kalerkantho

তুরাগতীরে বিআইডাব্লিউটিএর উচ্ছেদ অভিযান

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মামলা নদীখেকোদের বিরুদ্ধে

মাসুদুল আলম তুষার   

২৬ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, মামলা নদীখেকোদের বিরুদ্ধে

ভেঙে ফেলা হচ্ছে তুরাগতীরের অবৈধ স্থাপনা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইচ্ছামতো ভরাট করে নদী দখল, সীমানা পিলার স্থানান্তরসহ নানা অপরাধে যুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হচ্ছে। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডাব্লিউটিএ) উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি এবার আইনি কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে মামলা হয়েছে কামরাঙ্গীর চরের হাজি মাহবুব, সাভার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম শান্তসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি নদী খননের কাজ চলছে। সার্বিক প্রচেষ্টায় নদীর প্রবাহ সচল করার এ চেষ্টা চলবে অবিরাম। গতকাল সোমবার তুরাগতীরবর্তী মিরপুর ছোট দিয়াবাড়ী ও সাভার কাউন্দিয়া এলাকার অর্ধশতাধিক স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবমুক্ত করা হয়েছে এক একর জমি।

বিআইডাব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন বলেন, ‘বুড়িগঙ্গা ও তুরাগের বিস্তীর্ণ এলাকা ভরাট করে নদী সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। নদীতীর দখলে লিপ্ত প্রভাবশালীরা কোথাও কোথাও ভরাট করে স্থাপনা তৈরি করেছে। তারা অনেক স্থানে সীমানা পিলারও স্থানান্তর করেছে। অভিযান চলাকালে তারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। এসব ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মামলা করা হয়েছে। পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করেছে। উচ্ছেদকালে অনেকে জাল কাগজপত্র দেখিয়ে স্থাপনা রক্ষার চেষ্টা করছেন। তবে কোনো ধরনের প্রভাবে অভিযান থামানো হবে না। বুধবার ফের অভিযান হবে মিরপুর সিন্নিরটেক ও কাউন্দিয়া এলাকায়।’

গতকাল ছিল উচ্ছেদ অভিযানের ২২তম দিন। দ্বিতীয় পর্বে তৃতীয় পর্যায়ের এ অভিযানে তুরাগের তীরে ৫৬ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। দিনভর অভিযানের পর রাতেও বিআইডাব্লিউটিএ তুরাগে ড্রেজিংসহ আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড চালায়। উচ্ছেদ অভিযানকালে গতকাল ভাঙা হয়েছে একটি চারতলা ভবন, চারটি তিনতলা, সাতটি দোতলা ও ১৩টি একতলা ভবন। এ ছাড়া আধাপাকা আটটি স্থাপনা ও ২৩টি টিনের ঘর ভাঙা হয়। অবৈধ মালপত্র বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মৃতপ্রায় তুরাগ নদের মিরপুর বেড়িবাঁধসংলগ্ন দিয়াবাড়ী ও সাভার কাউন্দিয়া এলাকায় দখলি স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে প্রচুর অবৈধ স্থাপনা। বাড়িঘর তুলে, গাছপালা লাগিয়ে দাবি করা হচ্ছে মালিকানা। বহুমুখী সমবায় সমিতির নামে ঘর তুলে বাজার বসানো হয়েছে। এসব স্থাপনা প্রভাবশালীরা ভাড়া দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে আসছিল। অভিযানের মুখে তারা এখন পলাতক। ভাড়াটিয়ারা মালপত্র নিয়ে সটকে পড়ছে। এর পরও গতকাল উচ্ছেদকালে বেশ কয়েকজন কাগজপত্র নিয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করেন। তাতে উচ্ছেদকাজে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। জটিলতা এড়াতে গতকাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন উচ্ছেদ কার্যক্রমে।

সকাল ৯টার কিছু পর থেকে তুরাগ তীরে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে বিআইডাব্লিউটিএ। বুলডোজার ও ক্রেন নিয়ে ঘুরে ঘুরে দিনভর চলে কার্যক্রম। ক্রেন দিয়ে স্থাপনা ভেঙে ও মালামাল সরিয়ে অগ্রসর হতে থাকেন উচ্ছেন অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় দুপুরের প্রখর রোদ উপেক্ষা করে নদীতীরে উত্সুক জনতার ভিড় দেখতে পাওয়া যায়। পাশের বাজার থেকে কিছু ব্যবসায়ী এসে কথা বলেন অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে। তাঁরা দখলে যুক্ত নন, তবে রাজনীতিসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের কাছে থেকে ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন বলে জানান।

এখন এসব দখলদার মোবাইল ফোনে কল রিসিভ করছেন না। এ অবস্থায় মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য সময় চান কয়েকজন। তুরাগের প্রবাহ সচল করাসহ নদীতীরের সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার জন্য উচ্ছেদ কার্যক্রমের এ প্রচেষ্টাকে উপস্থিত অধিকাংশ ব্যক্তি সাধুবাদ জানান।

মন্তব্য