ ও দার্শনিক উইলিয়াম জেমস ‘মাল্টিভার্স’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন। এ ধারণা সম্পর্কে সবচেয়ে ভালো প্রমাণ দেয় স্ট্রিং থিওরি। প্রতিটি কণিকার মধ্যে আছে স্ট্রিং। এক ধরনের কম্পমান তন্তুর মতো কল্পনা করতে পারো ওটাকে। স্ট্রিংয়ের কম্পনের রয়েছে বিভিন্ন বিন্যাস। প্রতিটি বিন্যাসের জন্য আছে আলাদা আলাদা জগত্। মহাকাশবিজ্ঞানী আন্দ্রে লিন্ডে ও ভিটালি ভানচুরিন হিসাব করে বলেছেন, মোট ১০থ৫০০টি (১-এর পর ৫০০ শূন্য) মহাবিশ্ব থাকতে পারে। কারণ প্রতিটি কণার মধ্যে ১০থ৫০০টি স্ট্রিং বিন্যাস সম্ভব (১-এর পরে ৫০০টি শূন্য!)।

মাল্টিভার্স সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেক প্রশ্ন রয়ে গেছে। এখনো অকাট্য যুক্তি বা প্রমাণ মেলেনি এর পক্ষে। ২০১০ সালে স্টিফেন এম ফিনি নামের একজন বিজ্ঞানী উইলকিনসন মাইক্রোওয়েভ অ্যানিসোট্রোপি প্রোব নামের একটি মহাকাশযানের উপাত্ত বিশ্লেষণ করেন এবং প্যারালাল ইউনিভার্সের অস্তিত্ব আছে বলে দাবি করেন। যদিও পরে তা গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। তবে আমাদের অতি পরিচিত বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিংস কিন্তু মাল্টিভার্সের পক্ষেই রায় দিয়েছেন।

মাল্টিভার্স বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক থাকলেও নিঃসন্দেহে এটি একটি মজার বিষয়। এ ধারণা নিয়েই লেখা হয়েছে বহু সায়েন্স ফিকশন। এমনকি জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ফ্ল্যাশেও মাল্টিভার্সের দেখা মিলেছে অনেকবার। মাল্টিভার্স পুরোপুরি সত্য প্রমাণিত হলে হয়তো একদিন তোমার মুখোমুখি এসে দাঁড়াবে আরেক তুমি!


মন্তব্য