kalerkantho


ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস

ডা. গুলজার হোসেন    

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ডায়াবেটিস রোগের বড় ধরনের জটিলতার নাম ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস। এ ক্ষেত্রে রোগীর রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে গিয়ে কিটো এসিড নামের একধরনের এসিড অতিরিক্ত তৈরি হতে থাকে। এটি একটি জরুরি অবস্থা, যাতে মৃত্যুঝুঁকিও থাকে।

 

যেভাবে হয়

ইনসুলিন হরমোনের কাজ সুগার (গ্লুকোজ) ভেঙে শক্তি উৎপাদন করা। কোনো কারণে শরীরে পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি না হলে বিকল্প উপায়ে ফ্যাট ভেঙে সেই শক্তি জোগান দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় উপজাত হিসেবে তৈরি হয় কিটো এসিড। খুব বেশি মাত্রায় যখন কিটো এসিড তৈরি হয়, তখন শরীরে হঠাৎ করে নানা রকম প্রতিক্রিয়া হয়। এটাই ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস।

 

কারণ

ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হলেই মূলত এটি হয়। তবে টাইপ ১ ডায়াবেটিক রোগীদের ডায়াবেটিক কিটো এসিডোসিস হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

বিভিন্ন কারণে ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত হতে পারে।

যেমন—

♦ ডায়াবেটিক রোগীরা ঠিকমতো ইনসুলিন না নিলে

♦ কোনো ইনফেকশন হলে

♦ হার্ট অ্যাটাক হলে

♦ মদ্যপান করলে

♦ স্টেরয়েড নিলে।

 

লক্ষণ

♦ প্রচণ্ড তৃষ্ণা

♦ ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ

♦ বমি ভাব অথবা বমি হওয়া

♦ শ্বাসকষ্ট

♦ ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা

♦ দুর্বলতা, ক্ষুধামান্দ্য, অবসাদ

♦ পেটে বা বুকে ব্যথা

♦ নিঃশ্বাসে এক প্রকারের দুর্গন্ধ

♦ সংজ্ঞাহীন হয়ে যাওয়া।

 

পরীক্ষা

♦ রক্তে সুগারের মাত্রা

♦ প্রস্রাবে কিটোনের মাত্রা।

 

করণীয়

ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলেই দ্রুত গ্লুকোমিটারে ব্লাড সুগার চেক করা উচিত। ঘরে বসে প্রস্রাবের কিটো এসিড মাপার কিট রয়েছে। এগুলো ব্যবহার করে মাত্রা দেখা যেতে পারে। ওপরের লক্ষণগুলোর সঙ্গে রক্তের সুগারের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে (১৬.৭ মিলিমোল/ডেসিলিটারের বেশি) এবং প্রস্রাবে কিটোনের উপস্থিতি থাকলে রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। বেশি করে স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

হাসপাতালে নিয়ে রোগীকে পর্যাপ্ত স্যালাইন দিতে হবে, বিশেষ পদ্ধতিতে শিরায় ইনসুলিন দিতে হবে। দ্রুত চিকিৎসা দিতে না পারলে এ রোগে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে।

 

লেখক : রেসিডেন্ট, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)


মন্তব্য