kalerkantho


আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

হৃদরোগবিষয়ক বাছাই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নাজির আহমেদ চৌধুরী রন্জু

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

আমার বয়স ২৯, ওজন ৭৪ কেজি, উচ্চতা পাঁচ ফুট চার ইঞ্চি। আমার রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু হৃত্স্পন্দন বা পালস রেট একটু বেশি থাকে। সাধারণত তা ১০০ বা এর কাছাকাছি থাকে। এ অবস্থায় আমার কি কোনো চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত?

তৌহিদ আনিস ঘিওর, মানিকগঞ্জ।

 

আপনার উচ্চতা ও বয়স অনুপাতে ওজন বেশি। সবার আগে তাই আপনাকে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা ভালো যে আপনার রক্তচাপ ঠিক থাকে। সাধারণত মানুষের হৃদস্পন্দন থাকে ৬০ থেকে ১০০-এর মধ্যে। গড়ে ৭০-৮০। যদিও আদর্শ হৃদস্পন্দন হচ্ছে ৭২; কিন্তু একটু কমবেশি স্বাভাবিক হিসেবেই মনে করা হয়।

যদি এ হৃদস্পন্দন আপনার মধ্যে কোনো শারীরিক উপসর্গ তৈরি না করে—যেমন বুক ধড়ফড় করা, হাঁপিয়ে ওঠা—তাহলে ওজন কমানো ছাড়া অন্য কিছু করার দরকার হবে না। কিন্তু বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গ যদি থাকে, তবে হৃদরোগ-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, যেমন ইসিজি, এক্স-রে, হরমোন ইত্যাদি করে ওষুধ দিলে সুস্থ হতে পারবেন।

 

আমার বয়স ৩২, ওজন ৬৬ কেজি, উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। কিছুদিন আগে আমার বাবার হার্টে ব্লক ধরা পড়েছে। তাঁর বয়স ৬০-এর মতো। শুনেছি মা-বাবার হার্টের অসুখ থাকলে সন্তানের হতে পারে। তাই আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করতে চাই। সে জন্য জানতে চাই আমার হার্টে ব্লক বা অন্য কোনো সমস্যা আছে কি না, তা বুঝতে কী কী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে। আমার সেগুলো করা উচিত কি না?

ইসতিয়াক ইকবাল মির্জাপুর, টাঙ্গাইল।

 

আপনার বয়স মাত্র ৩২। সাধারণত এই বয়সে জন্মগতভাবে হার্টের গঠনগত কোনো ত্রুটি না থাকলে তেমন কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তবে এটা নিশ্চিত করা যেত যদি হার্টের রোগের কোনো উপসর্গ আছে কি না, তা জানাতেন। হার্টের অসুখের কিছু উপসর্গের মধ্যে আছে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, বুক ধড়ফড় ইত্যাদি। যদি এগুলো না থাকে, তবে চিন্তিত হওয়ার তেমন কারণ নেই; কিন্তু ভবিষ্যতে যাতে হার্টের অসুখ না হয়, সে জন্য এখন থেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, ধূমপান বন্ধ করতে হবে, অতিরিক্ত টেনশন করা যাবে না, পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে, চর্বিযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। আর যদি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেই চান, সে ক্ষেত্রে প্রথমেই দেখে নিন রক্তে চিনির মাত্রা, কোলেস্টেরলের পরিমাণ, বুকের এক্স-রে, ইসিজি। এগুলো করে যদি ডাক্তার মনে করেন কোনো সমস্যা আছে, তবে এনজিওগ্রাম করে নিশ্চিত করবেন রোগের বিষয়ে।

 

আমার মা ডায়াবেটিক রোগী, বয়স ৫৬ বছর। কিছুদিন আগে হার্টের সমস্যা চেক করতে ডাক্তারের পরামর্শে এনজিওগ্রাম করা হয়। চার মাসের মতো হয়েছে, কিন্তু কিছু খেলেই বমি করেন। এনজিওগ্রামে হার্টে কোনো ব্লক পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর উচ্চ রক্তচাপ আছে। স্থানীয় ডাক্তার দেখানো হয়েছে, কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।

সুমন হোসেন মুলাদী, বরিশাল।

 

ডায়াবেটিক রোগীদের সাধারণত ইস্কেমিক হার্ট ডিজিজ বা আইএইচডি বেশি থাকে। তাই হার্টের পরীক্ষা করা জরুরি। আবার তাঁর উচ্চ রক্তচাপও আছে। সে জন্য নিয়মিত হৃদরোগ-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এনজিওগ্রাম করার পর কিছু রোগীর বমিসহ আরো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এটা কিছুদিন পর্যন্ত থাকতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি তেমন কোনো অসুবিধা হয় না। যেহেতু আপনার মায়ের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাই লিভার-কিডনিজনিত জটিলতা আছে কি না দেখতে হবে। কারণ লিভার-কিডনিজনিত জটিলতায় রক্তে লবণ-পানির ভারসাম্য নষ্ট হয়েও বমির উপসর্গ দেখা দিতে পারে।


মন্তব্য