kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

মানসিক রোগ বিষয়ক বাছাই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারুক আলম

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



আপনার প্রশ্ন বিশেষজ্ঞের উত্তর

আমার বয়স ৩৭ বছর। সমস্যা হলো, আমি খুব দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগি।

যে কাজটা করব, সেটা নিয়ে খুব চিন্তায় থাকি। করব কি করব না, যাব কি যাব না ইত্যাদি চিন্তা আমাকে পেয়ে বসে। কী করলে আমি আমার লক্ষ্য ঠিক রাখতে পারব?

 

মো. আমির হোসেন নাগরপুর, টাঙ্গাইল।

আপনার বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে, আপনি এক ধরনের শুচিবাই রোগে ভুগছেন। এটা এক ধরনের মানসিক রোগ। শুচিবাইয়ের একটি ধরন এমন হতে পারে। এ রোগের চিকিৎসায় ওষুধ ছাড়াও ব্যবহারিক চিকিৎসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এ জন্য এক কথা দুইবারের বেশি বলবেন না, কোনো কিছুর সিদ্ধান্ত নিতে দুইবারের বেশি ভাববেন না। বন্ধুবান্ধব, খেলাধুলা, বেড়ানোসহ সামাজিকতা বাড়াবেন। সার্বক্ষণিক কোনো না কোনো কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। তাহলে দুশ্চিন্তা কমে আসবে। এতে উন্নতি না হলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

আমার মেয়ের বয়স ১৭ বছর। ওকে কোনো ব্যাপারে কিছু বলতে গেলেই রেগে যায়; যেমন—মোবাইলটা সারাক্ষণ হাতে রাখে, এক হাতে ভাত খাচ্ছে, আরেক হাতে মোবাইল। মোবাইলটা রাখতে বললেই খুব রেগে যায় আর তখন ভাত ফেলে উঠে যায়। পড়ার কথা বললে আরো রেগে যায়; পড়ার সময় টিভি দেখবে, কোনো কাজের কথা বললেই তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠবে। এত রাগ ভালো না—এটা বোঝাতে পারি না। কী করলে রাগটা কমাতে পারি? ওর কী চিকিৎসা দরকার?

মনজুর কাদের শাহীন বেলকুচি, সিরাজগঞ্জ।

মাদকাসক্তির নেশার মতো মোবাইল, ইন্টারনেটেও নেশা বা আসক্তি হয়ে থাকে। আপনার মেয়ের চিকিৎসার স্বার্থেই মোবাইল-ইন্টারনেট বন্ধ করা অথবা সীমিত করা প্রয়োজন। তার খাওয়াদাওয়া, ঘুম, লেখাপড়া, খেলাধুলাসহ দৈনিক বিষয়ে রুটিন করে দেওয়া প্রয়োজন। রুটিনমতো চললে তাকে আদর, প্রশংসা ও পুরস্কার দেবেন আর না মানলে এগুলো বন্ধ রাখবেন। মারা, বকা ও সমালোচনা করবেন না। এ জন্য দেরি না করে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে বা মনোবিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।

 

আমার ছেলের বয়স চার বছর। এত বিরক্ত করে—যখন যেটা চাইবে, না দেওয়া পর্যন্ত কান্না করতে থাকবে, মাঝে মাঝে রাগ করে খাটের নিচে বা সোফার আড়ালে গিয়ে বসে থাকে। রাগ ভাঙানো অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এটা এমন পর্যায়ে গেছে যে আর সহ্য করতে পারছি না। কী করব?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদারীপুর।

এই বয়সে এ ধরনের রাগ কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো কমে আসবে। বর্তমানে তার এই অস্বাভাবিক আচরণগুলোর দিকে নজর দেবেন না। স্বাভাবিকভাবে চললে তাকে আদর, প্রশংসা ও পুরস্কার দেবেন। খেলাধুলা করতে দিন, বেড়াতে নিয়ে যান, অন্যদের সঙ্গে মিশতে দিন। জেদ করলেই রেগে যাবেন না।

 

মেয়ের বয়স পাঁচ বছর ছয় মাস। সে নার্সারি ক্লাসে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পড়ছে। তাকে বাসায় পড়া মুখস্থ করে খাতায় লিখিয়ে তারপর স্কুলে পাঠাই; কিন্তু স্কুলে গেলে সে কিছু মনে রাখতে পারে না, সব ভুলে যায়। আর সারাক্ষণ কার্টুন চ্যানেল দেখে, না দেখলে খাবে না, ঘুমাবে না—এই অবস্থা। ক্লাসে টিচার পড়া চাইলে কান্না জুড়ে দেয় আর বলে—আমি তো পড়ি নাই, আম্মু আমাকে শেখায় নাই।

সুলতানা নাসরিন ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ।

সব শিশুর বুদ্ধি বা স্মরণশক্তি সমান হয় না। কার্টুনের প্রতি বেশি আসক্ত হলে লেখাপড়া ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ কমে যায়। অল্প সময় কার্টুন দেখতে দেবেন। বাকি সময় টিভি বন্ধ রাখবেন। তার খাওয়াদাওয়া, ঘুম, লেখাপড়া, খেলাধুলাসহ সার্বিক বিষয়ে রুটিন করে দেবেন। রুটিনমতো চললে তাকে আদর, প্রশংসা ও পুরস্কার দেবেন আর না মানলে এগুলো বন্ধ রাখবেন। মারা, বকা ও সমালোচনা—এগুলো বন্ধ রাখবেন। শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে তার দৈনন্দিন রুটিন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিন। শিক্ষকরা যেন তার সঙ্গে ভালো আচরণ করে, সেটা তাদের সঙ্গে আলোচনা করে নিন।


মন্তব্য