kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রাশ করতে কি টুথপেস্ট জরুরি?

ডা. এম আই আকাশ

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



টুথপেস্ট ছাড়াও কিন্তু ব্রাশ করা যায়। বহু ক্ষেত্রে টুথপেস্ট ছাড়া ব্রাশ করতে ডেন্টিস্টরাও বলে থাকেন।

যেমন—ছোট শিশু, যার মাত্র দাঁত উঠেছে সে কিন্তু ব্রাশ করতে গেলেই পেস্ট গিলে ফেলছে। তখন ব্রাশ করার অভ্যাস তৈরি করতে ডেন্টিস্টরা টুথপেস্ট ছাড়াই তাকে ব্রাশ করাতে বলেন। আবার কিছু কিছু মানুষ টুথপেস্ট মুখে নিলে বমি করেন বা বমি করার উপক্রম করেন। তখনো পেস্ট ছাড়াই ব্রাশ করতে বলা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্রাশে টুথপেস্ট ব্যবহার করাটা ভালো। কিন্তু কেন টুথপেস্ট ব্যবহার করা উচিত?

প্রধান কারণ, সঠিক পদ্ধতি অবলম্বন করে টুথপেস্ট ব্যবহার করলে সহজেই দাঁতের চারপাশে লেগে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করা যায়। এই খাদ্যকণা যথাসময়ে পরিষ্কার না করলে প্লাক ও ক্যালকুলাস তৈরি করে এবং সেখানে এসে জমা হয় অসংখ্য জীবাণু। যা পরবর্তী সময়ে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ সৃষ্টি করতে পারে।

দ্বিতীয় কারণ, টুথপেস্টে সাধারণত ফ্লোরাইড থাকে। এটি দাঁতের গঠন মজবুত করে, ক্ষতিগ্রস্ত এনামেল রিমিনারেলাইজ করে ক্ষতি কমায়।

তৃতীয় কারণ, টুথপেস্টে এমন কিছু উপাদান থাকে, যা সাবানের মতো ময়লা পরিষ্কারে সহায়তা করে।

চতুর্থ কারণ, টুথপেস্টে এমন কিছু ফ্লেভার ও মাউথওয়াশ ব্যবহার করা হয়, যা মুখের দুর্গন্ধ দূর করে, শ্বাসে সজীবতা আনে।

 

কী টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে?

টুথপেস্টে ফ্লোরাইড থাকলে কোন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট ব্যবহার করলেন সেটি জরুরি নয়। তবে সব টুথপেস্টের সব উপাদান একই রকম নয় বলে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট অদলবদল করে ব্যবহার করা উচিত। যেমন—অনেক টুথপেস্টে থাকে স্ট্রোনশিয়াম ক্লোরাইড। এ উপাদান সমৃদ্ধ টুথপেস্ট ব্যবহার করলে দাঁতে শিরশিরে অনুভূতি কম হয়। তাই বহু ক্ষেত্রে দাঁতে শিরশিরের রোগীর জন্য ডেন্টিস্টরা এ ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

টুথপেস্ট ব্যবহারের জন্য নিরাপদও হতে হবে। সাধারণত ডেন্টিস্টদের জাতীয় সংগঠন বা রাষ্ট্রীয় মান সংস্থা থেকে নিরাপত্তাসম্পর্কিত সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। কেনার সময়ই টুথপেস্ট ওই সব সংস্থার অনুমোদিত কি না তা দেখে কেনা উচিত।

দাঁত শিরশির করলেই যে শুধু স্ট্রোনশিয়াম ক্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করতে হবে তা নয়। পটাশিয়াম নাইট্রেটসমৃদ্ধ টুথপেস্টেরও একই গুণ আছে। এগুলো দাঁতের এনামেলের নিচে থাকা ডেন্টিনের টিবিউলগুলো বন্ধ করে দিয়ে শিরশির করার অনুভূতি কমায়। অনেকে মনে করেন, এ ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত শিরশির বন্ধ হয়ে যাবে। প্রকৃতপক্ষে শিরশির অনুভূতি কমানোর জন্য বা বন্ধ করার জন্য কমপক্ষে এক মাস নিয়মিত এ ধরনের টুথপেস্ট ব্যবহার করা দরকার।

যেসব টুথপেস্টে বেকিং সোডা বা হাইড্রোজেন পারক্সাইড থাকে, সেগুলোতে দাঁত বাড়তি উজ্জ্বল হয়। মুখের ভেতরটা বেশি পরিষ্কার হয়। দুর্গন্ধ দূর হয়ে শ্বাসে সজীবতা অনুভূত হয়। ধূমপান বা পান খাওয়ার কারণে কারো কারো দাঁতে বাড়তি দাগ পড়ে, তাঁদের জন্য দরকার এমন টুথপেস্ট, যা ব্য টারটার বা দাগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এসব টুথপেস্টে পাইরোফসফেটেজ থাকে, যা ব্যবহারে দাঁতের গায়ে ক্যালকুলাস বা প্লাক জমতে পারে না। কিছু টুথপেস্টে হোয়াইটনিং বা সাদা করার জন্য কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়। এসব টুথপেস্ট কিছুতেই শিশুদের ব্যবহারের জন্য নয়।

 

কতটুকু টুথপেস্ট দরকার

বিজ্ঞাপন দেখে মনে হয়, টুথপেস্ট বেশি ব্যবহার করা উচিত। ব্রাশের মাথা বা ব্রিসলযুক্ত অংশের পুরোটাজুড়েই টুথপেস্ট নেওয়া উচিত। আসলে ব্রিসলযুক্ত অংশের চার ভাগের এক ভাগ জুড়ে টুথপেস্ট নেওয়া উচিত। শিশুদের ক্ষেত্রে পেস্টের পরিমাণ আরো কম হতে হবে। কারণ শিশুরা পেস্ট গিলে ফেলে। পেস্ট কিছুটা পেটে গেলে তেমন অসুবিধা নেই; কিন্তু বেশি পরিমাণে যাওয়া বিপদের কারণ হতে পারে।

 

পেস্ট কি ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করতে পারে?

ক্ষয়রোগ বা ক্যারিজ প্রতিরোধে ফ্লোরাইডযুক্ত পেস্টের কিছুটা ভূমিকা আছে। কিন্তু আসল কাজ নির্ভর করে কিভাবে ব্রাশ করা হলো, কতটুকু সময় নিয়ে ব্রাশ করা হলো, কোন সময় ব্রাশ করা হলো ইত্যাদির ওপর। সাধারণত প্রতিবেলা খাবারের পর ব্রাশ করা ভালো। প্রতিবার ব্রাশ ছাড়াও ফ্লস করে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে হবে।

 

কনসালট্যান্ট, রিসেন্ট ডেন্টাল হেলথ, হাতিরপুল, ঢাকা।


মন্তব্য