kalerkantho


ফোকাস

আঠারো আসুক নেমে

কবি সুকান্ত যেহেতু বলে গেছেন—এ বয়সেই দুঃসাহসেরা উঁকি দেবে, তো তৈরি থাকাই ভালো। অবশ্য তোমাদের যাদের এখনো আঠারো হয়নি, তারাও কিন্তু আঠারোকে চাইলে বানিয়ে দিতে পারো অন্য রকম একটা বছর। আইডিয়াগুলো জড়ো করেছেন জুবায়ের ইবনে কামাল

১৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



আঠারো আসুক নেমে

নতুন বছর হবে ফুড ইয়ার 

সারজিল হাসিব

আচ্ছা, যদি নতুন বছরে টিএসসিতে রুবেল টি-স্টোরে এক দিনের জন্য ফ্রি চা খেতে পারতাম আর পানি-পুরির দোকান এক দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে সারা দিন খেতাম। কী দারুণই না হতো! তার সঙ্গে সারা দিন চারুকলায় গিয়ে ছবি আঁকা দেখতে পারতাম, হাতে কাপের পর কাপ চা নিয়ে! শেষ কিন্তু হয়নি! খাদ্যপ্রেমিকের কি এতটুকুতে মন শান্ত হয়? আসল খাবারের কথা তো বলাই বাকি। সীমান্ত স্কয়ারে রাইসবোল ফ্রি খেতে চাই বছরজুড়ে। আমি স্ট্রিট ফুড বেশি পছন্দ করি, আমার মতে স্ট্রিট ফুডের জন্য টিএসসির চেয়ে ভালো জায়গা হতেই পারে না। আর আমি জীবনে এত রাইসবোল খেয়েছি যে অনেকে আমার নাম জানে না, তবে তার কাছে গিয়ে বললেই হবে যে ওই ছেলেটা, যে সারা দিন রাইসবোল খায়—তাহলেই চিনে যাবে। এ বছর যদি এই আশাগুলো পূরণ হয়, তাতেই এ বছর স্মরণীয় হয়ে থাকবে।


চকোলেটের কারখানা বানাব

মুসাররাত আবির জাহিন

নতুন বছরে একটা চকোলেটের কারখানা বানানোর ইচ্ছা আছে। সব কিছু হবে খাঁটি চকোলেটের! ঘাস, দালান, বাগান, এমনকি সুইমিংপুলটাও চকোলেটের। কারখানায় হাওয়াই মিঠাই দিয়ে বানানো হবে মেঘ, থাকবে আইসক্রিমের পাহাড়। ডার্ক চকোলেটের সুইমিংপুল, ললিপপের গাছ, বিস্কুটের রাস্তা, ক্যারামেলের সূর্য, হোয়াইট চকোলেটের চাঁদ! উমমম...! ভাবতেই খেতে মন চাইছে! ‘চার্লি অ্যান্ড দ্য চকোলেট ফ্যাক্টরি’ তো দেখেছ। ওই রকমই। তবে শুধু কারখানায়ই মন ভরবে না! আমি একটা লম্বা চকোলেটের বার বানাব। সেই বারটাকে গালিচা বানিয়ে দুনিয়া ঘুরব! চকোলেটের গালিচা কেন? ঘুরতে ঘুরতে যদি খেতে ইচ্ছা করে, তাহলে ওতেই কামড় দেব। তবে খেয়াল রাখতে হবে, যাতে দাঁতে পোকা না ধরে। তাহলে লাভের চেয়ে লোকসানই বেশি!


ঘুমিয়ে বিশ্বরেকর্ড করার ইচ্ছা আছে

রেহানা ইসলাম আসপিয়া

নতুন বছর নতুন আমেজ, সঙ্গে নতুন ইচ্ছা। আমার বরাবরই ঘুম নিয়ে গবেষণা বেশি, যার ফলে ছুটির অর্ধেকটা সময় ঘুমিয়ে সেইটার গবেষণায় কাটিয়ে দিই। ২০১৮ সালে এক ঘুম দিয়ে ওয়ার্ল্ড ট্যুর দিয়ে আসতে চাই। ভাবতেই দারুণ লাগছে! তারপর কোনো একটা বড় লাইব্রেরিতে যাব, আর তারা কোনো এক কারণে আমার ওপর খুব খুশি হয়ে পুরো লাইব্রেরির বই আমাকে দিয়ে দেবে। আহ্! কত্ত মজা হবে! আচ্ছা, আইফেল টাওয়ার থেকে পুরো প্যারিস দেখার ইচ্ছাটা কেমন হয়? খুব ভালো হয়। ওহ... হ্যাঁ, একদিন দেশের একজন ভিআইপি হওয়ার খুব ইচ্ছা। আমার জন্য অতিরিক্ত বাহিনী থাকবে। আমি বাইরে গেলে আমার জন্য আলাদা রাস্তা থাকবে। এমন তো আরো কতই না ইচ্ছা আছে।


পৃথিবীর বাইরে চলে যাব

নওরীন মোন্তাহান ছোঁয়া

রাস্তায় যেমন ময়লা, তেমন জ্যাম। এই ময়লার গন্ধ আর জ্যামের যন্ত্রণা আমার ২০১৭ সালকে একেবারে শেষ করে দিয়েছে। তাই ঠিক করলাম, না, ২০১৮ সাল আর এই পৃথিবীতে কাটাব না। ঠিক করে ফেললাম, ২০১৮ সালে আমি মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য নাম লেখাব। দরকার হলে ঘুষ দিয়ে চলে যাব মঙ্গল গ্রহে। কিন্তু মঙ্গল গ্রহে গিয়ে হবে আরেক সমস্যা। মঙ্গলে তখন মাত্র জনবসতি শুরু। মানে নতুন করে সভ্যতা গড়ে তুলতে হবে। চাষাবাদ করতে হবে। আরো কত কী! এর পরেই ভাবলাম, আরে এগুলো তো সেই পৃথিবী নামক গ্রহে আমার পূর্বপুরুষরা করে গেছেন। এটা আবার করার জন্য এত দূর আসব! নাহ, চলে আসব পৃথিবীতে। কিন্তু এসেই আবার ঢাকার বাংলামোটরের জ্যামে বসে থাকতে হবে ভেবেই গা শিরশির করে। তাই ঠিক করলাম, ২০১৮ সালে নিজেই এমন একটা গাড়ি বানাব, যেটা ট্রাফিক আইনে দুনম্বরি দেখলেই তাড়া করবে। আর ইন্টারনেট যে আদৌ কাজ করে, এটা আমি ততক্ষণ বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমি ‘খাবার চাই’ বলার সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেট থেকে খাবারের বৃষ্টি নামবে। তাই ঠিক করেছি, গুগলকে বলে-কয়ে এই প্রযুক্তির ব্যবস্থা করাব। তবে ২০১৮ সালে আসলে যে কাজটা করতেই হবে, সেটা হচ্ছে স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ। স্বপ্নের কাহিনি বাড়ছে তো বাড়ছেই। তাই আপাতত স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করাই ২০১৮ সালের একমাত্র কাজ।


আবর্জনা নিজেই পরিষ্কার করব

মেহের আফরোজ তানজিলা

আমি ভালোবাসি বই পড়তে আর বাধাহীন ঘুরে বেড়াতে। নতুন বছরে আমার এত্ত এত্ত প্ল্যান! প্রথমেই আমার ইচ্ছা নিজেকে আরেকটু গুছিয়ে নেওয়ার, আরেকটু দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করার। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে যেন আমি ‘১৮-এর শেষে বলতে পারি—হ্যাঁ, আমি পেরেছি। আমি পেরেছি নিজের জন্য কিছু করতে। দেশের জন্য কিছু করতে। ওহ, দেশের জন্য কী করব বলা হয়নি। পরের বছর প্রতি শুক্রবার সকালে জগিং শেষে বাসায় ফেরার পথে যত আবর্জনা পাব, সেসব একটা ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেলব। আমার বিশ্বাস, আমার এই কাজ দেখে অন্তত আরো দুজন মানুষ উত্সাহী হবে। তাতে করে বাংলাদেশের রাস্তাগুলো একদিন যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন হবে। নতুন প্রজন্মকে ময়লা দেখে আর নাক সিঁটকাতে হবে না। এর পরেও যারা রাস্তাঘাট নোংরা করবে, আমার ইচ্ছা তাদের জংলি সেজে ভয় দেখাব। ওই দিনই খবরের কাগজে পড়লাম, সমুদ্রটাও ভালো নেই। তাই পরের বছরের একটা বিশেষ ইচ্ছা, একবার হলেও যেন সি ওয়াকিং করে পানির নিচের অবস্থাটা পরখ করে এসে সবাইকে পানিদূষণ রোধে সচেতন করতে পারি। তা পানির নিচে যখন যাচ্ছিই, তিমি মামার সঙ্গে একটা সেলফি তুলে এলে কেমন হয় বলো তো?


ঘুরব এবার নিজের দেশ

ফিদা আল মুগনী

আমার ঘুরে বেড়ানো কিংবা দেশের এখান থেকে সেখানে দুদ্দার দৌড়ে বেড়ানোর ঝোঁক রয়েছে ছোটবেলা থেকে। এই ঘুরে বেড়ানোর মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে নতুন বছরে ভেবেছি, দেশের সবগুলো জাদুঘর ঘুরে দেখব। আমার জানা মতে, বাংলাদেশে এক শ তিনটি জাদুঘর আছে। সে হিসাবে খুব কম জাদুঘর ঘুরে দেখা হয়েছে। গত বছরই দেশের সব জেলার প্রায় সব জাদুঘর সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছি। নতুন বছরে আমার প্ল্যানের যথাসম্ভব বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব। একই সঙ্গে জাদুঘর সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করব, যাতে পরে একই সঙ্গে সব জাদুঘরের তথ্য যে কেউ পেতে পারে।


৩২০ জন বন্ধু বানাব

ফাবিহা বুশরা

সবাই আমার নামে অভিযোগ করে, আমি নাকি ভাব ধরি। আমি নাকি বন্ধুসুলভ ব্যবহার করতে পারি না। সে জন্য ঠিক করেছি, নতুন বছরের প্ল্যানে একটা নতুন জিনিস যোগ করব। আমার ঘোরাঘুরির খুব শখ। আমার ইচ্ছা, নতুন বছরে পুরো বাংলাদেশের সব জেলায় ঘুরতে যাওয়া। আর নতুন প্ল্যানটি হলো, প্রত্যেক জায়গায় গিয়ে অন্তত পাঁচজন করে নতুন বন্ধু বানিয়ে নেওয়া। তাহলে ৬৪টি জেলায় আমার বন্ধু থাকবে ৩২০ জন। বাংলাদেশজুড়ে আমার বন্ধু থাকবে, ভাবতেই ভালো লাগে। তা ছাড়া আমার আদিবাসীদের ভাষা শেখার খুবই ইচ্ছা। তখন রাঙামাটি বা বান্দরবানের চাকমা কোনো বন্ধুর কাছ থেকে ভাষাটা শিখে নেব সহজেই।


আঁকাআঁকি করে ঘর সাজাব

জুবায়ের খান

আমি সব সময় আমার জগত্টাকে ছবির ফ্রেম কল্পনা করি। যখন কোথাও খারাপ কিছু হচ্ছে, তখন আমি আমার ইরেজার দিয়ে দৃশ্যটা মুছে দিতে পারি। কোথাও আনন্দ দেখলে সেটাকে রংতুলি দিয়ে আরো রঙিন করে দিতে পারি। আমার একটা বাড়ি হবে, যেটা হবে আমার হাতে আঁকা। সিঁড়িগুলোতে থাকবে অনেক কার্টুন। বাচ্চারা বেড়াতে এলে কার্টুনের চরিত্র দেখে দেখে সিঁড়ি বেয়ে উঠবে। রান্নাঘরে থাকবে দুই হাতে চামচ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটা কার্টুন। বেডরুমের দেয়ালজুড়ে থাকবে অনেক অনেক ডুডল। কারো যতই মন খারাপ থাকুক, আমার ঘরে ঢুকলেই তার মন ভালো হতে বাধ্য। সিলিংয়ে অবশ্যই আকাশের ছবি। ঠিক মাঝখানে একটা বিশাল ছিদ্র। সেটা দিয়ে আসল আকাশ দেখার ব্যবস্থা থাকবে।


এগারোর কারবার

জিহাদ আশরাফি

২০১৮-কে একটু ব্যাবচ্ছেদ করি। ২+০+১+৮=১১। ২০১৮ সালে আমি ভিত্তি হিসেবে ১১ সংখ্যাটিকেই বেছে নিয়েছি। আসলে প্রত্যেক বছরের শেষে পরবর্তী বছরের জন্য বিশাল পরিকল্পনা সাজিয়ে বসে থাকি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবকে মেলাই, তখন প্রাপ্তি বলতে কিছুই থাকে না। তাই এবার একটু উদ্ভটভাবেই পরিকল্পনা করেছি। কতটা সফল হই, তা সময়ই বলে দেবে। নতুন বছরের প্রতি মাসে অন্তত ১১টি ভালো কাজ করব। প্রতি মাসে কমপক্ষে ১১ জন মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। ১১ দিন মিথ্যা কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ১১টি ভালো বই পড়ব। দেশের ভেতর এ বছর অন্তত ১১টি পর্যটনকেন্দ্রে ভ্রমণ করব। বছরের শেষ দিকে ১১টি অসহায় অক্ষরজ্ঞানহীন পথশিশুকে নিজ দায়িত্বে লেখা শেখানোর পরিকল্পনাও নিয়েছি।


মন্তব্য