kalerkantho


নবজাতকের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা

ডা. মো. আফজাল মাহফুজুল্লাহ   

৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নবজাতকের প্রাথমিক চক্ষু পরীক্ষা

নিবজাতক ভূমিষ্ঠের সঙ্গে সঙ্গেই নতুন অভিজ্ঞতার জন্ম হয় প্রত্যেক মা-বাবার। প্রাথমিকভাবে একজন প্রসূতি বিশেষজ্ঞ ও নবজাতক বিশেষজ্ঞের নজরে আসে শিশুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ। এ সময় তাঁরা প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। কিন্তু সদ্যোভূমিষ্ঠ শিশুর চক্ষু পরীক্ষা করাটাও কোনো কোনো ক্ষেত্রে জরুরি। বিশেষ করে অপরিণত শিশুদের ক্ষেত্রে।

 

রেটিনোপ্যাথি অব প্রি-ম্যাচুরিটি সাধারণত গর্ভধারণের পর ৩৮ থেকে ৪১ সপ্তাহের মধ্যে শিশু জন্মগ্রহণ করার কথা; কিন্তু যেসব শিশু গর্ভধারণের পর ৩৭ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে, তারাই অপরিণত নবজাতক।

এসব নবজাতকের নানা রকম শারীরিক সমস্যা দেখা যায়। এর মধ্যে চোখের সমস্যা অন্যতম। জন্মের মাত্র কয়েক দিন আগে চক্ষু গোলক (eye ball) পরিণত হয়। অপরিণত শিশুর চোখও অপরিণত থাকে বিধায় নানা রোগ দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে চোখের রেটিনার যে বিশেষ পরিবর্তন ও সমস্যা দেখা দেয় তা-ই রেটিনোপ্যাথি অব প্রি-ম্যাচুরিটি (ROP)।

এটা এমন রোগ, যা কিছু কিছু অপরিণত নবজাতকের রেটিনা ও এর রক্তনালিকে আক্রান্ত করে। যেসব অপরিণত নবজাতক জটিল সমস্যার জন্য নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকে, তাদের ROP-এর লক্ষণ দেখা দেয় এবং তাদের রক্তনালি অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকে। ফলে রেটিনায় রক্তক্ষরণ হয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে রেটিনা ছিঁড়ে যায়। এ সময় চিকিৎসা না নিলে ছয় মাসের আগেই শিশু পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যেতে পারে। কাজেই অপরিণত নবজাতক শিশুর একটি মারাত্মক সমস্যা এটি।

 

করণীয়

যেসব নবজাতক ৩৫ সপ্তাহের আগে জন্মগ্রহণ করে এবং যাদের ওজন দুই কেজির কম তাদের জন্মের তিন-চার সপ্তাহের মধ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রেটিনা বিশেষজ্ঞ দ্বারা এনআইসিইউতে রেটিনা পরীক্ষা করাতে হবে।

রেটিনা পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এক বা দুই সপ্তাহ পর পর পরীক্ষা করাতে হবে। পরীক্ষায় ROP ধরা পড়লে লেজার চিকিৎসা করাতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশনও লাগতে পারে। মনে রাখতে হবে, সময়মতো (অবশ্যই জন্মের ৩০ দিনের মধ্যে) অপরিণত নবজাতকের চক্ষু পরীক্ষা ও সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের মাধ্যমে শিশুকে সম্ভাব্য অন্ধত্ব থেকে বাঁচানো যায়।

 

চিকিৎসা

পেরিফেরাল রেটিনার যে অংশে রক্তনালি তৈরি হয়, সে অংশ লেজার বার্ন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে সে অংশে নতুন রক্তনালি তৈরির আশঙ্কা থাকে না। নতুন ও অপর্যাপ্ত রক্তনালি থেকে রক্তক্ষরণও হয় না।

 

চোখের ইনজেকশন

চোখের ইনজেকশনের মাধ্যমেও ক্ষেত্রবিশেষে রেটিনোপ্যাথি অব প্রি-ম্যাচুরিটির চিকিৎসা করা হয়। সে ক্ষেত্রে পেরিফেরাল রেটিনাল ইম্ফেমিয়া তৈরি হয়। ফলে Intravitreal Inj Anti VEGF দেওয়া হয়, যাতে VEGF Load কমে যায় ও নতুন অপরিপক্ব রক্তনালি তৈরি হয় না।

তাই প্রাথমিক পর্যায়ে রেটিনোপ্যাথি অব প্রি-ম্যাচুরিটি  নির্ণয় করে চিকিৎসার ব্যাপারে  সচেতন হতে হবে।

 

লেখক : মেডিক্যাল অফিসার

চক্ষু বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)


মন্তব্য