kalerkantho

পানির জন্য হাহাকার!

জহিরুল ইসলাম   

১৬ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



পানির জন্য হাহাকার!

ইব্রাহিমপুর বাজার থেকে ১০০ গজ দূরে উত্তর কাফরুল পানির পাম্প-১ বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১৬ নম্বর ওয়ার্ডটিতে পানির জন্য হাহাকার যেন কাটছেই না। কাফরুল থানার অন্তর্ভুক্ত এ ওয়ার্ডটির সাধারণ মানুষের পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। গভীর রাতে আসা ওয়াসার পানির জন্য একরকম যুদ্ধেই মেতে উঠতে হয় এলাকাবাসীকে। এ ছাড়া গ্যাস সংকট, খেলার মাঠ না থাকাসহ অন্যান্য সমস্যা তো রয়েছেই।

এলাকাবাসী বলেছে, ‘আমরা রাজধানীতে বসবাস করছি না অন্য কোথাও—বোঝা মুশকিল! নাগরিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাগুলো থেকে আমরা বঞ্চিত। এই এলাকায় পানির সমস্যা ভয়াবহ। রাত ২টা বাজে যদি পানি আসে তাহলে আমরা ঘুমাব কখন? তার পরও এভাবেই চলছে। কর্তৃপক্ষ এসব দেখেও দেখে না!

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা উত্তরের এই ওয়ার্ডটিতে কাফরুল, ইব্রাহিমপুর, শেওড়াপাড়া, পূর্ব শেওড়াপাড়া এলাকা পড়েছে। এখানে প্রায় তিন লাখ মানুষের বসবাস। পানির সমস্যার পাশাপাশি নেই খেলার মাঠ, বিনোদন ব্যবস্থা, গ্যাস সংকট ও বেহাল রাস্তাঘাট। এলাকায় ১২টি পানির পাম্প থাকলেও পানি সমস্যার অন্ত নেই। পাম্পই আছে নেই শুধু পানি। ইব্রাহিমপুর বাজার থেকে ১০০ গজ দূরে উত্তর কাফরুল পানির পাম্প-১ বন্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওয়াসার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘পানির লেয়ার অতিরিক্ত নিচে নেমে যাওয়ার কারণে এই পাম্পটি বন্ধ করা হয়েছে। এখানে আর নতুন কোনো পাম্প বসানো হবে না।’ তবে পাম্পের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে, এই পাম্পটি থাকা অবস্থায় পানি কম এলেও কিছুটা হলেও পাওয়া যেত। আর এখন রাত ২টা পর্যন্ত বসে থেকেও পানি পাওয়া যায় না। এই ওয়ার্ডের সবচেয়ে বেশি পানির সমস্যা ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকায়। এখানে ‘চাচার চায়ের দোকান’-এর দোকানি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘পানির সমস্যা আগেও আছিল, তয় এত সমস্যা আছিল না। এহন তো পানি আয়েই না। পানি না আইলে দোহানদারি কেমনে করমু! মালিকগো কি এত কিছুর দরকার আছে? খালি ভাড়া পাইলেই হইছে।’

জানা যায়, এই এলাকার বাসাবাড়ির নিচে তৈরি করা ট্যাংকিতে পানি আসে না। বরং লাইন থেকে আলাদা মোটর দিয়ে পানি তুলতে হয় দুই ধাপে। কেউ কেউ পানি না পেলে পাশের বাড়িতে পানির লাইন দিয়ে কোনোমতে চলার পানি সংগ্রহ করে। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সরু সরু প্লাস্টিকের একাধিক পাইপ এই বাসা থেকে ওই বাসায় টানা। পানি সমস্যায় এলাকার মসজিদগুলোতে প্রতিদিনই আসে পরিচিত এক ঘোষণা। ‘মসজিদের ট্যাপে আজ পানি নেই! আপনারা বাইরে থেকে অজু করে আসবেন।’ ইব্রাহিমপুর জামে মসজিদের এক মুসল্লি বলেন, ‘বাসায় পানি থাকে না। মসজিদেও পানি থাকে না। ঠিকমতো গোসল পর্যন্ত করতে পারি না। এভাবেই চলছে! আমাদের আর কিসের পবিত্রতা আর অপবিত্রতা।’ কেউ কেউ বলছে, যাদের টাকা আছে তারা পানি খেতে পারলেও বিপাকে আছে ইব্রাহিমপুর বাজারের পাশে ছোট ছোট টিনশেট ঘরে থাকা হাজারও মানুষ। তারা বলছে, ‘স্বল্প আয়ের মানুষ আমরা। মাসভর পানি কিনে চলতে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর ঠিকমতো গ্যাসও পাওয়া যায় না।

এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর ওয়াসার মড্স জোন ১০-এর প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে এ ব্যাপারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পানির সমস্যা সমাধানের জন্য সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসা চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে অনেক এলাকায় পানির লেয়ার নিচে নেমে গেছে, ফলে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। আনন্দ বাজার রোড, বউ বাজার রোডসহ কয়েকটি এলাকার পানির অবস্থা খুবই খারাপ। মানুষ পানি পায় দুবারে বড়জোর ঘণ্টা চারেক। এতে চাহিদার তুলনায় খুবই কম পানি পাওয়া যায়। এলাকার এসব সমস্যা সমাধানে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করছি।’

মন্তব্য