kalerkantho

সদরঘাট-পল্টন

আগেই ঘুরে যায় গাড়ি!

জহিরুল ইসলাম   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সাভার পরিবহনের বাসগুলোর গন্তব্য সাভার। তবে চালক বা তার সহযোগী নিশ্চিত নয় যে তারা সাভার পর্যন্ত যাবে কি না। আর গেলেও নির্দিষ্ট রুট ধরে যেতে পারবে কি না। সদরঘাট-গুলিস্তান হয়ে চলা বেশ কয়েকটি সড়কের গাড়িগুলোর ক্ষেত্রে এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। যানজটের কারণে নির্দিষ্ট স্টপেজে না গিয়ে নিজেদের সুবিধামতো ট্রাফিক স্থানে পৌঁছে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলছে ইচ্ছামতো।

গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সদরঘাটে দাঁড়ানো সাভার পরিবহনের একটি গাড়িতে যাত্রী উঠছে। গাড়িতে উঠতেই চালকের সহকারীর প্রশ্ন, কোথায় যাবেন? ‘সিটি কলেজ’ বলতেই উত্তর—ভাই, নেমে জান। ওই রাস্তায় যাব কি না ঠিক নেই। আরেকজন যাত্রী গাড়িতে উঠতেই চালকের সহযোগীর একই প্রশ্ন। তিনি বললেন, শ্যামলী যাব। এবার সহযোগীর উত্তর—ভাই, ওই রাস্তায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম। যে জ্যাম! আরেক যাত্রী প্রশ্নের উত্তরে সাভার যাওয়ার কথা বললে এবার স্বয়ং চালক বললেন, সাভার পর্যন্ত যাওয়া হবে কি না বলতে পারছি না।

এভাবে প্রায় সব যাত্রীকেই আগেভাগে অনিশ্চয়তার কথা বলে বাসে উঠানো হয়। উদ্দেশ্য, চলার পথে রাস্তার যেকোনো স্থানে গাড়ি ঘুরিয়ে ফেললেও যাতে তারা কোনো প্রতিবাদ করতে না পারে। বাসটির চালক রবু বললেন, ‘ভাই, রাস্তায় যে কী ভয়াবহ যানজট তা নিজেরাই দেখেন। সামনের রাস্তায় বেশি সময় লাগবে জানতে পারলে ওই রাস্তায় আর যাই না। এমনও হয় যে সাভারের উদ্দেশে যাত্রা করে সেই গন্তব্যে আর যাওয়া হয় না। শাহবাগ থেকেই ঘুরে চলে আসি।’

দেখা যায়, দুপুর ২টায় পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের পশ্চিম পাশ থেকে গতকাল দুপুর ২টায় গাড়িতে ওঠার পর দেখা গেল ১৫ মিনিটেও গাড়িটা একচুল এগোয়নি। যাত্রার শুরুতেই যানজটের এমন অবস্থা দেখে বাসে থাকা যাত্রীরা একেকজন একেক মন্তব্য করতে শুরু করে। একজন বললেন, ‘কিসের জন্য গাড়ি আটকা পড়ে রইল?’ তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরেকজনের মন্তব্য, ‘ছ্যাঁচড়া ড্রাইভার যেতেই চায় না!’ আরেক যাত্রীর বিরক্তিমাখা ধমক—‘ডান দিয়া যায় না কেন? ট্রাফিক পুলিশ কী করে?’ এভাবে নানাজনের নানা কথা চলতে থাকে। কিন্তু গাড়ি আর চলে না। রায়সাহেব বাজার মোড় পর্যন্ত পৌঁছতেই প্রায় ৩০ মিনিট লেগে যায়। তারপর তাঁতীবাজার মোড় ১০ মিনিট, বংশাল চৌরাস্তার ট্রাফিক সিগন্যালে পাঁচ মিনিট। আলুবাজার থেকে গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া পর্যন্ত যেতে সময় লাগে আরো ২০ মিনিট। সব মিলিয়ে সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত আসতেই এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যায়।

 



মন্তব্য