kalerkantho


প্রেস ক্লাব থেকে উত্তরা যেতে সোয়া চার ঘণ্টা

রেজাউল করিম   

১১ জুন, ২০১৮ ০০:০০



দুপুর পৌনে ১টা। জাতীয় প্রেস ক্লাব। গাজীপুরের দিকে যাচ্ছে বিআরটিসির (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা) একটি দোতলা বাস। জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনের কদম ফোয়ারা অতিক্রম করে মৎস্য ভবন বা সুপ্রিম কোর্টের উত্তর প্রান্তের ফটকের কাছে পৌঁছতে লেগে গেল ১৫ মিনিটের মতো। এরপর চাকা অনড়; প্রায় আধাঘণ্টা ধরে এই অবস্থা।

দোতলা বাসটিতে যাত্রী কানায় কানায় পূর্ণ। অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ আর ভাপসা গরমে অতিষ্ঠ সবাই। বিরক্তি নিয়ে অপেক্ষা করছে, কখন নড়বে গাড়ি।

এর মধ্যেই কথা হয় বাসের ভাড়া আদায়কারী তারাজুল ইসলামের সঙ্গে। খুব বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘মামা শোনেন, এই দেশে কোনো আইন-কানুন আছে বইলা আমার মনে হয় না। দেখেন না, রাস্তায় গণপরিবহনের চেয়ে প্রাইভেট কারের চাপ বেশি। এ নিয়ে কেউ কিছু কয় না। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যামের সব দোষ পড়ে বড় গাড়ির ঘাড়ে, আর এই জ্যামের ভোগান্তিও সইতে হয় সাধারণ যাত্রীদের।’

তারাজুল এবার একটু খেপে গিয়েই বললেন, ‘দেখেন না, প্রাইভেট কারগুলো কোনো লেনটেন কিছুই মানছে না। যেদিকে ইচ্ছা ঢুকাইয়া দিচ্ছে।’

কথা বলতে বলতে বাস এসে যায় শিশু পার্কের সামনে। এখানে সিগন্যালে বসে থাকতে হলো আরো আধাঘণ্টা। সিগন্যাল পার হয়ে শাহবাগ মোড়ে পৌঁছতে লেগে গেল আরো ১৫ মিনিট। এখানে পড়তে হলো আরো দীর্ঘ জটের কবলে। তখন ঘড়ির কাঁটায় দুপুর ২টা। শাহবাগ থেকে ‘শেরাটন মোড়’ পর্যন্ত এলামোলোভাবে গাড়ি আটকে আছে।

প্রায় আধাঘণ্টা স্থবির থাকার পর গাড়ির সারি আবার ফার্মগেটমুখী চলতে শুরু করল। এবার একটানে বাংলামোটর মোড় অতিক্রম করা গেল। কিন্তু আটকা পড়তে হলো সার্ক ফোয়ারা সিগন্যালে। বাংলামোটর থেকে কারওয়ান বাজার পৌঁছতে লেগে গেল আরো আধাঘণ্টা। এর মধ্যে গাড়িতে কথা হয় অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা আহসান হাবীবের সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে কেনাকাটা করতে বের হওয়া মানুষের ভিড়। এ ছাড়া আছে ঘরমুখী মানুষের চাপ। এতে যানজট বেড়ে গেছে। তা ছাড়া দেখেন না, ট্রাফিক পুলিশরাও দায়িত্ব পালন করছে গাছাড়া ভাব নিয়ে। আবার গাড়িগুলোও কোনো ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করছে না। সিগন্যাল দেওয়ার পরও না থেমে পার হওয়ার চেষ্টা করছে।

কারওয়ান বাজার থেকে ফার্মগেট পৌঁছতে লেগে গেল আধাঘণ্টা। ফার্মগেটে বাস থামানোর নির্দিষ্ট স্থানে বাসগুলো থামছে না। আবার মানিক মিয়া এভিনিউ ও গাবতলীর দিকে যে গাড়িগুলো যাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই ইচ্ছামতো ঘুরিয়ে ওই দিকে যাচ্ছে। আবার খামারবাড়ি এলাকা দিয়ে যে গাড়িগুলো ফার্মগেট সিগন্যালে আসছে, তাদের অনেকেই সিগন্যাল অমান্য করায় ফার্মগেটে তীব্র যানজট লেগে যায়। তা ছাড়া বিকেল ৩টার দিকে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় রাস্তায় উল্টে যায় একটি অটোরিকশা। এতে ফার্মগেট থেকে বিজয় সরণি পর্যন্ত অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি হয়।

বিকেল সাড়ে ৩টা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে থেকে মহাখালী ফ্লাইওভারের শেষ মাথা পর্যন্ত গাড়ির চাকা ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু উল্টো পাশের লেনে ছিল ভয়াবহ চিত্র। অতিরিক্ত গাড়ি আর সেনানিবাস এলাকায় গাড়ি প্রবেশ ও বের হওয়ায় বনানী চেয়ারম্যানবাড়ি থেকে সৈনিক ক্লাব পর্যন্ত যানজট ছিল। তবে এই যানজট বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না বলে জানালেন পানি বিক্রেতা পলাশ মিয়া। এ ছাড়া মহাখালী আন্ত জেলা বাস টার্মিনাল থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলগামী বাসের চাপও ছিল অনেক বেশি।

বনানী থেকে যখন উত্তরা-৪ নম্বর সেক্টরে পৌঁছল বিআরটিসির বাসটি তখন বিকেল ৫টা বেজে গেছে।

 



মন্তব্য