kalerkantho

যুদ্ধস্মৃতির ছোঁয়া নিয়ে অদম্য যাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যুদ্ধস্মৃতির ছোঁয়া নিয়ে অদম্য যাত্রা

মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পথে চলছে একদল অভিযাত্রীর অদম্য পদযাত্রা। সঙ্গী ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ স্মরণে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের পথে চলছে একদল অভিযাত্রীর অদম্য পদযাত্রা। ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন বধ্যভূমি ও স্মৃতিপীঠ ঘুরে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সন্ধ্যায় তারা পৌঁছায় সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সহযোগিতায় গতকাল মঙ্গলবার ভোরে শুরু হওয়া এই পদযাত্রায় অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। ‘শোক থেকে শক্তি’র মন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে গতকাল ভোর ৬টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত গেয়ে পদযাত্রা শুরু করে তারা। তাদের সঙ্গী হন জনপ্রিয় লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, পাখি বিশারদ ইনাম আল হক, এভারেস্টজয়ী এম এ মুহিত প্রমুখ। পথে যোগ দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারা যাকের, বীর-উত্তম কমল সিদ্দিকীসহ অনেকে।

পদযাত্রা শুরুর আগে অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, ‘৪৮ বছর শেষে ৪৯ বছরে পদার্পণ করেছে আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশ। কিন্তু যে আত্মত্যাগ ও স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল তা এখনো পুরোপুরিভাবে সফল হতে পারেনি। এখন আমাদের সব ভেদাভেদ ভুলে পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে।’

অভিযাত্রীদল প্রথমেই যায় ২৫ মার্চ কালরাতের ভয়াল স্মৃতিবিজড়িত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল বধ্যভূমিতে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভিসি চত্বরের স্মৃতি চিরন্তনের পাশ দিয়ে সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের সামনে দিয়ে নিউ মার্কেট এলাকা হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিময় আবাস ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়ক হয়ে আসাদ গেটের দিকে যায় তারা। পরে অভিযাত্রীদলটি আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে গিয়ে বিরতি নেয়। সেখান থেকে সকাল ৯টার পর জল্লাদখানা বধ্যভূমি, তারপর তুরাগ পেরিয়ে সাদুল্ল্যাপুরের শতবর্ষী বটমূলে পৌঁছায়। পথে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পৌঁছায় অভিযাত্রীরা।

মফিদুল হক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা আত্মোৎসর্গ করেছেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোর জন্য এই পদযাত্রা। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বীজ বপন করে দেওয়ার জন্য এই আয়োজন। পর্বতারোহীদের সংগঠন ‘অভিযাত্রী’ ২০১৩ সাল থেকে এই পদযাত্রার আয়োজন করে আসছে। ২০১৬ সালে এর সঙ্গে যুক্ত হয় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।”

মন্তব্য