kalerkantho


সমন্বয়হীনতায় ব্যর্থ ট্রাফিক পুলিশ!

এস এম আজাদ   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রাজধানীর রাস্তায় যানজট নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ একের পর এক বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নতি করতে পারছে না। দিনভর রোদে পুড়ে আর বৃষ্টিতে ভিজে হাতের ইশারায় রাস্তা সচল রাখার চেষ্টা করলেও ফল মিলছে না। উল্টো গতি কমছে সড়কের। যানজট নিয়ন্ত্রণের পুরো ব্যর্থতা সরাসরি এসে পড়ছে ট্রাফিক পুলিশের ওপর। কিছু অসাধু সদস্যের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সেই ব্যর্থতাকে আরো বড় করে তুলছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পেছনের বড় কারণ সমন্বিত ব্যবস্থা না থাকা। পরিকল্পনা ছাড়া রাস্তায় মার্কেট, হাসপাতাল ও রেস্তোরাঁ বাণিজ্যের কারণে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। সমন্বয় ছাড়া নির্মাণ ও সংস্কারকাজ চলায় পুরো ট্রাফিক-ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। যানবাহনের পাশাপাশি অসচেতন গাড়িচালকের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। ঢাকায় ডিজিটাল ট্রাফিক কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করা হলেও তা ব্যর্থ হয়েছে। ব্যবস্থাটি পরে পুলিশে ন্যস্ত হলেও তা এখনো চালু হয়নি। প্রয়োজনীয় উপকরণ (লজিস্টিক) ও দক্ষ লোকবলের অভাবে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু হচ্ছে না বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নগর সেবার দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট। তবে ট্রাফিক পুলিশ যেহেতু সরাসরি ট্রাফিক কন্ট্রোলে কাজ করে, তাই ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা আরো বাড়ানো প্রয়োজন।’

রেজাউল আলম বলেন, ‘দশতলার বেশি উঁচু ভবন হলে ট্রাফিক পুলিশের অনুমোদন নিতে হয়। আবার দশতলার নিচে ভবন করেও বড় মার্কেট করা হচ্ছে। আর তা আশপাশের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও কিছু করার নেই। যেমন—বিমানবন্দর সড়কে দুটি মার্কেট হচ্ছে। অথচ এখনই আমরা সেখানে যানজট নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছি। আবার সিটি করপোরেশন যেকোনো স্থানে ক্লিনিক ও রেস্টুরেন্ট ব্যবসা করার অনুমোদন দিয়ে দেয়। এর ওপর রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে সংস্কারকাজ হচ্ছে বর্ষা মৌসুমে। এসব কাজের জন্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণে যে সমস্যা হচ্ছে তা দূর করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সচেতনতা প্রয়োজন। আবার আইন না মানার বিষয়ও আছে। আমি মনে করি, সিস্টেম ডেভেলপ করলে সমস্যা থাকবে না।’

ডিজিটাল ট্রাফিক সিস্টেম চালুর বিষয়ে জানতে চাইলে মীর রেজাউল আলম বলেন, ‘অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা আছে যে পুলিশ বাতির সিস্টেম না করে হাতের ইশারায় কাজ করছে। এতে পুলিশের লাভ যে তারা উেকাচ আদায় করতে পারে! তবে এর কারণে যে কী পরিমাণ কষ্ট হচ্ছে তা কেউ দেখছে না। ট্রাফিক পুলিশের অনেক কাজ আছে। পদ্ধতি ডেভেলপ করলে আমাদেরই লাভ। এটি চালুর প্রক্রিয়া চলছে। এত যানবাহনের নগরীতে সে পদ্ধতিটি কার্যকর করা একটি চ্যালেঞ্জ।’

ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগের ব্যাপারে বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমাদের সব সদস্য যে ভালো তা নয়। যারা অপরাধ করে তাদের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নগরবাসীর সেবা দেওয়ার জন্য সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রোদ-বৃষ্টিতে কাজ করেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। সার্বিক পদ্ধতির সমন্বয় এবং নৈতিকভাবে উন্নয়ন না হলে এর সুফল নাগরিকরা পাবে কিভাবে?’

ধানমণ্ডি-মিরপুর রোডে অব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ট্রাফিক পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) লিটন কুমার সাহা বলেন, ‘গাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি অফিস বা ঘরে ফেরার সময়ে যানজট লেগে যাচ্ছে। চারদিকের সিগন্যালে এক দিক খোলা রাখলে তিন দিক বন্ধ রাখতে হয়। এটা পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অন্যদিকে জ্যাম লাগতেই পারে।’

ডিএমপি সূত্র জানায়, প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩০০ নতুন গাড়ি নামছে রাস্তায়। এর বেশির ভাগই চলছে ঢাকার রাস্তায়। সাম্প্রতিক অভিযানে দেখা গেছে, আইন ভাঙার কারণে প্রতিদিন ট্রাফিক পুলিশ গড়ে দুই হাজার মামলা করছে।



মন্তব্য