kalerkantho

যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর নিকোল

বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার বিশ্বে নজির সৃষ্টি করেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যে বিচার সম্পন্ন হয়েছে তা বিশ্বের অন্যান্য দেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রসিকিউটর নিকোল ইয়ানিসিভিৎস। তিনি বলেছেন, সারা বিশ্বে মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য প্রতিটি গণহত্যার বিচার হওয়া দরকার। অন্যথায় বিশ্বশান্তি বাধাগ্রস্ত হবে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও স্বাধীনতা উৎসবের পঞ্চম দিনে গতকাল সোমবার অভিজ্ঞতা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নিকোল ইয়ানিসিভিৎস এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক। এতে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও অংশ নেয়।

যুগোস্লাভিয়া যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে নিকোল বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৯২ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ায় যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিশেষ কমিশন গঠন করে। ওই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৯৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী ১৯৯৩ সালের ২৫ মে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ফরমার যুগোস্লাভিয়া (আইসিটিওয়াই) গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সরাসরি জাতিসংঘের মাধ্যমে এ ধরনের ট্রাইব্যুনাল গঠন এটিই প্রথম।

সাবেক এই প্রসিকিউটর বলেন, ১১ সদস্যবিশিষ্ট ট্রাইব্যুনাল ১৯৯৩ সালের ১৭ নভেম্বর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে যাত্রা শুরু করে। বসনিয়ার সার্ব নেতা ও সামরিক কমান্ডারদের এই আদালতে অভিযুক্ত করা হয়। সাবেক যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট স্লোবোদান মিলোসেভিচের বিরুদ্ধে তাঁর শাসনামলে মুসলিমদের ওপর চালানো গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের দায়ে ২০০১ সালের ৩ জুলাই অভিযোগ উত্থাপিত হয়। ২০০২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মূল বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। এই ট্রাইব্যুনালের অধীনে এ পর্যন্ত ১৬১ জন পলাতককে গ্রেপ্তারের পর বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।

ওই ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন নিকোল। তিনি বলেন, বিশ্বে শান্তি নিশ্চিত ও মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য প্রতিটি গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া শান্তির পথে বাধা আসবে।

প্রধান অতিথির অভিজ্ঞতা বর্ণনা শেষে অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করে স্রোত আবৃত্তি সংসদ। গান পরিবেশন করেন রোকাইয়া হাসিন লিলি। দলীয় সংগীত পরিবেশন করে ছায়ানটের শিল্পীরা।

মন্তব্য