kalerkantho


পেপ টেস্টে জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধ

ডা. নুসরাত জাহান   

৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



খুব সহজ একটি পরীক্ষা। এতে জরায়ু মুখের কোষ নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। এ পরীক্ষায় কোষের এমন কিছু পরিবর্তন লক্ষ করা হয়, যা ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। অর্থাৎ এ পরীক্ষাটি জরায়ু ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা নির্ণয় করতে সক্ষম; যখন এর সহজেই চিকিৎসা সম্ভব।

 

কখন এই পরীক্ষাটি করতে হবে

কোনো ধরনের জরায়ুর সমস্যা থাকলেই কেবল এ পরীক্ষাটি করতে হবে, তা কিন্তু নয়। ২১ থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত প্রত্যেক মহিলার প্রতি তিন বছর পর পর এ পরীক্ষাটি করা উচিত। যদি পেপ টেস্টের সঙ্গে এইচপিভি-ডিএনএ টেস্টের ফল ঠিক থাকে, তবে প্রতি পাঁচ বছর পর পর এ টেস্টটি করা যাবে। গর্ভাবস্থায়ও এ পরীক্ষাটি করা যায় এবং কখনো কখনো দরকার হয়।

কিভাবে পরীক্ষাটি করা হয়

এ পরীক্ষার জন্য চামচের মতো একটি যন্ত্র মাসিকের রাস্তায় প্রবেশ করিয়ে ব্রাশ ও কাঠির সাহায্যে জরায়ু মুখ থেকে তরল কোষ নিয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এতে রোগী ব্যথা পান না, তবে সামান্য অস্বস্তি লাগতে পারে।

কী করতে হবে

এ পরীক্ষার ফলাফলে যদি কোষের অস্বাভাবিক কোনো লক্ষণ ধরা পরে, তাতেই ভয় পাবেন না।

কারণ এটি সাধারণভাবে ক্যান্সার বোঝায় না। অনেক সময় জরায়ুতে জীবাণুর সংক্রমণ বা প্রদাহ থেকেও অস্বাভাবিক ফলাফল হতে পারে। সংগৃহীত কোষের পরিমাণ কম থাকলে এটি আবার করার দরকার হয়। তবে পরীক্ষার ফলাফলে ক্যান্সারের পূর্বাবস্থা দেখা গেলে কল্পস্কপি ও বায়োপসি করা হয়।

বায়োপসির ফল দেখে অথবা অনেক সময় কল্পস্কপি করার সময়ই চিকিৎসা করা হয়। এর বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিগুলো হচ্ছে লিপ, কোল্ড কোয়াগুলেশন, কটারি, লেজার। এ চিকিৎসার পরও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত ফলোআপ করে যেতে হবে।

বিকল্প টেস্ট আছে কি

পেপ টেস্টের একটি বিকল্প হচ্ছে ভায়া টেস্ট, যা আরো সহজে ও কম খরচে করা যায়। তবে সব ল্যাবরেটরিতে ভায়া টেস্ট হয় না। সাধারণত সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহজেই ভায়া টেস্ট করা যায়।

 

সহকারী অধ্যাপক, অবস-গাইনি

ডেলটা মেডিক্যাল কলেজ, মিরপুর, ঢাকা

 


মন্তব্য