kalerkantho

গুলিস্তান থেকে মিরপুর-১২

সাড়ে তিন ঘণ্টায়

ওমর ফারুক   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দুপুর ১২টা। রাজধানীর গুলিস্তান থেকে মিরপুর-১২ নম্বরের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাস। পল্টনের কাছে যেতেই বাসটির চলে যায় আধাঘণ্টার মতো। এরপর পল্টন মোড় পেরিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব হয়ে কদম ফোয়ারা পেরোতেই বাজে সোয়া ১টা। এই পর্যায়ে রাস্তা কিছুটা ফাঁকা পেয়ে বাসটি একটু জোরে টান দিয়ে সামনে এগোয়। কিন্তু মৎস্য ভবনের কাছে পৌঁছেই গতি কমাতে বাধ্য হন চালক। সামনে প্রকট যানজট। শাহবাগের দিকের রাস্তায় গাড়ি যেন চলছেই না। ১০ হাত গিয়ে বসে থাকতে হয় ১০ মিনিট। বাসটির শাহবাগ মোড় পেরোতে বেজে যায় ২টা।

মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগ পার হতে লেগে যায় প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। এরপর ‘শেরাটন’ মোড়ের ক্রসিংয়ে আরেক প্রস্ত যানজটের ধাক্কা। সেটি পেরিয়ে যেতেও ব্যয় হয় ১০ মিনিট। বাংলামোটর পেরিয়ে কারওয়ান বাজার পার হতে বাসটির লাগে আরো আধাঘণ্টার মতো। ফার্মগেট থেকে মিরপুরের রোডে কিছুটা ফাঁকা পেয়ে দ্রুত চলতে থাকে বাসটি। কিন্তু আগারগাঁও বিসিএস কম্পিউটার সিটির সামনে গিয়ে আবারও গতি কমাতে বাধ্য হন চালক। সেখান থেকে তালতলা, শেওড়াপাড়া, সেনপাড়া পর্বতা ও মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর পার হতে লাগে আরো ঘণ্টাখানেক। গতকাল রবিবার এই একের পর এক যানজট ঠেলে শেষ গন্তব্য মিরপুর-১২ নম্বরে বাসটি পৌঁছয় বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে।

এই সময়ে যাত্রীদের হাঁসফাঁস দশা। প্রচণ্ড গরমে আটকে থেকে যাত্রীরা ঘামতে থাকে। কেউ কেউ পত্রিকা দিয়ে বাতাস করে গরম থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করে। আবুল হোসেন নামের একজন গুলিস্তান থেকে শাহবাগ যাওয়ার জন্য বাসে উঠেছিলেন। তিনি মৎস্য ভবনের পাশে গিয়ে নেমে পড়েন। হেঁটে চলে যাওয়ার আগে তিনি বলেন, ‘বইসা থাইকা লাভ নাই। এই বাস শাহবাগ যাইতে দুই ঘণ্টা লাগাইব।’

বাসটির হেলপার মোবারক জানান, অন্যান্য দিন গুলিস্তান থেকে মিরপুর-১২ পর্যন্ত পৌঁছতে ঘণ্টাখানেক বা সর্বোচ্চ দেড় ঘণ্টা লাগে। কিন্তু আজ (রবিবার) লাগল সাড়ে তিন ঘণ্টা। গতকাল রাজধানীজুড়ে যানজটের এমন চিত্রই দেখা গেছে।

মিরপুর-১২ নম্বরে বিকেলে কথা হয় খাজা পরিবহনের চালক খোকনের সঙ্গে। তিনি জানান, রবিবার দুপুর ১২টায় যাত্রাবাড়ী থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। মিরপুর-১২ নম্বরে পৌঁছতেই বাজে সাড়ে ৩টা। আগে তাঁরা দিনে চারটি ট্রিপ মারতে পারতেন। কয়েক দিন ধরে তীব্র যানজটের কারণে দুটির বেশি ট্রিপ মারা সম্ভব হচ্ছে না।

যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকা দিয়ে মতিঝিলের দিকে চলাচলকারী গাড়িগুলো রাজধানী মার্কেটের পাশ দিয়ে জয়কালী মন্দির হয়ে মতিঝিল এবং সেখান থেকে বঙ্গভবনের পাশ দিয়ে গুলিস্তানের দিকে যায়। জয়কালী মন্দির ও বঙ্গভবনের পেছনের রাস্তাটিতে খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় এখন সেখান দিয়ে গাড়ি চলছে খুব ধীরে। ফলে জয়কালী মন্দির থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত গতকাল দুপুরে যানজট দেখা গেছে।

রাজধানীতে ঘুরে দেখা গেছে, গতকাল তীব্র যানজট ছিল শাহবাগ, প্রেস ক্লাব, মতিঝিল, সায়েদাবাদ, ফার্মগেট, এলিফ্যান্ট রোড এলাকায়। এই এলাকাগুলোতে এত যানজট কেন—জানতে চাইলে ট্রাফিক দক্ষিণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মেহেদী হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেট্রো রেলের জন্য কাজ চলছে। এ কারণে ওয়াসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান রাস্তা কেটে নিচ দিয়ে পানির লাইন, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন লাইনের কাজ করছে। প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন, বারডেম হাসপাতালের সামনে রাস্তা কাটা হয়েছে। এখানে তিনটি লেনে গাড়ি চলাচল করত। রাস্তা কাটার কারণে এক লেনে চলতে হচ্ছে। ফলে তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে।’ তিনি যোগ করেন, ঈদের কেনাকাটার জন্য নিউ মার্কেটসহ আশপাশের মার্কেটগুলোতে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এ কারণেও যানজট তীব্র হচ্ছে।

 

 



মন্তব্য