kalerkantho


শীত সহায়ক কিছু খাবার

মাহবুবা চৌধুরী   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ফুলকপি

 

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘কে’, খনিজ লবণ, ক্যারোটিনয়েড এবং ফ্লাবিলয়েড নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড ও ক্লোরিন। এসব উপাদান সর্দি-কাশি, ফ্লু ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধসহ মস্তিষ্কের জন্য বেশ উপকারী। তবে যাদের থাইরয়েড ও কিডনির পাথুরি রোগের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই সবজি এড়িয়ে চলা উচিত।

 

বাঁধাকপি

বাঁধাকপিতে থাকে এমাইনো এসিড, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ঠাণ্ডাজনিত নানা সমস্যায় বাঁধাকপি বেশ কার্যকর। এর পুষ্টিগুণ ক্যান্সারের মতো কঠিন রোগও প্রতিরোধক। এক কাপ বাঁধাকপিতে ৩৩ ক্যালোরি এবং তিন গ্রাম খাদ্য-আঁশ রয়েছে। রান্না করে বা সালাদ হিসেবে এটি খাওয়া যায়।

 

রসুন

রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ লবণ। অ্যাজমা, ব্রংকাইটিস, নিউমোনিয়া, কাশি ইত্যাদি রোগে ভালো কাজ করে। ফুসফুস, ব্রংকিয়াল টিউব, সাইনাসের গহ্বরে মিউকাস জমতে দেয় না রসুন। শীতকালে কালিজিরা বা সরিষার সঙ্গে রসুন মিশিয়ে ভর্তা খাওয়া যেতে পারে। আবার রসুনের স্যুপ রান্না করেও খাওয়া যায়।

 

দুধ/ডিম

রোদের সংস্পর্শে শরীরে ভিটামিন ‘ডি’ তৈরি হলেও শীতকালে রোদের তেজ কিছুটা কম থাকে বলে দেহে ক্যালসিয়াম শোষণ কম হওয়াসহ ভিটামিন ‘ডি’ তৈরিতে ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে হাড় ও দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং মাংসপেশিরও কার্যকারিতা অনেকাংশে ব্যাহত হয়। তাই ডিম ও দুধ বেশি খাওয়া উচিত, কেননা এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ‘ডি’।

 

গাজর

মূলজাতীয় এই সবজিতে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় বিটা ক্যারোটিন।  শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, ফুসফুসের প্রদাহজনিত সমস্যা নিরূপণে সাহায্যসহ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করে গাজর। এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্টগুলো ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামত করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, আর্দ্রতা বজায় রাখে এবং শুষ্কতা রোধ করে। কাঁচা সালাদ বা স্যুপ হিসেবে এ খাবার খাওয়া যেতে পারে।

 

পালং শাক/সরিষার শাক

পালং ও সরিষার শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ আয়রন, ভিটামিন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক, ফোলেট ও উচ্চ মাত্রার অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। এসব উপাদান ত্বকের ক্ষতিসাধন ও চুল পড়া, রক্তাল্পতা রোধ করতে বেশ ভুমিকা রাখে। কাঁচা সরিষার শাক ভর্তা বা সালাদে খেলে ঠাণ্ডা লাগার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

 

লেখক : পুষ্টিবিদ

 ডায়েট প্ল্যানেট অ্যান্ড নিউট্রিশন

কনসালটেন্সি, লালমাটিয়া, ঢাকা



মন্তব্য