kalerkantho

জরিপে নতুন তথ্য

একাত্তরে আরো ১০ জেলায় ৪১৮০টি গণহত্যা

শহীদের সংখ্যাও হয়তো ৩০ লাখে সীমাবদ্ধ থাকবে না!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সারা দেশে পাকিস্তানি বাহিনীর সংঘটিত গণহত্যার আরো নতুন তথ্য উঠে এসেছে ১৯৭১ গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের জরিপে। গাইবান্ধা, জামালপুর, নড়াইল, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার ও বরিশাল জেলায় চার হাজার ১৮০টি গণহত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে।

গতকাল শুক্রবার বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রাহমান মিলনায়তনে ‘গণহত্যা-বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক সেমিনারে জরিপের এই তথ্য তুলে ধরেন ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক

মুনতাসীর মামুন। তিনি বলেন, ‘১০ জেলায় এই জরিপ করতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে আমরা বড়ই কম জানি। আমাদের মাথায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে বিজয়। খালি বিজয় দেখলে মুক্তিযুদ্ধের যে নিদারুণ যন্ত্রণা, সেটা কিন্তু আমরা পাব না।’

এর আগে গত বছরের মার্চে অন্য ১০টি জেলার জরিপের ফল প্রকাশ করেছিল ট্রাস্ট। তখন জানানো হয়েছিল যে জরিপে নীলফামারী, বগুড়া, নাটোর, কুড়িগ্রাম, পাবনা, রাজশাহী, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা ও খুলনা জেলায় মোট এক হাজার ৭৫২টি গণহত্যার ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। মুনতাসীর মামুন সে সময় বলেছিলেন, বিভিন্ন বইয়ে সারা দেশে গণহত্যার সর্বোচ্চ সংখ্যা পাওয়া যায় ৯০৫। কিন্তু জরিপে ১০ জেলার যে তথ্য তাঁরা পেয়েছেন, তাতে ৬৪ জেলায় এই সংখ্যা দাঁড়াবে ধারণার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। সে ক্ষেত্রে শহীদের সংখ্যাও হয়তো ৩০ লাখে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এবারের জরিপের তথ্য তুলে ধরে মুনতাসীর মামুন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ একটি রাজনৈতিক ব্যাপার। সেই রাজনৈতিক সত্যটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি। আজকে গণহত্যার দিনটি জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করছি। এখন সবাই গণহত্যার কথা মনে রাখতে পারছে।’

স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশকের মাথায় ‘১৯৭১ : গণহত্যা-নির্যাতন আর্কাইভ ও জাদুঘর ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রকল্প ‘গণহত্যা-নির্যাতন ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র’ সারা দেশে জেলাভিত্তিক এই জরিপ পরিচালনা করছে।

গত বছরের মতো এবারও ১০ জেলার জরিপের ফল নিয়ে ‘গণহত্যা-বধ্যভূমি ও গণকবর জরিপ’ নামে ১০টি বই প্রকাশ করা হয়েছে এই প্রকল্প থেকে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল। এ সময় তিনি গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সবার জন্য উন্মুক্ত করতে www.genocidemuseumbd.org ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করেন।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন সেমিনারে বলেন, ‘গণহত্যার রাজনীতি আছে। একাত্তরে পাকিস্তান এই রাজনীতি করেছিল আমাদের দমন করার জন্য, চিরদিনের জন্য আমাদের কলোনি করে রাখার জন্য।’ ‘বিএনপি-জামায়াত চক্র’ গণহত্যা নিয়ে রাজনীতি করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও পরে তাঁর স্ত্রী খালেদা জিয়া, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একাত্তরের গণহত্যার বিষয়টিকে বিস্মৃত করে দিতে চেয়েছেন। গণহত্যার দায়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করলে দেশে জাতীয় ঐক্য ফিরে আসবে।’

মন্তব্য