kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

ডায়াবেটিস ও হরমোনবিষয়ক বাছাই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

 

আমার বয়স ৪২, ওজন ৮০ কেজি, উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট। বাবার ডায়াবেটিস ছিল।

মায়ের নেই। আমি কখনো ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাইনি। কিন্তু সাধারণভাবে মনে হয়, এখনো ডায়াবেটিসের লক্ষণ নেই। শুনেছি ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া ডায়াবেটিসের লক্ষণ। ইদানীং আমার তা হচ্ছেও। অন্য কোনো শারীরিক অসুবিধা নেই। আমার কী করা উচিত? আমার কি ডায়াবেটিস হতে পারে?

মোমেন উদ্দিন সিলেট

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, পানির অতিরিক্ত পিপাসা পাওয়া, বেশি বেশি ক্ষুধা লাগা, ওজন কমে যাওয়া, বিনা কারণেই ক্লান্তি ও দুর্বলতাবোধ, চোখে ঝাপসা দেখা, সহজেই বিরক্তিবোধ ইত্যাদি ডায়াবেটিসের প্রাথমিক কিছু লক্ষণ। কিন্তু লক্ষণ যে সব সময় প্রকাশ পাবে তা নয়। অনেকের ক্ষেত্রেই কোনো রকম লক্ষণ প্রকাশ ছাড়াই রক্তে অতিরিক্ত চিনি পাওয়া যায়। তাই ডায়াবেটিস সন্দেহ হলে দেরি না করে কিংবা অনুমানের ওপর নির্ভর না করে রক্তে চিনির মাত্রা পরীক্ষা করা উচিত। এখন হাতের কাছেই সহজ পরীক্ষায় ডায়াবেটিস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এ ছাড়া জিটিটি বা গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট করা ভালো। এতে প্রথমে খালিপেটে রক্তের নমুনা নেওয়া হয়। এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খেয়ে দুই ঘণ্টা পর আবার রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে ডায়াবেটিস হয়েছে কি না, ডায়াবেটিসের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে গেছেন কি না তা জানা যায়। এ পরীক্ষাটিও সহজ ও কম ব্যয়সাপেক্ষ।

আপনার ওজন বেশি আছে। অতিরিক্ত ওজন ডায়াবেটিসের অন্যতম কারণ। তা ছাড়া বাবার ডায়াবেটিস থাকায় আপনার ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি আছে। তাই এখন থেকেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন। তাহলে বংশগত কারণে ডায়াবেটিস হওয়ার যে ঝুঁকি আছে, তা অনেকখানি কমে যাবে।

 

আমার বয়স ৩২ বছর। দুই বছর ধরে ডায়াবেটিসে ভুগছি। প্রথম দিকে মুখে সেবনযোগ্য একটা ওষুধেই সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকত। এখন তিনটি ওষুধ সেবন করতে হয়। সম্প্রতি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা ধরা পড়ার পর আবার ডাক্তারের কাছে যাই। তিনি আমাকে মুখে সেবনযোগ্য ওষুধ বদলে ইনসুলিন নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আমি ইনসুলিন নিতে ভয় পাই। ইনজেকশনের ভয় তো আছেই। তা ছাড়া শুনেছি, একবার ইনসুলিন নেওয়া শুরু করলে বাকি জীবন আর ওটা বন্ধ করা যায় না। আমার কী করা উচিত?

আশরাফ আলী জোয়ার্দার গজারিয়া, মুন্সীগঞ্জ

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে মুখে সেবনযোগ্য ওষুধ ও ইনসুলিন ইনজেকশন দুটোই প্রয়োগ করা হয়। পাশাপাশি রোগীকে কিছু ব্যায়াম, যেমন প্রতিদিন ৪০ মিনিট হাঁটার কথাও বলা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত মুখে সেবনযোগ্য ওষুধ আগে দেওয়া হয়। যদি তাতে রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তবে ওষুধ না বদলালেও চলে। কিন্তু যদি রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত না থাকে, তবে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ইনসুলিন নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সেটাই যুক্তিযুক্ত। ইনসুলিন নিতে অনেকেই ভয় পান। বিশেষ করে ইনজেকশন হিসেবে নিতে হয় বলে। এই ইনজেকশনে এত সরু সুই ব্যবহার করা হয় যে ব্যথার অনুভূতি হয় না। এসব ইনজেকশন এত সহজ যে রোগী নিজেও নিতে পারে। তাই ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তা ছাড়া বাজারে বহু ধরনের ইনসুলিন পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে লং অ্যাকটিং বা ইন্টারমিডিয়েট অ্যাকটিং ধরনের ইনসুলিন আছে—যা দিনে একবার বা দুবার নিলেই চলে। আবার ইনসুলিন একবার নিলেই যে তা সারা জীবন চালাতে হবে তা নয়। রক্তে চিনির মাত্রা কমে এলে বা নিয়ন্ত্রণে এলে মুখে সেবনযোগ্য ওষুধ আবার নেওয়া যায়।

 

আমার বয়স ৫৬, উচ্চতা সাড়ে পাঁচ ফুট, ওজন ৭২ কেজি। উচ্চ রক্তচাপসহ অন্যান্য সমস্যা নেই। কিন্তু কিছুদিন আগে পুরো শরীর পরীক্ষা বা হোল বডি চেকআপ করলে রক্তে অতিরিক্ত চিনির উপস্থিতি ধরা পড়ে। আমার যদিও ডায়াবেটিসের কোনো লক্ষণ একেবারেই ছিল না। তবে এটা ঠিক যে আগে সেভাবে ডায়াবেটিস চেকও করিনি। ডাক্তার আমাকে একটি খাদ্যতালিকা তৈরি করে দেন এবং নিয়মিত চোখ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপের পরীক্ষা করতে বলেন। আমি ৪১ বছর বয়স থেকেই চশমা ব্যবহার করি। কিডনির পরীক্ষা কখনো করিনি। তাই তা ঠিক আছে কি না বুঝতে পারছি না।

আফিজ ইকবাল খান ধুনট, বগুড়া 

ডায়াবেটিসের সঙ্গে কিডনি, হার্ট ও চোখের রোগের সম্পর্ক আছে। তবে ডায়াবেটিস হলেই এই রোগগুলো হবে তা নয়। যদি রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রিত না থাকে তবে চোখ, কিডনি ও হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে বলা হয়। অনেক সময় দেখা যায়, রোগীর অজান্তেই অন্যান্য অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিডনি ভালো আছে কি না বুঝতে কিডনি ফাংশন টেস্ট, যেমন রক্তের সিরাম ক্রিয়েটিনিন মাত্রা পরীক্ষা করান। ডায়াবেটিসের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে কিডনির ক্ষতি বেশি হয়।


মন্তব্য