kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পায়খানায় শ্লেষ্মা গেলে

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ডা. মিনহাজ উদ্দিন আহমেদ

মুিখগহ্বর, নাক, সাইনাস গলবিল, ফুসফুস ও অন্ত্রে মিউকাস বা শ্লেষ্মা তৈরি হয়। স্বাভাবিক মিউকাস পরিষ্কার ও পাতলা; কিন্তু যেকোনো ধরনের সংক্রমণ, খাদ্যাভ্যাস বা পরিবেশগত কারণে মিউকাসের রং, পরিমাণ ও ঘনত্ব বাড়তে পারে।

সাধারণত সর্দি-কাশি, সাইনাসের ইনফেকশনে নাকে শ্লেষ্মা দেখতে পাই। কিন্তু কিছু অসুখে পায়খানার সঙ্গেও শ্লেষ্মা যেতে পারে।

বৃহদন্ত্রের মিউকাস পর্দা মলত্যাগে সহায়তা করে। সাধারণ মলে হলুদাভ বা পরিষ্কার মিউকাস এতটাই সামান্য থাকে যে খালি চোখে তা দেখা যায় না। মলে যখন মিউকাস বা শ্লেষ্মা থাকে তখন তা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ, অ্যানাল ফিসার (পায়খানার রাস্তা ফেটে যাওয়া), অস্ত্রের কোনো বাধা বা অবস্ট্রাকশন ও ক্রনস্ রোগ (অন্ত্রের রোগ) আছে বলে অনুমান করা হয়। এসব ক্ষেত্রে নিচের লক্ষণগুলো থাকে—

•    মিউকাসের পরিমাণ বাড়তে থাকে

•    মলের সঙ্গে রক্ত বা পুঁজ থাকে

•    পেটব্যথা, কামড়ানো, পেট ফুলে থাকার অনুভূতি হয়

•    পায়খানার ঘনত্ব, রং বদলায় এবং বারবার মলত্যাগের তাড়না তৈরি হয়

যদি কারো ওপরের উপসর্গ থাকে তবে দেরি না করে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।

 

কখন শ্লেষ্মা যেতে পারে

•    পানিশূন্যতা ও কোষ্ঠকাঠিন্য, উভয় কারণেই মলের সঙ্গে অতিরিক্ত মিউকাস যেতে পারে।

•    প্রদাহজনিত কারণে অন্ত্রের শ্লেষ্মা পর্দা বা মিউকাস মেমব্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ফলে তা খুব সহজেই সংক্রমিত হয়।

•    ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ যেমন, ক্যামপাইলোব্যাকটার, সালমোনেলা (টাইফয়েড জ্বরের জীবাণু), সিগেলা, ইয়ারসিনিয়া ইত্যাদি জীবাণু খাবারের সংক্রমণসহ অন্যান্য রোগের কারণে মিউকাস যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ডায়রিয়া, পেট মোচড়ানো, বমিভাব, বমি, জ্বর ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

•    ডায়রিয়ার কারণে ঘন ঘন মলত্যাগ বা শক্ত মল দ্বারা পায়খানার রাস্তা কেটে গিয়ে অ্যানাল ফিসার হতে পারে। এতে মলত্যাগের সময় ব্যথা হয়।

•    ক্যান্সারজনিত কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির কারণেও মলের সঙ্গে মিউকাস যায়।

•    অন্ত্রের প্রতিবন্ধকতা বা বাওল অবস্ট্রাকশনজনিত কারণ, যেমন- শক্ত মল, হার্নিয়া, টিউমার ইত্যাদি অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। ফলে পেট কামড়ানো বা পেটে তীব্র ব্যথা, কোষ্ঠকাঠিন্য, অতিরিক্ত গ্যাস অথবা পেটে ফুলে ওঠা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দেয়।

•    বাদাম, ল্যাকটোজ, গ্লুটেন জাতীয় খাবার গ্রহণ।   এ ছাড়া শিশু, বৃদ্ধদেরও হজমের অসুবিধার জন্য শ্লেষ্মা যেতে পারে।  

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

•    মলের রুটিন পরীক্ষা : প্যারাসাইট, কৃমি, কৃমির ডিম, ব্যাকটেরিয়া ও অন্য কিছু রোগ মলের রুটিন পরীক্ষা করে সহজেই নির্ণয় করা যায়।

•    জীবাণুর সংক্রমণ : ক্যামপাইলোব্যাকটার, সালমোনেলা, সিগেলা, এরোমেনাস, গ্লোজোমোনাস, ইয়ারসিনিয়া ইত্যাদির উপস্থিতি প্রমাণের জন্য রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে।

•    এন্ডোসকপি, কোলোনস্কপি

•    সিটি স্ক্যান

চিকিৎসা

কারণ নির্ণয়ের মাধ্যমেই এ রোগের চিকিৎসা করতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার কিছুটা পরিবর্তন করে এটি থেকে বাঁচা যায়। কিন্তু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে আক্রান্ত হলে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ করতে হয়।

dr.minhaj55@gmail.com


মন্তব্য