ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে জার্মান একটি উল্লেখযোগ্য দেশ, ২০১৪ সালের জরিপ অনুযায়ী এর জনসংখ্যা আট কোটি ৯ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ জন। এখানে অনেক ধর্মের লোকই বসবাস করে। এর মধ্যে প্রটেস্ট্যান্ট ৩৪ শতাংশ, রোমান ক্যাথলিক ৩৪ শতাংশ, মুসলিম ৩.৭ শতাংশ এবং অন্যান্য ২৮.৩ শতাংশ। (সূত্র : https://www.cia.gov /library/publications /the-world-factbook/geos/gm.html) ইউরোপীয় ইউনিয়নে ফ্রান্সের পর এখানে সর্বাধিক মুসলিম বসবাস করে বলে জানা যায়। ১৮ শতকে উসমানি সালতানাতের সঙ্গে জার্মানির কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হওয়ার সূত্র ধরেই জার্মানিতে মুসলিমদের আগমন ঘটে। জার্মানির ঐতিহাসিক লাল মসজিদটির নির্মাণকাল (১৭৮৯-১৭৯১ খ্রি.) থেকে অনুমান করা যায়, ওই সময় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মুসলিম জার্মানিতে বসবাস করতেন। একটি আদম শুমারির রিপোর্ট মতে, প্রায় ছয় লাখ আট হাজার মুসলিম বর্তমানে জার্মানের নাগরিক। যাদের প্রায়ই বার্লিন, কোলন, ফ্রাংকপ্রুট, স্টাটগার্ট এলাকার বাসিন্দা। এখানে প্রায় দেড় হাজার মুসলিম ইবাদতখানা আছে। যার মধ্যে সব মিলিয়ে ১৪০টি মসজিদ রয়েছে স্বাভাবিক গুম্বুুজ ও মিনারসংবলিত। ইদানীং পত্রিকা খুললেই দেখা যায়, জার্মানের নানামুখী মুসলিমবিরোধী তৎপরতা। সম্প্রতি ফ্রান্সে ঘটে যাওয়া সন্ত্রাসী হামলাকে কেন্দ্র করে জার্মানের বিভিন্ন শহরে মুসলিমবিরোধী সভা-সমাবেশেরও আয়োজন করা হয়েছে। যা বিবিসি গণমাধ্যমে 'ইসলামবিরোধী সমাবেশ জার্মানির বিভিন্ন শহরে' শিরোনামে প্রকাশিত হয়। এ ছাড়াও জার্মানের বিভিন্ন শহরে বিভিন্ন সময় মুসলিমবিরোধী তৎপরতা ও মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করতে দেখা গেছে। জার্মানদের মধ্যে মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ফ্রান্স, ডেনমার্কের অধিবাসীদের তুলনায় জার্মানরা নতুন কোনো মসজিদ বা মিনার নির্মাণের বিরুদ্ধে অনেক বেশি সোচ্চার? তাছাড়া অন্য ধর্মাবলম্বীদের সমানাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রেও কার্পণ্য লক্ষ করা যায় জার্মানদের মধ্যে? সমাজবিজ্ঞানী পোলাকের ভাষায়, 'মুসলিমদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় জার্মানিতে বেশ কম। প্রাক্তন পশ্চিম জার্মানির ৩৪ শতাংশ ও প্রাক্তন পূর্ব জার্মানির মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ মুসলিমদের ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন বলে জানিয়েছেন। অন্য ধর্মের অনুসারীদের প্রতি জার্মানদের মনোভাব তুলনামূলকভাবে বেশি ইতিবাচক।' (সূত্র : http://www.dw.de/) এ ছাড়াও 'ইসলাম জার্মানির অংশ'- এই মন্তব্য করে সাবেক জার্মান প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিয়ান ভুল্ফ তুমুল বিতর্কের সূত্রপাত করেছিলেন জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে। জার্মানিতে বসবাসকারী মুসলিম জনসাধারণের সহানুভূতি পেলেও সমাজের মূল স্রোতের বেশির ভাগ মানুষের মধ্যেই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল তাঁর ওই কথায়। ইউরোপিয়ান মনিটরিং সেন্টার অন রেসিজম অ্যান্ড জেনোফোবিয়ার প্রধান বিট উইন্কলার-এর মতে, ইউরোপ এখন ইসলামোফোবিয়ায় আক্রান্ত। তাদের পরিচালিত বিভিন্ন জরিপে বিষয়টি বেশ উদ্বেগজনকভাবে ফুটে উঠেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ জার্মানি উল্লেখ করেছেন, মুসলিমদের তারা উগ্র বলেই জানে। (সূত্র : http://www.somewhereinblog.net /blog/irinblog/29084495) হিজাবের ব্যাপারেও রয়েছে তাদের বিরূপ মনোভাব জার্মানের একজন তরুণী এ বিষয়ে লিখেন, 'আমি খুব মর্মাহত এ কারণে যে প্রতিদিনই হিজাবের জন্য আমাকে নিগৃহীত হতে হচ্ছে। আমি আমার হিজাব দিয়ে কাউকে আঘাত করছি না, আমার হিজাব অন্যদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছি না।' হিজাবের কারণেই আদালতে নিশৃংসভাবে প্রাণ দিতে হয়েছিল জার্মানি এক বোনকে। তাঁকে একজন ২৮ বছর বয়সী জার্মানি সবার সামনেই আদালতের মধ্যে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে। (সূত্র : http://www.bbc.co.uk/urdu/lg/world/ 2009/07/090707_egypt_headscraft_sz.shtml ) লেখক : ফাজেল : জামিয়া ইসলামিয়া মাইজদী, নোয়াখালী।