kalerkantho

রোজকার ভুল

২০ মে, ২০১৮ ০০:০০



রোজকার ভুল

রোজার সময় ইফতার, সাহরি ও রাতের খাবারদাবারে অনেকেই নানা ভুল করে থাকেন। এ ব্যাপারে পরামর্শ দিয়েছেন এ্যাপোলো হসপিটালস্ ঢাকার প্রধান পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী


ভুল ১ : সাহরিতে শুধু পানি পান করে রোজা রাখা।

রোজার সময় পুরো দিন ভালো থাকতে তথা স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহরিতে সঠিক পরিমাণ পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। বরং সাহরিতে একেবারে কিছু না খেয়ে বা শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখলে সঠিক পুষ্টি উপাদানের অভাবে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, ত্বক ও চুলের ক্ষতি, মেজাজ খিটখিটে, কোষ্ঠকাঠিন্য ছাড়া নানা শারীরিক সমস্যা হতে পারে। তাই ভাত, সবজি, মাছ বা মাংস অথবা দুধ-ভাত-কলা বা এমন কোনো মেন্যু সাহরিতে রাখুন, যা থেকে কার্বোহাইড্রেট ফ্যাট ও প্রোটিন—এই তিনটি পুষ্টি উপাদানই পাওয়া যায়।

 

ভুল ২ : রাতের খাবার না খেয়েই শুয়ে পড়া।

অনেকেই একটু বেশি পরিমাণে ইফতার খেয়ে রাতে আর খেতে চান না বা খান না। আবার অনেকে ইচ্ছা করেই রাতে না খেয়ে সরাসরি সাহরি খান। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর।

রোজার সময় দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে ইফতার, রাতের খাবার ও সাহরির খাবার। রাতে একেবারে কিছুই না খেলে বিপাক ধীরগতিতে হয়, এতে রোজা রেখেও ওজন বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, এসিডিটির সমস্যা হয়। ভোররাতে সাহরি খাওয়ার সময়ও অস্বস্তি কাজ করে।

তাই পরিমিত ইফতারের পর দুধ-রুটি, রুটি-সবজি, খেজুর-দুধ, দুধ-মুড়ি, চিঁড়া-দই বা সামান্য দুধ-ভাত হতে পারে আদর্শ রাতের খাবার।

 

ভুল ৩ : ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে রোজার সময় ডায়েট করা।

অনেকেই ওজন নিয়ে অনেক চিন্তিত থাকেন বলে সারা দিন রোজা রেখেও একেবারে কার্বোহাইড্রেট না খাওয়া বা প্রয়োজনের তুলনায় কম খাওয়া অথবা একেবারে তেল বাদ দিয়ে খাবার খাওয়ার মতো ডায়েট করে থাকেন। মনে রাখতে হবে, এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এসবের ফলে লিভারে ফ্যাট জমা, রক্তে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা দেখা দেওয়া, মাথা ঘোরানো, ত্বক ও চুলের মারাত্মক ক্ষতি হওয়াসহ বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তাই ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে রোজার সময় ডায়েট নয়। স্বাভাবিক খাদ্যতালিকা মেনে চলুন, ভালো থাকবেন।

 

ভুল ৪ : তাড়াতাড়ি সাহরি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়া।

ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটার জন্য অনেকেই তাড়াতাড়ি সাহরি খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। এতে অনেক সময় পরিমাণমতো পানি পান করা হয়ে ওঠে না। এর ফলে দিনের বেলায় পানির ঘাটতিজনিত ডিহাইড্রেশন হতে পারে। ক্লান্তিভাব, অবসাদ, গ্যাস্ট্রিক, মাথা ঘোরানো ছাড়াও নানা সমস্যা দেখা দেয়।

তাই রোজার সময় রাতে একটু তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা করুন এবং আজানের কিছু আগে উঠে প্রথমে কিছুটা পানি পান করুন এবং সাহরি শেষে নামাজ পড়ে ঘুমান। আজানের কিছু আগে খেলে পুরো রোজার দিনের ভাগে আপনি এনার্জিটিক থাকতে পারবেন। পিপাসা অথবা ক্ষুধা খুব একটা লাগবে না। আপনি থাকবেন বেশ সতেজ।

 



মন্তব্য