kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

ডায়াবেটিস ও খাবার

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



যে ধরনের ডায়াবেটিস বেশি হয়, তা হলো টাইপ-২ ডায়াবেটিস। আর এ ধরনের ডায়াবেটিসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যেসব ঝুঁকি আছে, সেগুলোর অন্যতম হলো শরীরের বেশি ওজন বা স্থূলতা।

সাধারণভাবে শরীরের ওজন বা বডি মাস ইনডেক্স বা বিএমআই ২৫ বা এর বেশি হলে একে বলা হয় বেশি ওজন। আর বিএমআই ৩০ বা এর বেশি হলে তা স্থূলতা। ৩০-এর বেশি হলে তা বিপজ্জনক মাত্রার স্থূলতা। তবে দেশ ও জাতিভেদে বিএমআইয়ের হিসাবে কিছুটা এদিক-ওদিক আছে।  

এশিয়া এবং বাংলাদেশের মানুষের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক বিএমআই ধরা হয় ১৮.৫-২২.৯। এখানে বিএমআই ২৩-২৪.৯ হলে বেশি ওজন ধরা হয়। ২৫ বা তার চেয়ে বেশি হলে স্থূলতা হিসাব করা হয়।

বেশির ভাগ টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগী হলো স্থূল। আবার স্থূল মানুষের সংখ্যাও ব্যাপক বেড়েছে। ফলে ডায়াবেটিসও অনেক বেশি হচ্ছে। স্থূলতা এবং ডায়াবেটিসের এই সম্পর্ক অনেক গভীর। কারণ এ জন্য অন্য রোগের প্রসারও বেশি হচ্ছে। এখন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, বিশেষ করে শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্থূলতা ক্রমেই বাড়ছে।

কোনো কোনো মানুষের ডায়াবেটিস হওয়ার আশঙ্কা অন্যদের চেয়ে বেশি। যাদের বিএমআই ২৫-এর বেশি এবং যাদের বাড়তি ঝুঁকি এক বা একাধিক, তাদের ঝুঁকি বেশি। সেই বাড়তি ঝুঁকিগুলো হলো—

►         শরীরচর্চার অভাব

►        নিকটাত্মীয়ের ডায়াবেটিস থাকা

►        গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের ইতিহাস বা ৯ পাউন্ড ওজনের বেশি সন্তান প্রসব

►         রক্তচাপ ১৪০/৯০ বা এর বেশি থাকা

►         এইচডিএলের মান ৩৫-এর নিচে এবং ট্রাইগ্লিসারাইড ২৫০-এর বেশি থাকা।

►         পলিসিস্টিক ওভারি রোগ থাকা।

►         রক্তের এওয়ানসি পরীক্ষায় মান ৫.৭%-এর বেশি বা খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজ বা যেকোনো সময়ে রক্তের গ্লুকোজ বেশি থাকা

►         হৃদরোগের ইতিহাস থাকা।

ওজন ও ডায়েটের গুরুত্ব

দেহের ওজন ৫-১০ শতাংশ কমালে এবং সেই সঙ্গে প্রতিদিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে প্রায় ৫৮ শতাংশ। তাই ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মোকাবিলায় দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ একটি শক্তিশালী উপায়।

দেহের ওজন স্বাভাবিক মানে রেখে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের অত্যাবশ্যক পদ্ধতি হলো সঠিক আহার করা। স্বাস্থ্যকর আহার করা। কারণ ডায়াবেটিস মোকাবিলার জন্য বিশেষ কোনো খাদ্য না থাকলেও সঠিকভাবে খাওয়ার রেসিপি বা উপকরণ মানলে রোগটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

চর্বি, শর্করা ও আমিষ এমন সুষম সমতায় খেতে হবে যেন রক্তের শর্করা সুস্থিত থাকে। এটি অবশ্য শরীরের ওজন ঠিক রাখার সাধারণ পদ্ধতিও বটে। হৃদরোগ ও ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্যও ঠিক ওজন বজায় রাখা দরকার। কম চর্বি, পুষ্টিকর, প্রকৃতিজাত ও ঘরে রান্না করা খাবার খাওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

 

কী থাকবে খাবারে?

►         শাকসবজি

►         ফল

►       শ্বেতসার খাদ্য যেমন—লাল চাল, লাল আটা, শস্য খাদ্য (হোল গ্রেন)

►         শ্বেতসার সবজি যেমন—কর্ন ও মিষ্টি আলু

►        কম চর্বিযুক্ত গোশত, মাছ, পোল্ট্রি, পনির

►        দুগ্ধজাত খাবার, দুধ ও দধি

►        স্বাস্থ্যকর চর্বি, বাদাম তেল, অলিভ তেল

 

নিয়ন্ত্রণে রাখুন

টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কোনো নিশ্চিত উপায় নেই, তবে ঝুঁকি কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখলে নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন—স্থূলতা, এমনকি ডায়াবেটিসের বাড়তি ঝুঁকি থেকে যেসব জটিলতা হয়, সেগুলো হওয়ার আশঙ্কা অনেকটা এড়ানো যায়।

পরিচালক, মেডিক্যাল সার্ভিসেস, বারডেম


মন্তব্য