kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

দাঁতের জন্য খাবার

ডা. এম আই আকাশ

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দাঁতের জন্য খাবার

চিনির বহুবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকি আছে। অনেক অসুখবিসুখের মতো দাঁতে ক্যারিজ বা ক্ষয়রোগের জন্যও সবচেয়ে বেশি দায়ী এই চিনি।

বিভিন্নভাবে আমরা চিনি খাই আমরা। সব সময় যে জেনেশুনে খাই তা নয়। যেমন—পিজা বা পাউরুটি। এতে চিনি থাকে। বাজার থেকে আনা সব ধরনের বেকারি পণ্যেই চিনি থাকে। আইসক্রিম, চকোলেট, চিপস, কেক—এগুলোতে চিনি আছে তা তো সবারই জানা। এই চিনি যখন দাঁতের গায়ে লেগে থাকে, তা মুখের ভেতরে থাকা ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবারের ভালো উৎস। এই চিনি থেকেই ব্যাকটেরিয়া অর্গানিক এসিড উত্পন্ন করে। যখন চিনি খাওয়া হয়, তখন এমনিতেই মুখের ভেতরে এসিডিটির মাত্রা বেড়ে যায়। এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। সহজেই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। আবার সব রকম চিনিই একই ধরনের ক্ষতিকর নয়। উচ্চমাত্রার চিনি থাকে প্রক্রিয়াজাতকৃত খাবারে। যতই বলা হোক সুগার ফ্রি, আসলে এসব খাবারে রিফাইন্ড চিনি থাকে। এ ধরনের চিনি থাকে ক্যান্ডি, সিরিয়াল, কোলা ও বিস্কুটে। অন্যদিকে প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসা খাদ্যগুলোতে স্বল্পমাত্রার চিনি ও উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে। যেমন—সবজি ও ফলমূল। এগুলোতে চিনি থাকে গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, সুক্রোজ—এই ফর্মে, যা কম ক্ষতিকর। আবার উচ্চমাত্রার ফাইবার থাকে বলে হজমও হয় দেরিতে। চিনিরই আরেকটি ধরন স্টার্চ। এটিও মূলত উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আসে। এগুলোর মধ্যে আছে শিম, কলা ইত্যাদি। পরিমিত পরিমাণে খেলে এগুলো দাঁতের জন্যও ভালো, শরীরের জন্য তো বটেই।

কিন্তু কোমল পানীয়, সোডা, বাজার থেকে কেনা প্যাকেটজাত ফলের জুস, স্পোর্ট ড্রিংকস, এনার্জি ড্রিংকস-এগুলোতে প্রচুর চিনি থাকে। শহুরে মানুষ এগুলো বেশি পান করে। আবার গ্রামের দিকেও যে ধরনের জুস, এনার্জি ড্রিংকস পাওয়া যায়, তাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মানও নিয়ন্ত্রণ করা থাকে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, এ ধরনের জুস ও ড্রিংকসের মাধ্যমে শরীরে প্রয়োজনীয় ক্যালরির মোট ১০ শতাংশের বেশি গ্রহণ করা উচিত নয়। কিন্তু আমেরিকায় পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ মানুষ ১৭ শতাংশ ক্যালরি গ্রহণ করছে এগুলো থেকে। তবে কৃত্রিম চিনিতে মিষ্টি স্বাদ পাওয়া গেলেও তাতে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে এবং তা দাঁতের জন্যও উপকারী।

খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলেই যে ক্যারিজ হয়ে যাবে, তা নয়। যথাযথভাবে পরিষ্কার করলে ক্যারিজের হাত থেকে রক্ষা পাওয়াও সম্ভব। এ জন্য অন্তত দুই বেলা ভালো মানের টুথব্রাশ ও টুথপেস্ট দিয়ে ব্রাশ করতে হবে। প্রতিবেলা খাবারের পর দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার করতে ফ্লস করতে হবে। এ ছাড়া দাঁতের ওপরের দিকে থাকা ছোট ফিসারগুলো ফিসার সিল্যান্ট দিয়ে ভরাট করে দিতে হবে। এ জন্য ডেন্টিস্টের কাছে যেতে হবে। ক্যারিজ প্রতিরোধে ফ্লোরাইডের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এনামেলের উপাদানের সঙ্গে ফ্লোরাইড মিশে শক্ত একটি প্রতিরোধী আবরণী তৈরি করে। ফ্লোরাইড কিছু খাবারে পাওয়া যায়, থাকে পানিতেও। আর ফ্লোরাইড থাকে টুথপেস্টে।

খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দাঁত ব্রাশ করতে নেই। খাওয়ার সময় মুখের ভেতর লালা এসে খাদ্যবস্তু খানিকটা নরম করে দেয়। তখন মুখের ভেতর এসিডিক পরিবেশ তৈরি হয়। এই এসিডের কারণে এনামেল নরম হয়ে যায়। খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ করলে এই নরম এনামেল ক্ষয়ে যায়। কিন্তু কিছু সময় পর ব্রাশ করলে তা হয় না। কারণ ততক্ষণে লালার ভেতরে থাকা রাসায়নিক উপাদান এনামেলকে আবার শক্ত করে ফেলে।

কিছু খাবারে দাঁতের ক্যারিজ কম হয়। এ ধরনের খাবার হলো চিজ বা পনির। পনির খেলে পাকস্থলীর এসিডিটির মাত্রা কমে যায়। গরুর দুধও উপকারী। এতে থাকে ল্যাকটোজ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, সেজেন। এর সবই ক্যারিজ প্রতিরোধে কাজ করে। কিন্তু রাতের বেলা ফিডারে করে শিশুকে দুধ দিলে তা ক্ষতি করবে। আবার যেসব শিশু মাতৃদুগ্ধ পান করে, তাদেরও ক্যারিজ কম হয়। চিনি ও দুধ ছাড়া ব্ল্যাক চা ও সবুজ চাও দাঁতের জন্য উপকারী। ডার্ক চকোলেট বা চিনি কম আছে—এমন চকোলেটেও ক্যারিজ কম হয়।

 

রিসেন্ট ডেন্টাল হেলথ, হাতিরপুল, ঢাকা।


মন্তব্য