kalerkantho


ঘুমজনিত অসুখের সঙ্গে দাঁতের সম্পর্ক

ডা. শামীমুর রহমান

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঘুমের অসুবিধাজনিত অসুখের সঙ্গে ডেন্টাল অসুখের সম্পর্ক আছে। ঘুমের অসুবিধাজনিত অসুখ যেমন স্লিপ এপনিয়া বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়া রোগটি আবার বেশি হয়।

সাধারণত ১০ ভাগের ১ ভাগ মানুষ ঘুমের অসুবিধাসংক্রান্ত রোগে আক্রান্ত। এই রোগ যদিও মেডিক্যাল চিকিৎসার বিষয়, কিন্তু ডেন্টিস্টদের সহায়তাও খুব জরুরি হতে পারে। এর কারণ ঘুমের অসুবিধা বা স্লিপ ডিসটার্বেনস নির্ণয় করতে ডেন্টিস্টরা বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন। এটাও মনে রাখা দরকার, শুধু এই রোগ নয়, এইডসসহ বহু রোগের প্রাথমিক লক্ষণ মুখগহ্বরে প্রকাশ পায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের অসুবিধাজনিত অসুখ, যেমন মুখ দিয়ে নিঃশ্বাস নেওয়া, নাকডাকা ইত্যাদিতে ওরাল স্ক্রিন নামের এক ধরনের ডিভাইস দিতে হয়, যা ডেন্টিস্টরা তৈরি করেন।

সাধারণভাবে মনে হতে পারে ঘুমের অসুবিধা হচ্ছে— এটা রোগীর নিজের বোঝার কথা। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রোগী এটা বুঝতে পারে না। কারণ ঘুমজনিত অসুখের লক্ষণ সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ হয়, দাঁত কিড়মিড় করার প্রবণতা, দিনের বেলা দুর্বল লাগা, মাথাব্যথা, চোয়াল ব্যথা ইত্যাদি। এগুলো ঘুমের অভাবে হতে পারে তা অনেকেই জানেন না।

 

ডেন্টিস্ট যখন রোগীর প্রাথমিক তথ্য নেন, তখনই রক্তচাপসহ আরো কিছু বিষয় পরীক্ষা করে নেন। এ ছাড়া যখন চিকিৎসা করেন, তখন যদি রোগী ঘুমিয়ে পড়ে বা ঘুম ঘুম অনুভব করে, কোনো কারণ ছাড়াই হাত-পা নাড়তে থাকে, দাঁতের মাড়িতে অস্বাভাবিক পাথর জমে, তখন ডেন্টিস্ট ঘুমজনিত সমস্যা আছে বলে অনুমান করতে পারেন। এ ছাড়া মুখে বারবার ক্ষত বা অ্যাপথাস আলসার হওয়া, সামনের দিকে দাঁতে ক্যারিজ বেশি হওয়াও ঘুমজনিত অসুখের কারণে হতে দেখা যায়। আর রোগীর নাকডাকার ইতিহাস থাকলে বা হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা থাকে তাহলেও ঘুমজনিত অসুখের জন্য এমন হচ্ছে বলে মনে করা হয়। অনেকের দাঁত কোনো কারণ ছাড়াই ক্ষয়ে যেতে দেখা যায়। তখন শির শির করে। এর কারণ পান-তামাক চিবানো যেমন তেমনি রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় বা ব্রুক্সিজম রোগ। সাধারণত যাঁরা অতিরিক্ত টেনশনে ভোগেন, মানসিকভাবে অশান্তিতে থাকেন কিংবা আঁকাবাঁকা দাঁতের সমস্যায় ভোগেন তাঁদের এটি বেশি হয়। এটির চিকিৎসাও ডেন্টিস্টরাই করে থাকেন। এক ধরনের অ্যাপ্লায়েনস দাঁতে লাগিয়ে ঘুমাতে হয়। এতে চোয়ালের হাড়ের সন্ধির কিছু সমস্যাও দূর হয়। স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞরা ওষুধ প্রয়োগের চেয়ে এ ধরনের অ্যাপ্লায়েনস ব্যবহারকেই বেশি উৎসাহ দিয়ে থাকেন।

ঘুমজনিত অসুখের চিকিৎসা করা দরকার। কারণ যথাযথ ঘুমের অভাবে বেশ কিছু শারীরিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন—সব সময় ঘুম পাওয়া ও কাজকর্মে অনীহা। স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া ও লেখাপড়ায় অমনোযোগ, যৌন আগ্রহ ও ক্ষমতা কমে যাওয়া, উচ্চ রক্তচাপসহ হার্টের অসুখ হওয়া, সকালে ঘুম থেকে উঠেই মাথাব্যথা অনুভব করা—এগুলোর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া মেজাজ খিটখিটে হওয়া, সহজেই রেগে যাওয়া, নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা, দুশ্চিন্তা করা ইত্যাদিও ঘুমের অসুবিধার কারণে হতে পারে।

আবার যাদের ঘাড় বেশি লম্বা তাদের স্লিপ এপনিয়া বেশি হয়, বয়স যত বেশি হয় ঘুমজনিত অসুখের প্রবণতা বাড়ে, শরীরের ওজন যত বাড়ে ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার প্রবণতা তত বাড়ে, মা-বাবাসহ পরিবারের নিকটাত্মীয়ের নাকডাকার সমস্যা থাকলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, ধূমপান ও মদপান করলে বেশি হয়, টনসিল ও অ্যাডেনয়েড ফুলে গেলে, বুকজ্বলা বা এসিডিটি থাকলে, এমনকি উচ্চ রক্তচাপ থাকলেও স্লিপ এপনিয়া হতে পারে।

সহকারী অধ্যাপক, ডেন্টাল ইউনিট

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও  হাসপাতাল, ঢাকা


মন্তব্য