kalerkantho


বাবার মতিঝিল তখনো দূর ছেলে পৌঁছে গেছে ভারত

আপেল মাহমুদ   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সকাল ঠিক ৯টায় উত্তরা হাউস বিল্ডিং বাসস্ট্যান্ড থেকে মতিঝিল যাওয়ার জন্য গাজীপুর পরিবহনে উঠি। আমার মতো আরো অনেকেই টঙ্গী কিংবা আবদুল্লাহপুর থেকে যাত্রী হয়েছেন। রাস্তাজুড়ে পিঁপড়ার মতো সারি সারি গাড়ি। বিমানবন্দর পর্যন্ত দুই কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে আধাঘণ্টার মতো সময় লেগেছে। কিছুটা পথ চলার পর নিকুঞ্জের লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে কুর্মিটোলা র‌্যাডিসন হোটেল পর্যন্ত যাওয়ার পর লম্বা যানজটে বাস আটকে যায়। বনানীর কাকলি মোড় যখন গাড়ি পৌঁছে তখন সকাল সাড়ে ১০টা। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঘামতে ঘামতে কয়েকজন যাত্রী চালকের ওপর ক্ষেপে গিয়ে বলল, ‘ভাই একটু এদিক-ওদিক কেটে যান না। এভাবে আটকে থাকলে তো গাড়ির মধ্যেই আমাদের অফিস করতে হবে।’

মতিঝিল যেতে কত সময় লাগবে, এ প্রশ্ন করলেন একজন যাত্রী। ১১টার মধ্যে মতিঝিলের এক ব্যাংকে যেতে না পারলে তাঁর ব্যাবসায়িক সমূহ ক্ষতি হয়ে যাবে। কিন্তু মহাখালী ফ্লাইওভারের গোড়ায়ই সাড়ে ১০টা বেজে গেছে। পাশে থাকা আরেক যাত্রী বললেন, ঢাকায় সেটা কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারে না। পথে নামলে সব কিছুতে ‘এলাহি ভরসা’। শুনে আরেকজন যাত্রী হাঁফ ছেড়ে বললেন, ‘ভাই ঢাকার বিখ্যাত জ্যামে আটকে পড়ে জীবনের ২৫ ভাগ সময় অপচয় করে ফেললাম। উত্তরা থেকে মতিঝিলের ১৫ কিলোমিটার দূরত্ব আধাঘণ্টায় পার হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে ব্যয় হচ্ছে তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টা।’

বাসটি মহাখালী ফ্লাইওভার পেরিয়ে জাহাঙ্গীর গেটের আগে আটকে গেল। এভাবে ফার্মগেট পর্যন্ত হেঁটে হেঁটে রাস্তার যানবাহন চলতে থাকে। পাশের সিটে বসা সিঅ্যান্ডএফ কর্মচারী বাতেনের মোবাইল ফোনে অফিস বসের একটার পর একটা রিং আসতে থাকে। অপর প্রান্ত থেকে জানতে চাওয়া হচ্ছে, তাঁর গাড়ি এখন কোথায়, আসতে এত দেরি হচ্ছে কেন? প্রচণ্ড গরমে ঘামসিক্ত শরীরে বিরক্ত হয়ে বাতেন তাঁর বসকে ক্ষোভ জানালেন এভাবে, ‘রাস্তায় যানজট লেগে আছে, এখন আমি কী করব? অসংখ্য গাড়ি একই জায়গায় আটকে আছে। গাড়ি কোনো দিকেই নড়ছে না। হেলিকপ্টার ভাড়া করা ছাড়া ঠিকমতো অফিসে আসা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।’

প্রতিবেদক বাস থেকে নেমে হেঁটে কারওয়ান বাজার থেকে শাহবাগ পৌঁছান ১৫ মিনিটে। বাস এলো আরো পরে, আধাঘণ্টার বেশি সময় ব্যয় করে। প্রেস ক্লাব থেকে পল্টন মোড় দিয়ে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে বাসটি যখন পৌঁছল তখন ঘড়িতে বাজে দুপুর ১২টা। সাড়ে তিন ঘণ্টার এ জার্নি শেষ হওয়ার পর অনেকেই দ্রুত কর্মস্থলের দিকে দৌড়াতে থাকেন।

বাস থেকে নেমে সহযাত্রী সাইদুর রহমান বলেন, তিনি উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে থাকেন। মতিঝিলে একটি বেসরকারি কম্পানির ব্যবস্থাপক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে কলকাতা যাওয়ার জন্য একই সঙ্গে উত্তরার বাসা থেকে বের হয়েছি। আমি যখন মহাখালী লম্বা যানজটে আটকে ছিলাম তখন আমার ছেলে ফোন করে জানায়, সে কলকাতা পৌঁছে হোটেলে গিয়ে রেস্ট নিচ্ছে। অথচ আমার গাড়ি তখনো মতিঝিল পৌঁছেনি।’



মন্তব্য