প্রতিবেশী কে? হাদিস শরিফে এসেছে, 'তোমার ঘর হতে সর্বদিক থেকে চল্লিশটি ঘর পর্যন্ত অধিবাসীগণ তোমার প্রতিবেশী। হজরত আলী (রা.) বলেন, 'যে তোমার কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে, সে তোমার প্রতিবেশী।' প্রতিবেশীর বিষয়ে গুরুত্বারোপ হজরত ইবনে ওমর (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'জিবরাইল (আ.) আমাকে প্রতিবেশীদের প্রতি কর্তব্য পালন সম্পর্কে এরূপ গুরুত্বারোপ করে আসছেন যে আমার মনে হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে প্রতিবেশীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকারী বলে ঘোষণা করা হবে।'- বুখারি ও মুসলিম রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'কিয়ামতের দিবসে প্রথম বাদী-বিবাদী হবে দুজন প্রতিবেশী।'- আহমাদ প্রতিবেশীর সঙ্গে করণীয় এক. প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া : হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামতের দিবসের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।' অন্য হাদিসে এসেছে, 'ওই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদ নয়।' দুই. তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহার করা : হজরত আবদুল্লাহ বিন আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহর কাছে উত্তম সঙ্গী সে ব্যক্তি, যে তার সঙ্গী-সাথির সঙ্গে উত্তম ব্যবহার করে। তেমনি আল্লাহর কাছে উত্তম প্রতিবেশী সে ব্যক্তি, যে স্বীয় প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহার করে।'- তিরমিজি, আহমাদ তিন. প্রতিবেশীকে খাদ্যদ্রব্য, উপঢৌকন দেওয়া : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'স্বীয় প্রতিবেশীকে অভুক্ত রেখে কেউ যেন তৃপ্তির সঙ্গে খাদ্য-পানীয় গ্রহণ না করে।' আহমাদ হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমাদের মধ্যে কেউ কিছু রান্না করলে সে যেন ঝোল বাড়িয়ে দেয় আর প্রতিবেশীর খবর নেয় (তা থেকে তাকে হাদিয়া দেয়)।' হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, 'ওই ব্যক্তি মুমিন নয়, যে পরিতৃপ্ত হয় অথচ তারই পাশে তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত থাকে।' চার. বিপদাপদে প্রতিবেশীকে সাহায্য করা : রাসুল (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি সাহায্য অব্যাহত রাখেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।' পাঁচ. প্রতিবেশীর দোষত্রুটি গোপন রাখা : রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, 'যে ব্যক্তি অপরের দোষ গোপন রাখে, আল্লাহ তায়ালা কিয়ামতের দিনে তার দোষ গোপন রাখবেন।' ছয়. জমি বিক্রয়ে প্রতিবেশীর অনুমতি নেওয়া : হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমাদের মধ্যে কেউ যখন জমি বিক্রয় করতে চায়, সে যেন প্রতিবেশীর অনুমতি না নিয়ে বিক্রয় না করে।'- ইবনে মাজাহ অমুসলিম প্রতিবেশীর অধিকার মুসলিম-অমুসলিম প্রতিবেশীর অধিকার বিষয়ে ইসলামে কোনো পার্থক্য নেই। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, 'কোনো কোনো প্রতিবেশী রয়েছে, যাদের হক বা অধিকার একটি (কেবল প্রতিবেশীর অধিকার ভোগ করবে), কোনো কোনো প্রতিবেশী রয়েছে, যাদের অধিকার দুটি। কোনো কোনো প্রতিবেশী রয়েছে যাদের অধিকার তিনটি। এক হকবিশিষ্ট প্রতিবেশী হলো এমন অমুসলিম, যাদের সঙ্গে কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই। দুই হকবিশিষ্ট প্রতিবেশী হলো তারা, যারা প্রতিবেশী হওয়ার সঙ্গে মুসলমানও বটে। আর তিন হকবিশিষ্ট প্রতিবেশী হলো তারা, যারা একই সঙ্গে প্রতিবেশী, মুসলমান ও সেই সঙ্গে আত্মীয়।'- বাযযার, ইবনে কাছির আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে প্রতিবেশীর অধিকার যথাযথভাবে আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন। লেখক : ফাজেল, জামেয়া ইসলামিয়া, মাইজদী