kalerkantho

খাবারদাবারে সচেতন হতে হবে

তামান্না চৌধুরী
প্রধান পুষ্টিবিদ, এ্যাপোলো হসপিটালস্, ঢাকা

১০ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



খাবারদাবারে সচেতন হতে হবে

ক্যালরি : অন্যান্য রোগীর তুলনায় কিডনি রোগীদের ক্যালরির পরিমাণ বাড়াতে হয়, যা রোগীকে শক্তি প্রদান করা ছাড়াও সচল ও কর্মক্ষম রাখাসহ কিডনি রোগ মোকাবেলায় সাহায্য করে। সাধারণত প্রতি কেজি ওজনের জন্য রোগীভেদে ৩০ থেকে ৩৫ কিলোক্যালরি পর্যন্ত খাদ্য নির্ধারণ করতে হয়।

 

কার্বোহাইড্রেট : কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে কার্বোহাইড্রেট উপাকারী। মোট ক্যালরি চাহিদার বেশির ভাগই কার্বোহাইড্রেটের মাধ্যমে পূরণ হয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে শর্করা হিসাব করে নির্ধারণ করতে হয়। ভাত, ময়দা, রুটি, চিঁড়া, সুজি, চালের গুঁড়া, চালের রুটি, সাগু, সেমাই ইত্যাদি খাবার কিডনি রোগীর জন্য উত্তম কার্বোহাইড্রেট।

 

প্রোটিন : কিডনি রোগীদের প্রোটিন নিয়ন্ত্রণ করা খুব জরুরি। দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে প্রতি কেজি ওজনের জন্য পয়েন্ট পাঁচ থেকে পয়েন্ট আট গ্রাম প্রোটিন দেওয়া যেতে পারে। ডাল, বাদাম, কাঁঠালের বিচি, শিমের বিচি ইত্যাদি বর্জন করে ডিমের সাদা অংশ, মাছ, মুরগির মাংস ও দুধ বা দই ইত্যাদি হিসাব করে দেওয়া ভালো। পাশাপাশি এড়িয়ে চলতে হবে গরু, খাসির মাংস, কলিজা, মগজ ইত্যাদি।

 

ফলমূল : ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। অক্সালিক এসিড, ইউরিক এসিড, পটাসিয়াম, রক্তচাপ ছাড়াও আরো অনেক কিছু বিবেচনা করে ফল নির্ধারণ করা হয়। তিন-চারটি ফল রোগীভেদে সীমিত আকারে দেওয়া হয়। যেমন—আপেল, পাকা পেঁপে, পেয়ারা ইত্যাদি। তবে একেবারে ফল খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।

 

লবণ : দুই থেকে পাঁচ গ্রাম লবণ নির্ধারণ করতে হবে। খাদ্যে অতিরিক্ত লবণ পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত সোডিয়ামযুক্ত খাবার, যেমন—চিপস, পাপর, চানাচুর, আচার ইত্যাদি বর্জন করতে হবে।

 

তরল বা পানি : তরল নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি। দৈনিক চা, দুধ, পানি সব মিলিয়ে হিসাব করে তরল গ্রহণ করতে হবে। ইডিমা, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা, সোডিয়ামের মাত্রা, ইজিএসআর ইত্যাদি মাত্রার ওপর ভিত্তি করে এক থেকে দেড় লিটার, কখনো কখনো দুই লিটার পর্যন্ত তরল বরাদ্দ করে দেন চিকিৎসকরা। তবে ডায়ালিসিসের রোগীদের এসব খাবারে তেমন বিধি-নিষেধ থাকে না।

মন্তব্য